Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তানসরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রী

মোদীর পাকিস্তান বিরোধী প্রচারে উধাও পদ্ম, ‘বিজেপিই দেশ’ প্রমাণে ব্যাকুল প্রধানমন্ত্রী?

পহলগাম কাণ্ডের পর সংসদীয় প্রতিনিধিদলকে বিভিন্ন দেশে পাঠানোর পাশাপাশি দেশজুড়ে পাকিস্তান-বিরোধী জনমত গড়ে তোলার ‘নব রথযাত্রা’ শুরু করেছেন দেশের ‘আলেকজান্ডার’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

মোদীর পাকিস্তান বিরোধী প্রচারে উধাও পদ্ম, ‘বিজেপিই দেশ’ প্রমাণে ব্যাকুল প্রধানমন্ত্রী?

হিন্দু সংখ্যালঘুদের মনে ভরসা জুগিয়ে দিলেন।

শেষ আপডেট: 29 May 2025 16:49

শুভেন্দু ঘোষ

পহলগাম কাণ্ডের পর সংসদীয় প্রতিনিধিদলকে বিভিন্ন দেশে পাঠানোর পাশাপাশি দেশজুড়ে পাকিস্তান-বিরোধী জনমত গড়ে তোলার নব রথযাত্রা শুরু করেছেন দেশের আলেকজান্ডার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন-শিলান্যাসের নামে এই পাকিস্তান-জয়ের রথ ছোটানো ভদোদরা থেকে শুরু করেন গুজরাতের ভূমিপুত্র। আর তাঁর এই পাকিস্তান ওরফে জঙ্গি বিরোধী প্রচারের কাজে ব্রাত্য হয়ে পড়েছে বিজেপির পদ্মফুল আঁকা পতাকা। ভদোদরা, দাহোদ, ভুজ, আমদাবাদ, গান্ধীনগরের পর সিকিম (আবহাওয়া খারাপের কারণে যাওয়া হয়নি), পশ্চিমবঙ্গ সফর শেষ করে ফেলেছেন মোদী। কিন্তু, কোনও অনুষ্ঠানেই এখনও পর্যন্ত দেখা মেলেনি পদ্ম নিশানের। সব জায়গাতেই অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে জনতার হাতে হাতে ঘুরেছে জাতীয় তেরঙা ঝান্ডা।

বৃহস্পতিবার সকালে আবহাওয়ার কারণে সিকিমে যাওয়া হয়নি প্রধানমন্ত্রীর। কিন্তু, রাজ্য হিসেবে সিকিমের ভারতে অন্তর্ভুক্তির ৫০ বছর বা স্বর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে গ্যাংটকে যাওয়ার কথা ছিল মোদীর। সেখানে স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হয়েছিল এক বিশাল জনসভার। সেই জনতাকে ভার্চুয়ালি ভাষণ দিলেও ছবিতে দেখা গিয়েছে, গোটা গ্যালারি জুড়ে তেরঙা ঝান্ডার লহর। একই দৃশ্যের দেখা মিলেছে আলিপুরদুয়ারের প্যারেড গ্রাউন্ডে দলের জনসভাতেও। মঞ্চের পিছনে দলের প্রতীকের দেখা মিললেও বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা।

মোদীর একের পর এক রাজ্য সফরের তালিকায় রয়েছে বিজেপি শাসিত বিহার ও উত্তরপ্রদেশ। সহজ যোগ-বিয়োগের অঙ্কই বলে দিচ্ছে, প্রথমে বিজেপি শাসিত গুজরাত, তারপর বিজেপি নিয়ন্ত্রিত রাজ্য সিকিমের উদ্দেশে ভার্চুয়াল ভাষণ। একটিমাত্র বিরোধী শাসিত রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে এই প্রচার সফরে বেরিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। অথচ, কোথাও আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় প্রচারের কাজে নয়, কিন্তু সরকারি প্রকল্প সূচনার পাশাপাশি রোড শো থেকে জনসভায় করেছেন। যার মূল নিশানা ছিল, পহলগাম জঙ্গি হানা, অপারেশন সিঁদুর, পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস, পাকিস্তানি এয়ারবেস ধ্বংস অর্থাৎ এককথায় পাকিস্তানকে কত বড় সবক শিখিয়েছেন তিনি একলাই, এটা ভারতবাসীর কাছে তুলে ধরা।

