তামিলনাড়ু নির্বাচনের আগে অভিনেতা বিজয়ের দল টিভিকে-র সঙ্গে জোট করতে মরিয়া এনডিএ। ৮০টি আসন ও উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পদের প্রস্তাব ঘিরে জোর জল্পনা।

বিজয় থালাপতি
শেষ আপডেট: 15 March 2026 12:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ বিকেলে ভোট ঘোষণা। পাঁচ রাজ্যের মধ্যে নাম রয়েছে তামিলনাড়ুরও। বাংলার সঙ্গে সেখানেও বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে এবার। ভাগ্য পরীক্ষা হতে চলেছে স্ট্যালিন-সহ একাধিক নেতার। নির্বাচনের আগে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয় থালাপতি (Vijay Thalapati)-র দল তামিলগা ভেত্রি কাজগমকে নিয়ে। শোনা যাচ্ছে অভিনেতার দলের সঙ্গে জোট নিয়ে শেষ পর্বের আলোচনায় পৌঁছেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (Bharatiya Janata Party বা BJP)। দলীয় সূত্রের দাবি, জোট জিতলে বিজয়কে উপমুখ্যমন্ত্রীর (Deputy Chief Minister) পদ দেওয়ার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
সম্ভাব্য আসন বণ্টনের (Seat-sharing) খসড়া অনুযায়ী বিজয়ের দলকে প্রায় ৮০টি আসন ছাড়তে রাজি হয়েছে বিজেপি। এই সমীকরণ বাস্তবায়িত হলে তামিলনাড়ুর নির্বাচনী অঙ্কে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। কারণ রাজ্যের বহু কেন্দ্রে খুব অল্প ভোটের ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়।
তবে আলোচনার অন্যতম বড় জট এখনও মুখ্যমন্ত্রীর (Chief Minister) পদ। সূত্রের দাবি, বিজয় এখনও মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনাকেই লক্ষ্য করে আলোচনা এগোচ্ছেন। ফলে জোটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও ঝুলে রয়েছে।
গত কয়েক মাস ধরে বিজয়কে এনডিএ (National Democratic Alliance বা NDA)-র ছাতার তলায় আনতে সক্রিয় হয়েছে বিজেপি। দলের একাধিক নেতা ও মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বিজয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলেছে বলে জানা যায়। সূত্রের দাবি, অন্য একটি রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী (Deputy Chief Minister) এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিচ্ছেন।
কেন বিজেপি এত উঠে পড়ে লেগেছে? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিজয়ের বিপুল ভক্তসমর্থনই এই আগ্রহের বড় কারণ। তামিলনাড়ুজুড়ে তাঁর বিশাল ফ্যানবেস (Fan base) রয়েছে। বিজেপির কৌশলবিদদের মতে, এই সমর্থনের সামান্য অংশও যদি ভোট বাক্সে প্রতিফলিত হয়, তবে নির্বাচনের ফলাফল বদলে যেতে পারে। দলের এক নেতার কথায়, “কোনও কোনও কেন্দ্রে মাত্র দুই শতাংশ ভোটও জয়ের দিক পাল্টে দিতে পারে।”
দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বিজেপির সঙ্গে কথাবার্তা বললেও বিজয়ের শিবিরে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। তাঁর ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের একাংশ মনে করছেন, খুব তাড়াতাড়ি কোনও বড় জাতীয় জোটে যোগ দিলে দলের নতুন রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
উল্লেখ্য, রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সময় বিজয় নিজেকে স্বতন্ত্র বিকল্প হিসেবেই তুলে ধরেছিলেন। সেই স্বাধীন ভাবমূর্তি বজায় রাখা নিয়েই এখন তাঁর শিবিরে আলোচনার ঝড়। ফলে বিজেপির প্রস্তাব সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেন অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়, তা নিয়েই এখন তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে তুমুল কৌতূহল।