ছেলের মৃত্যু যেন দুঃস্বপ্নের থেকেও ভয়াবহ, এমনই বলছেন রাজার মা উমা রঘুবংশী।

সোনম ও উমা রঘুবংশী
শেষ আপডেট: 10 June 2025 12:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র এক মাস আগেই ছেলের বিয়ে দিয়েছিলেন উমা রঘুবংশী। বিয়ের কিছুদিন পর ছেলে রাজা স্ত্রী সোনমকে নিয়ে মধুচন্দ্রিমার জন্য মেঘালয়ে রওনা দেন। এপর্যন্ত সব ঠিক ছিল। স্বভাবতই খুশি ছিল দুই পরিবার। কিন্তু ছেলে আর ঘরে ফেরেননি। আসেননি বৌমাও। মেঘালয়ের গিরিখাতে মেলে রাজার দেহ, আর সোনম, দিনের পর দিন নিখোঁজ থাকার পর হঠাৎ রবিবার আত্মসমর্পণ করেন উত্তরপ্রদেশের গাজিপুরে। বর্তমানে সোনম মেঘালয় পুলিশের ট্রানজিট হেফাজতে রয়েছেন এবং স্বামীর মৃত্যুর মূল সন্দেহভাজন হিসেবে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ছেলের মৃত্যু যেন দুঃস্বপ্নের থেকেও ভয়াবহ, এমনই বলছেন রাজার মা উমা রঘুবংশী। তাঁর কথায়, 'রাজা ওর সঙ্গে খুব খুশি ছিল। কোনওদিন বোঝা যায়নি, ওদের মধ্যে সমস্যা রয়েছে।' তবে ছেলের মৃত্যুর পর একটাই প্রশ্ন তাঁর মনে ঘুরছে, 'সোনম ওর সঙ্গে গিয়েছিল, তাহলে ওকে ওই অবস্থায় ফেলে চলে এল কেন? কী হয়েছিল ওর সঙ্গে? কে এমন করল? ও তো নিশ্চয়ই কিছু দেখেছিল, তাহলে বাঁচাল না কেন?'
ইন্দোরে বিয়ের পর ২০ মে মেঘালয়ে মধুচন্দ্রিমার জন্য পৌঁছন রাজা ও সোনম। ২৩ মে নঙরিয়াট গ্রামে একটি হোমস্টে থেকে চেক আউট করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁরা নিখোঁজ হন। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর ২ জুন চেরাপুঞ্জির কাছাকাছি ওয়াইসাওডং জলপ্রপাতে ২০ কিমি দূরে একটি গিরিখাত থেকে রাজার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। এরপর শুরু হয় সোনমের খোঁজে রাজ্যজুড়ে তল্লাশি।
হঠাৎ করেই রবিবার রাতে উত্তরপ্রদেশের গাজিপুরের একটি ধাবায় পৌঁছন সোনম। তিনি সেখানে কারও ফোন ধার করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে তাঁর ভাই পুলিশে খবর দিলে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।
রাজার মা উমা রঘুবংশী এই ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, 'যদি সোনম দোষী হয়, তাহলে ওর ফাঁসি হওয়া উচিত। আর যদি না হয়, তাহলে যাঁরা দোষী, তাঁদের কঠিন শাস্তি দেওয়া হোক।'
তিনি আরও দাবি করেন, ছেলের অন্ত্যেষ্টিতে সোনমের বাবা দেবী সিঙের পাশে বৌমার প্রেমিক রাজ কুশওয়া ছিলেন। যদিও উমা দেবী বলেন, 'আমি কোনওদিন এই ছেলেকে দেখিনি বা ওর নাম শুনিনি, যতক্ষণ না এই মামলায় ওর নাম সামনে এল।' কিন্তু রাজার দিদি আবার দাবি করেছেন, রাজ তাঁদের বিয়েতেও উপস্থিত ছিলেন।
এই ঘটনায় রাজ কুশওয়া পুলিশের হেফাজতে। রাজ, সোনম ছাড়াও গ্রেফতার হয়েছেন বিশাল চৌহান, আকাশ রাজপুত, আনন্দ কুর্মি এবং আকাশ লোধি নামের চারজন। মেঘালয় পুলিশের দাবি, এই পাঁচজন মিলে রাজাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল।
উমা রঘুবংশী বলেন, 'আমি চার মাস ধরে সোনমকে চিনতাম। এই চার মাসে একবারও মনে হয়নি ও এমন কিছু করতে পারে। বিয়ের পর চার দিন ও আমাদের বাড়িতেই ছিল। তখনও কোনও সন্দেহ হয়নি। এই বিয়ে আমরাই ঠিক করেছিলাম। দু’জনকে আলাদা করে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তারা রাজি কি না। রাজি থাকার পরেই আমরা বিয়ের ব্যবস্থা করি।'
রাজা যখন সোনমকে নিয়ে মেঘালয়ে রওনা হয়, তখন ও একটা সোনার চেন পরেছিল। তা নিয়ে উমাদেবী কিছুটা চিন্তিত ছিলেন। বলেন, 'আমি ভয় পেয়েছিলাম, ওর গলায় সোনার চেন দেখে কেউ হামলা চালাতে পারে বা কিছু হতে পারে। কিন্তু আমি এটা ভাবিনি যে, সোনমই ওকে চেন পরিয়ে নিয়ে গিয়ে লুট করতে চাইবে।'
সোনম নিজের সঙ্গে যে গয়না নিয়ে গিয়েছিলেন, সে প্রসঙ্গে উমা বলেন, 'ওর সব সোনার গয়না বাড়িতেই রয়েছে। সঙ্গে কেবল ওর মঙ্গলসূত্র, একটি ডায়মন্ড ব্রেসলেট এবং এক-দু'টো আংটি ছিল।'
রাজার মায়ের এই বয়ান তদন্তে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আধিকারিকরা। এদিকে সোমবার শিলংয়ে সাংবাদিক বৈঠকে ইস্ট খাসি হিলস জেলার পুলিশ সুপার বিবেক সিয়েম বলেন, 'প্রথমে উত্তরপ্রদেশের ললিতপুর থেকে আকাশ রাজপুতকে ধরা হয়। তারপর ইন্দোর থেকে ধরা হয় বিশাল চৌহান ও রাজ কুশওয়াকে। এরপর মধ্যপ্রদেশের বিনার বাসারি গ্রাম থেকে আনন্দ কুর্মিকে এবং উত্তরপ্রদেশের ললিতপুর থেকে আকাশ লোধিকে ধরা হয়।'