পশ্চিমবঙ্গেও আলিপুরদুয়ারে সভা করার কারণ হচ্ছে বাংলাদেশের চিকেন্স নেক বা মোরগ-কণ্ঠ হুঁশিয়ারির প্রচ্ছন্ন জবাব দেওয়া। বাংলাদেশের প্রায় কানের গোড়ায় দাঁড়িয়ে এদিনও পাকিস্তানকে কীভাবে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে এবং বাংলাদেশ যুদ্ধের সময় কীভাবে পর্যুদস্ত করা হয়েছে, তা শুনিয়ে তদারকি সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুসকে প্রচ্ছন্নে সাবধান করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী। এবং সেখানকার হিন্দু সংখ্যালঘুদের মনে ভরসা জুগিয়ে দিলেন।

আলিপুরদুয়ারের সভাতেও রাজ্য বিজেপির তাবড় নেতৃত্ব উপস্থিত থাকলেও সাদা চোখে বিজেপির পতাকা দেখা যায়নি। বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের হাতে দেওয়া হয়েছিল গুজরাতের মতোই জাতীয় পতাকা। আসলে বিজেপি অপারেশন সিঁদুরের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে গোটা দেশকে এই উগ্র দেশাত্মবোধ বা জাতীয়তাবাদী করে তোলার চেষ্টা করছে। যার প্রথম ও প্রধান হাল ধরেছেন স্বয়ং মোদী। অমিত শাহ, রাজনাথ সিং, এস জয়শঙ্কররা সেই প্রচার বাণিজ্যতরীর নাবিকের ভূমিকায় রয়েছেন।

কারণ, এই মুহূর্তে জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে অধিকাংশ বিরোধী দল শীতঘুমে রয়েছে। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, তৃণমূল কংগ্রেস, ডিএমকে, এনসিপি, এনসি, আপ, আরজেডি সব দলের থেকেই সংসদীয় দল ভারতের সমর্থনে পাকিস্তান বিরোধী প্রচার চালাতে বহুদেশীয় সফরে রয়েছে। এই অবস্থায় দেশে থাকা বিরোধী দলনেতারাও রাষ্ট্রের পাশে থাকার বার্তা দেওয়ায় বিজেপি চাইছে না, তাদের কৃতিত্ব তুলে ধরতে। তাই জাতীয়তাবাদী, দেশাত্মবোধ জাগিয়ে তুলতে পণ করেছে দল। কারণ, বিরোধী জোটের ঐক্যেও আপাতত চিড় ধরে রয়েছে। সকলেই ছন্নছাড়া হয়ে রয়েছে। পাকিস্তানের মতোই ঘরোয়া রাজনীতিতে বিজেপির একমাত্র লক্ষ্য কংগ্রেস। বাকি আঞ্চলিক দলগুলিকে কোনও না কোনওভাবে সামলে নেওয়া কঠিন কাজ নয়। সুতরাং, বিজেপির রাজনীতি আপাতত শিকেয় তুলে রেখে তেরঙা উঁচিয়ে গোটা দেশের মানুষকে বিজেপির ছদ্ম পতাকাতলে জমায়েত করাচ্ছে দল।

অনেকেই জানেন, বিজেপি সেই দল যারা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরদিন থেকে পরের ভোটের কাজ শুরু করে। বিশেষত বিজেপির ধর্মগুরু রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ তলায় তলায় এই কাজ সারা বছর চালিয়ে যায়। আর তাদেরই কলকাঠিতে কলের পুতুলের মতো নড়াচড়া করে বিজেপি। এ বিষয়ে মনে রাখতে হবে এ বছরেই নভেম্বর নাগাদ হতে চলেছে বিহার বিধানসভা নির্বাচন। এবং আগামী বছর হবে রাজ্যের ভোট। ফলে পাকিস্তানের নাক ভেঙে দেওয়ার গৌরব পকেটে পোরার এটাই আদর্শ সময়। বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা ফলাফল নির্ধারণ করে থাকে। আর সে কারণেই একটি শ্রেণির প্রতি অতি সূক্ষ্মভাবে গোপনে ঘৃণা, বিদ্বেষ, দেশদ্রোহী তকমা জুড়ে দেওয়া অন্যদিকে হিন্দু ভোটকে আরও সংগঠিত করার কৌশল নিয়েছে হিন্দুত্ববাদী সঙ্ঘ। সে কারণেই রাজ্যজয়ের এই অশ্বমেধের ঘোড়া নিয়ে দেশ সফরে বেরিয়ে পড়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী। ফলে বিজেপির পদ্ম পতাকাকে তোরঙ্গে তুলে রেখে জাতীয় পতাকা মেলে ধরে দেশবাসীর মনে একটাই প্রতীতি সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে, সেটা হল দেশই বিজেপি, বিজেপিই দেশ।


```