অভিযুক্তরা ভুয়ো বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করেছে, অফিসের ভেতরেই অশালীন আচরণ করেছে এবং নারীদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কটূক্তি করেছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একাধিকবার এইচআর, ম্যানেজার বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
.jpg.webp)
নাসিকের সংস্থায় যৌন হেনস্থার অভিযোগ
শেষ আপডেট: 10 April 2026 13:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বছরের পর বছর ধরে নাসিকের এক বহুজাতিক সংস্থার অফিসে নারীদের উপর চলছিল নির্যাতন, অশালীন আচরণের মতো একাধিক ন্যাক্কারজনক ঘটনা (Nashik sexual harassment case)। পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল। আর এই অপরাধের পর্দাফাঁস করতে সাতজন মহিলা পুলিশ কর্মী ছদ্মবেশে সেখানে গিয়ে অভিযুক্তদের হাতেনাতে ধরেন (Nashik company scandal)। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর্দাফাঁস করতে এক অভিনব কৌশল নেয় তদন্তকারীরা। সাতজন মহিলা পুলিশ কর্মী ছদ্মবেশে ওই কোম্পানিতে ঢুকে একটি বৈঠকে অংশ নেন (undercover operation)। সেখানেই মূল অভিযুক্তদের একজনকে মহিলা কর্মীদের সঙ্গে অসভ্য আচরণ করতে দেখে তাঁকে হাতেনাতে ধরে ফেলা হয় বলে দাবি পুলিশের। বর্তমানে একাধিক প্রমাণ সংগ্রহের জন্য ৪০টিরও বেশি সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই মামলায় মোট ন'টি আলাদা এফআইআর (FIR) দায়ের হয়েছে। অভিযোগকারীরা মূলত ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণী কর্মী। অভিযোগে বলা হয়েছে, শুধু শারীরিক ও মানসিক হেনস্থাই নয়, অনেক ক্ষেত্রে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, জোর করে নামাজ পড়তে বাধ্য করা এবং ধর্ম পরিবর্তনের চেষ্টা করার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে।
পুলিশ জানতে পেরেছে, একাধিক ঘটনায় অভিযুক্তরা ভুয়ো বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করেছে, অফিসের ভেতরেই অশালীন আচরণ করেছে এবং নারীদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কটূক্তি করেছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একাধিকবার এইচআর, ম্যানেজার বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, বরং অভিযোগ চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
ঘটনাগুলিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে তদন্ত করা হচ্ছে। ২০২২ সাল থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনার মধ্যে রয়েছে, অফিসে মেয়েদের অশালীন ইঙ্গিত, শারীরিকভাবে হয়রানি, গোপনে অনুসরণ এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মতো অভিযোগ। কিছু অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করে পরিবেশকে ভীতিকর করে তোলার অভিযোগও রয়েছে।
এই ঘটনায় পাঁচজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বর্তমানে তাদের পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। একজন বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছে এবং আরেকজন ধৃত কর্মী, যিনি অভিযোগ অনুযায়ী যথাযথ পদক্ষেপ নেননি। আদালত অভিযুক্তদের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে।
পুরো ঘটনার তদন্তে সিট (SIT) গঠন করা হয়েছে। পুলিশ মনে করছে, এর পেছনে কোনও বড় চক্র বা সংগঠিত নেটওয়ার্ক থাকতে পারে, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সাধারণ মানুষ ও অন্যান্য নারী কর্মীদের অনুরোধ করেছে, যদি কেউ একই ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকেন, তাহলে ভয় না পেয়ে তারা যেন অভিযোগ জানান।