ট্রাম্পের শুল্কের কোপ পড়তে চলেছে ভারতের একাধিক প্রধান রফতানি ক্ষেত্রের উপর। তালিকায় রয়েছে, গাড়ি, গাড়ির যন্ত্রাংশ, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, স্মার্টফোন, সৌরবিদ্যুৎ মডিউল, সামুদ্রিক খাদ্যপণ্য, রত্ন ও গয়না এবং কিছু প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও কৃষিপণ্য।

প্রধানমন্ত্রী (ফাইল ফোটো)
শেষ আপডেট: 30 July 2025 23:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমদানি শুল্ক নিয়ে ফের মুখোমুখি ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, আগামী ১ অগস্ট অর্থাৎ শুক্রবার থেকে ভারতের তরফে আমদানি হওয়া পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক বসবে। আর এই ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই কড়া সুরে জবাব দিয়েছে ভারত। সাফ জানিয়েছে, দেশের কৃষক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং শিল্পমহলের স্বার্থ রক্ষায় সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করবে। তবে এই টানাপড়েনের মধ্যেও ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী নয়াদিল্লি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ দিন বলেন, 'ভারত বন্ধু হলেও তারা বহুদিন ধরেই আমেরিকার সঙ্গে সীমিত বাণিজ্য করে আসছে। ওরা চড়া শুল্ক এবং নানা রকম অ-মূল্যভিত্তিক বাণিজ্য বাধা তৈরি করে রেখেছে। ভারত এখনও রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করছে। সেই কারণেই এই পদক্ষেপ।'
এর জবাবে ভারতের তরফে সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'ভারত ও আমেরিকা গত কয়েক মাস ধরে একটি ন্যায্য, ভারসাম্যপূর্ণ এবং পারস্পরিকভাবে লাভজনক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির উদ্দেশ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সেই লক্ষ্যেই আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।'
ভারতের দাবি, তারা বিদেশি বিনিয়োগের পথে বাজার খুললেও, দেশীয় শিল্প, কৃষক ও উদ্যোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষার দিকটিও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখে। সদ্য-সমাপ্ত যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সই হওয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (Free Trade Agreement) প্রসঙ্গ টেনে ভারত জানিয়েছে, 'যে কোনও বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রেই জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর। কৃষক, এমএসএমই এবং দেশীয় শিল্পের কল্যাণই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।'
ট্রাম্পের শুল্কের কোপ পড়তে চলেছে ভারতের একাধিক প্রধান রফতানি ক্ষেত্রের উপর। তালিকায় রয়েছে, গাড়ি, গাড়ির যন্ত্রাংশ, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, স্মার্টফোন, সৌরবিদ্যুৎ মডিউল, সামুদ্রিক খাদ্যপণ্য, রত্ন ও গয়না এবং কিছু প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও কৃষিপণ্য। তবে আশার কথা, ওষুধ, সেমিকন্ডাক্টর এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ এই শুল্কের আওতার বাইরে থাকছে।
বাণিজ্যিক মহলের মতে, এই শুল্কনীতি ভারতের পক্ষে নতুন দিশা খুলে দিতে পারে। একদিকে যেমন অন্য দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা যাবে, অন্যদিকে দেশে শিল্প সংস্কার এবং আত্মনির্ভরতার পথেও এগনো যাবে। তবে অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, ট্রাম্পের এই শুল্ক ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে বলবৎ থাকলে ভারতের জিডিপি ০.২% থেকে ০.৫% পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
প্রসঙ্গত, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম প্রেসিডেন্ট হওয়ার সময় থেকেই ভারতীয় শুল্ক কাঠামো নিয়ে সরব। একাধিকবার তিনি ভারতকে ‘শুল্কে বড়সড় অপব্যবহারকারী’ (very big abuser) বলেও কটাক্ষ করেছিলেন। বিশেষ করে কৃষি ও ডেয়ারি ক্ষেত্রে ভারত বাজার খুলতে রাজি না হওয়ায় সেই নিয়ে বিতর্ক বারবারই সামনে এসেছে। রাজনৈতিক কারণে কোনও ভারতীয় সরকারই এই খাতে ছাড় দিতে চায় না, এই বার্তাই বারবার দিয়েছে নয়াদিল্লি।
এই পরিস্থিতিতে আগামী দিনে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি কতটা এগোয়, বা নয়াদিল্লি কী ধরনের পাল্টা ব্যবস্থা নেয়, সেদিকে তাকিয়ে বাণিজ্য জগৎ।