প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, দুই ইঞ্জিনের ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ এক সেকেন্ডের ব্যবধানে ‘RUN’ থেকে ‘CUTOFF’ পজিশনে সরানো হয়েছিল।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 17 July 2025 13:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুজরাতের আমদাবাদে ঘটে যাওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা (Ahmedabad Plane Crash) নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এক মার্কিন সংবাদপত্রের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, দুর্ঘটনার ঠিক আগে ককপিট রেকর্ডিং থেকে ইঙ্গিত মিলেছে যে, মূল পাইলট নিজেই বিমানটির 'ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ' (Fuel Control Switch) বন্ধ করে দিয়েছিলেন এবং তিনি ঘটনায় 'শান্ত' ছিলেন। কো-পাইলট আতঙ্কিত হয়ে গেলেও তাঁর কোনও বিরূপ প্রতিক্রিয়া ছিল না! কীভাবে শান্ত ছিলেন তিনি, সেই প্রশ্নের উত্তরই খোঁজা হচ্ছে।
মার্কিন ওই রিপোর্টেই বলা হয়েছে, দুর্ঘটনায় নিহত দুই পাইলট ক্যাপ্টেন সুমিত সাবরওয়াল (Sumit Sabrewal) এবং ফার্স্ট অফিসার ক্লাইভ কুন্দার (Clive Kundar) — একে অপরের সঙ্গে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কথা বলেছিলেন। সেই কথোপকথনে উঠে আসে - একজন প্রশ্ন করেছিলেন, “কেন কেটে দিলে?” অন্যজন উত্তর দেন, “আমি করিনি!” এখানে ফুয়েল সুইচ বন্ধ করে দেওয়ার কথা হচ্ছে।
উড়ানের মাত্র ৩২ সেকেন্ডের মধ্যেই বিমানটি ভেঙে পড়েছিল। বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো (AAIB)-র প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, দুই ইঞ্জিনের ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ এক সেকেন্ডের ব্যবধানে ‘RUN’ থেকে ‘CUTOFF’ পজিশনে সরানো হয়েছিল। তবে এটি ইচ্ছাকৃত নাকি দুর্ঘটনাজনিত ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম বলেছে, তদন্তে যুক্ত বিশেষজ্ঞদের মতে ক্যাপ্টেনই সম্ভবত সুইচটি অফ করেছিলেন।
বিমানটিতে রক্ষণাবেক্ষণগত কোনও ত্রুটি ছিল না বলেও প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে জানানো হয়েছে। তাহলে কী ভাবে জ্বালানির সুইচ বন্ধ হয়ে গেল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা বহাল। এদিকে পাইলটদের ককপিটের কথোপকথনের রিপোর্ট আসার পর ৫৬ বছরের অভিজ্ঞ ক্যাপ্টেন সুমিতের আচরণ নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। দাবি করা হচ্ছে, জ্বালানির সুইচ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরেও তিনি 'শান্ত' ছিলেন! যদিও গলার স্বর সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত নন তদন্তকারীরা।
এদিকে, এই প্রাথমিক রিপোর্ট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান পাইলটস (FIP)। পাইলটদের (Pilots) সংগঠনের অভিযোগ, তদন্তে পাইলটদের কোনও প্রতিনিধি রাখাই হয়নি। তার ওপর প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে পাইলটদের ভুল ধরে নেওয়াটা ‘অসম্পূর্ণ ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সম্পূর্ণ, স্বচ্ছ এবং তথ্যভিত্তিক তদন্তের আগে পাইলটদের ওপর দোষ চাপানো অনুচিত। এর ফলে শুধু দক্ষ পাইলটদের পেশাদারিত্ব প্রশ্নের মুখে পড়ে না, তাদের পরিবার ও সহকর্মীরাও অযথা মানসিক চাপে পড়েন।” এফআইপি-র দাবি, “রিপোর্টটি সম্পূর্ণ নয়। কিছু নির্বাচিত ককপিট ভয়েস রেকর্ডিংয়ের ব্যাখ্যা দিয়ে পাইলটদের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, অথচ পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেওয়া হয়নি।”