পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি (West Asia Conflict) বিশ্ব অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে! রাজ্যসভায় বললেন উদ্বিগ্ন প্রধানমন্ত্রী। তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাত কেবল জ্বালানি বাজারেই ঘাটতি তৈরি করেনি বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ, জাহাজ চলাচল, এমনকি কোটি কোটি ভারতীয়র নিরাপত্তাকেও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 24 March 2026 15:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি (West Asia Conflict) বিশ্ব অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে! রাজ্যসভায় (Rajya Sabha) বললেন উদ্বিগ্ন প্রধানমন্ত্রী। তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাত কেবল জ্বালানি বাজারেই ঘাটতি তৈরি করেনি বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ, জাহাজ চলাচল, এমনকি কোটি কোটি ভারতীয়র নিরাপত্তাকেও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতেই সকলকে একজোট হয়ে লড়াইয়ের বার্তা দিলেন নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)।
যুদ্ধের ধাক্কায় জ্বালানি ও বাণিজ্যপথ বিপর্যস্ত
সোমবার লোকসভায় যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ভাষণ দেন মোদী। মঙ্গলবার রাজ্যসভায় ভাষণে প্রধানমন্ত্রী জানান, যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির ঘাটতি (LPG-Oil Crisis) তৈরি হয়েছে। তার প্রভাব পড়েছে ভারতেও। তিনি বলেন, “এই যুদ্ধ বিশ্বে ভয়ানক জ্বালানি সঙ্কট তৈরি করেছে। এর প্রভাব ভারতের বাণিজ্য রুটেও (Trade Route) পড়েছে। এর ফলে পেট্রল, ডিজেল, গ্যাস, সার- এসবের নিয়মিত সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।”
তবে কেন্দ্রীয় সরকার পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের আশঙ্কা
রাজ্যসভায় আশঙ্কার কথাও শুনিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর মতে, 'এই সঙ্কট এত সহজে কাটবে না। এই যুদ্ধের প্রভাব দীর্ঘদিন থাকবে।' সরকার সতর্ক, দেশের স্বার্থরক্ষায় প্রতিটি সিদ্ধান্ত চিন্তাভাবনা করে নেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন মোদী।
কালোবাজারি রুখতে রাজ্যগুলিকে নির্দেশ
দেশে যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের ঘাটতি না হয়, সেই জন্য রাজ্য সরকারগুলিকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “অপরিহার্য পণ্যের মজুতদারি ও কালোবাজারি রুখতে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। গরিব, শ্রমিক ও অভিবাসী শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াতে হবে।” কোভিডের সময় 'টিম ইন্ডিয়া' যে ঐক্য দেখিয়েছিল, সেই মনোভাব নিয়েই বর্তমান সঙ্কট মোকাবিলার আহ্বান জানান তিনি।
হরমুজে আটকে বহু জাহাজ, উদ্বেগে ভারত
হরমুজ প্রণালিতে (Hormuz Pronali) বহু আন্তর্জাতিক জাহাজ এখনও আটকে রয়েছে, যেগুলোতে বহু ভারতীয় নাবিক আছেন। মোদী জানান, “এত বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত কূটনৈতিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যাতে দ্রুত পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং জাহাজ চলাচল শুরু হয়।"
গালফে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার
গালফে (Gulf) প্রায় ১ কোটি ভারতীয় (Indians) কাজ করেন। এই কঠিন সময়ে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ৩ লক্ষ ৭৫ হাজারেরও বেশি ভারতীয় দেশে ফিরেছেন। ইরান থেকেও ১ হাজার জনের বেশি নাগরিককে ফেরানো হয়েছে, যার মধ্যে ৭০০-র বেশি মেডিক্যাল পড়ুয়া।
শান্তি আনার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা
ভারত নিয়মিত ইরান (Iran), ইজরায়েল (Israel), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ আরব দুনিয়ার (Middle East) বহু দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। তিনি বলেন, "মানুষের জন্য যেকোনও হুমকি মানবতার বিরুদ্ধে। ভারত সবসময় শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে উদ্যোগী।”
জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বহুমুখী উদ্যোগ
জ্বালানির ঘাটতি (Fuel Crisis) মোকাবিলায় নানা দেশ থেকে গ্যাস ও ক্রুড অয়েল সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। গত ১১ বছরে ৫৩ লক্ষ মেট্রিক টন কৌশলগত তেলের মজুত তৈরি হয়েছে- এই তথ্যও দেন মোদী। আরও ৬৫ লক্ষ মেট্রিক টন সংরক্ষণ ক্ষমতা তৈরির কাজ চলছে। সঙ্গে রয়েছে ৭০,০০০ কোটি টাকার জাহাজ নির্মাণ প্রকল্প ও আত্মনির্ভরতার ওপর জোর।