Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তান

Pulwama Attack: নৃশংস হামলার সাত বছর, শহিদ জওয়ানদের শ্রদ্ধা জানালেন মোদী-মমতা

২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়কে ৭৮টি গাড়ির বিশাল কনভয়ে প্রায় আড়াই হাজারের বেশি সিআরপিএফ কর্মী যাচ্ছিলেন। পুলওয়ামা জেলার লেথপোরা এলাকায় বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি কনভয়ের একটি বাসে সজোরে ধাক্কা মারে। বিস্ফোরণে ৪০ জন জওয়ান ঘটনাস্থলেই শহিদ হন, আহত হন আরও ৩৫ জনের বেশি, যাঁদের মধ্যে অনেকের আঘাত ছিল গুরুতর।

Pulwama Attack: নৃশংস হামলার সাত বছর, শহিদ জওয়ানদের শ্রদ্ধা জানালেন মোদী-মমতা

ফাইল ছবি

সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: 14 February 2026 10:19

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৪ ফেব্রুয়ারি। সাত বছর আগে এই দিনেই জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় (Pulwama Attack) প্রাণ হারিয়েছিলেন ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান (CRPF Jawans Death)। শনিবার সেই শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাল গোটা দেশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) ও উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণন (C. P. Radhakrishnan) পৃথক বার্তায় তাঁদের আত্মবলিদান স্মরণ করেন।

এক্স-এ পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ২০১৯ সালের এই দিনে পুলওয়ামায় যাঁরা দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন, তাঁদের সাহস ও কর্তব্যনিষ্ঠা জাতির চেতনায় চিরস্থায়ী হয়ে রয়েছে। প্রত্যেক ভারতীয় তাঁদের অদম্য সাহস থেকে শক্তি সঞ্চয় করেন।

অন্যদিকে উপরাষ্ট্রপতি জানান, সিআরপিএফ জওয়ানদের সর্বোচ্চ ত্যাগ দেশের স্মৃতিতে অমলিন থাকবে এবং শক্তিশালী ও নিরাপদ ভারত গড়ার অনুপ্রেরণা জোগাবে।

বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Abhisekh Banerjee) পুলওয়ামা নিয়ে পোস্ট করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।

২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়কে ৭৮টি গাড়ির বিশাল কনভয়ে প্রায় আড়াই হাজারের বেশি সিআরপিএফ কর্মী যাচ্ছিলেন। পুলওয়ামা জেলার লেথপোরা এলাকায় বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি কনভয়ের একটি বাসে সজোরে ধাক্কা মারে। বিস্ফোরণে ৪০ জন জওয়ান ঘটনাস্থলেই শহিদ হন, আহত হন আরও ৩৫ জনের বেশি, যাঁদের মধ্যে অনেকের আঘাত ছিল গুরুতর।

হামলার দায় স্বীকার করে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই মহম্মদ (Jaish-e-Mohammed)। আত্মঘাতী জঙ্গি আদিল আহমেদ দার এই নৃশংসতার সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। ঘটনার পর দেশজুড়ে শোক ও ক্ষোভের স্রোত বয়ে যায়। ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কও তীব্র উত্তেজনার মুখে পড়ে।

পুলওয়ামার পরপরই নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক স্তরে বড় পরিবর্তন দেখা যায়। ২৬ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় বায়ুসেনা পাকিস্তানের বালাকোটে জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবির লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায়, যা ‘বালাকোট এয়ারস্ট্রাইক’ নামে পরিচিত হয়। এই অভিযানের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়।

এ বার লেথপোরার সিআরপিএফ ক্যাম্পে শহিদদের স্মরণে বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ১৪ ফেব্রুয়ারি দিনটি ‘ব্ল্যাক ডে’ হিসেবেও পালন করা হয়, যাতে আত্মবলিদানকে সম্মান জানানো যায়। প্রতি বছর এই দিনেই দেশবাসী শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

হামলার পর জম্মু ও কাশ্মীরে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড়সড় বদল আনা হয়। গোয়েন্দা সমন্বয় জোরদার করা হয়, সংবেদনশীল এলাকায় বাহিনীর মোতায়েন বাড়ানো হয়। আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র, সুরক্ষা সরঞ্জাম ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট দিয়ে বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা হয়। সন্ত্রাসদমন কৌশল নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

শ্রীনগর-সহ বিভিন্ন ব্যস্ত এলাকায় তল্লাশি ও নজরদারি জোরদার করেছে পুলিশ। লালচকসহ শহরের বাণিজ্যকেন্দ্রে আকস্মিক তল্লাশি চালানো হয়েছে। বিভিন্ন হোটেলে কক্ষ পরীক্ষা এবং অতিথিদের সামগ্রী খতিয়ে দেখা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

পুলওয়ামা হামলা শুধু একটি সন্ত্রাসী আঘাত ছিল না; তা দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক নীতিতেও গভীর প্রভাব ফেলেছিল। সাত বছর পরও সেই স্মৃতি অম্লান। শহিদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করেই আজও দেশ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে।


```