স্থানীয়রা তড়িঘড়ি জলে ঝাঁপ দিয়ে কোনওমতে একজনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু বাকি তিন কিশোরীকে আর ছোঁয়া যায়নি। চোখের নিমেষেই তারা জলের তলায় অদৃশ্য হয়ে যায়।

দুর্ঘটনার আগের মুহূর্তের ছবি
শেষ আপডেট: 10 April 2026 12:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আনন্দ-আহ্লাদ আর হইহুল্লোড় করে দিনটা কাটবে বলেই ঠিক হয়েছিল। কিন্তু কে জানত, সামান্য একটা সেলফি তোলার শখই চার বন্ধুর জীবনে এমন চরম বিপর্যয় ডেকে আনবে (Selfie accident)! চার বন্ধুর মধ্যে একজন কোনওক্রমে ফিরতে পারলেও, বাকি তিন কিশোরী তলিয়ে গেল পাহাড়ি জলপ্রপাতে (Andhra girls drown taking selfies waterfall)। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে অন্ধ্রপ্রদেশের আলুরি সীতারাম রাজু জেলার অনন্তগিরি হিলস সংলগ্ন মুলাগাম্মি জলপ্রপাতে (Mulagummi waterfall drowning accident)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হুকুমপেতা মন্ডলের জাম্বুভালাসা গ্রাম থেকে চার কিশোরী মিলে বৃহস্পতিবার ওই জলপ্রপাতের কাছে ঘুরতে গিয়েছিল। বিশাখাপত্তনম থেকে খুব বেশি দূরে না হওয়ায় এই জায়গাটি পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। জলপ্রপাতের সামনে পৌঁছে তারা আনন্দে মেতে ওঠে, যথারীতি শুরু হয় সেলফি তোলা। জলের তোড় বেশি ছিল। নদীর একদম ধারের একটি পিচ্ছিল পাথরে দাঁড়িয়ে সেলফি তোলার সময় আচমকা পা হড়কে চারজনেই গভীর জলে পড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, দুর্ঘটনার সময় যখন চারজনই জলে হাবুডুবু খাচ্ছিল, তখন পর্যটক আশেপাশের মানুষ তাদের চিৎকার শুনে ছুটে আসেন। পুলিশ এও জানিয়েছে, কিশোরীদের কেউই সাঁতার জানত না, ফলে জলের টানে তারা আরও গভীরে তলিয়ে যেতে থাকে।
স্থানীয়রা তড়িঘড়ি জলে ঝাঁপ দিয়ে কোনওমতে একজনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু বাকি তিন কিশোরীকে আর ছোঁয়া যায়নি। চোখের নিমেষেই তারা জলের তলায় অদৃশ্য হয়ে যায়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল। দীর্ঘ তল্লাশির পর ১৭ বছর বয়সি তৃষা এবং ১৬ বছরের রত্নাকুমারী ও পবিত্রার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ওই জলপ্রপাতটি দেখতে ছোট মনে হলেও সেখানকার মাটি এবং পাথর ভীষণই পিচ্ছিল এবং জলের স্রোত অনেক সময় ধারণার চেয়েও বেশি তীব্র থাকে। বিশেষ করে বর্ষাকালে বা পাহাড়ি এলাকায় জলের তলায় লুকানো চোরাবালি বা গর্তের গভীরতা বোঝা অসম্ভব। প্রশাসনের তরফে পর্যটকদের বারবার সতর্ক করা হয়েছে যাতে তারা জীবন বাজি রেখে এমন বিপজ্জনক জায়গায় সেলফি না তোলেন।