বিধানসভার সেন্ট্রাল হলে এনডিএ-র বৈঠকের ভোজসভায় ছিল মাটন রোগান জোশ। সেই লোভনীয় ডিশ নিয়েই রাষ্ট্রীয় জনতা দল নেতা তথা লালুপ্রসাদ যাদবের ছেলে তেজস্বী যাদব গরম কড়াইয়ে সেঁকেছেন বিজেপিসহ এনডিএকে।

তেজস্বী আরও লিখেছেন, তাঁর দলের নেতারা শ্রাবণ মাসে মাংস খাচ্ছেন। এটা দেখে মোদী খুশি হতেই পারেন।
শেষ আপডেট: 23 July 2025 15:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হিন্দু ভক্তদের কাছে পবিত্র শ্রাবণ মাস চলছে। মন্দিরে মন্দিরে শিবের পুজো এবং লক্ষ লক্ষ ভারতবাসী সোমবার উপোস করছেন, নয়তো নিরামিষ খাচ্ছেন। কিন্তু, ভোটের মুখে বিহারি রাজনীতির সব আলো শুষে নিয়েছে ছাগলে। রাজনৈতিক আসর গরম খাসির মাংসের পদকে ঘিরে। ঠিক তাই, মাটন রোগান জোশ, ভূস্বর্গ কাশ্মীরের নিজস্ব ঘরানার একটি অতি সুস্বাদু পদ। যাকে কেন্দ্র করে বিহারে শাসক-বিরোধী জোটে লেগেছে ষাঁড়াষাঁড়ি গুঁতোগুঁতি।
গত সোমবার থেকে শুরু হয়েছে ভোটের আগে বিহার বিধানসভার শেষ অধিবেশন। ওইদিন ছিল শ্রাবণ মাসের সোমবার। আর সেদিনই বিধানসভার সেন্ট্রাল হলে এনডিএ-র বৈঠকের ভোজসভায় ছিল মাটন রোগান জোশ। সেই লোভনীয় ডিশ নিয়েই রাষ্ট্রীয় জনতা দল নেতা তথা লালুপ্রসাদ যাদবের ছেলে তেজস্বী যাদব গরম কড়াইয়ে সেঁকেছেন বিজেপিসহ এনডিএকে।
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা সময় নষ্ট না করে একটি ভিডিও পোস্ট করে লিখেছেন, শ্রাবণ মাসে আমিষ খাওয়া, বিশেষত মাংস খাওয়া নিয়ে শাসক জোটের নেতারা দুমুখো নীতিতে চলছেন। তেজস্বীর কথায়, বিজেপি বিধায়করা শ্রাবণ সোমবারিতে কবজি ডুবিয়ে মাংস খাচ্ছেন। তা খান, আমাদের কোনও আপত্তি নেই। কারও পছন্দের খাবার নিয়ে আমরা কিছু বলি না। কিন্তু, প্রধানমন্ত্রীর আক্রমণের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু লোককে নিশানা করা উচিত কাজ নয়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তেজস্বী আরও লিখেছেন, তাঁর দলের নেতারা শ্রাবণ মাসে মাংস খাচ্ছেন। এটা দেখে মোদী খুশি হতেই পারেন। কিন্তু, তিনি বিরোধী নেতাদের লক্ষ্য করে কেন আক্রমণ করে চলেছেন যেখানে বিরোধীদের অনেকেই আমিষ খাবার খান না এই মাসে। তেজস্বী তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে ক্যাটারিং কোম্পানির সাজিয়ে রাখা মাটন রোগান জোশের ছবিও পোস্ট করেছেন প্রমাণ হিসেবে।
আরজেডি নেতার গুঁতোয় অবশ্য ছেড়ে কথা বলেনি বিজেপিও। তারা বলেছে, বিরোধী দলনেতা হিসেবে তিনি নির্বাচনের দিকে মন দিন। কে কী খাচ্ছে সেদিকে নজর না দিলেও চলবে। রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র মনোজ শর্মা জবাবে বলেছেন, যে ক্যাটারারকে বলা হয়েছিল, তারা নিরামিষ পদের সঙ্গে মাংসও রাখতে পারে। কিন্তু, তেজস্বী কি দেখেছেন কোন কোন বিধায়ক মাংস খাচ্ছিলেন?
শুধু বিধানসভাই নয়, বিহার রাজনীতিতে গত কয়েকদিন ধরেই মাংস রাজনীতির একেবারে কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় রাজীব রঞ্জন ওরফে লালন সিং একটি মাংস খাওয়ার পার্টির আয়োজন করেছিলেন। মুঙ্গের লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত লক্ষ্মীসরাইয়ে তিনি এই ভোজের আয়োজন করেছিলেন। তা নিয়েও তেজস্বী বিজেপি এবং এনডিএ জোটকে তোপ দেগেছিলেন।

এ মাসের গোড়ার দিকে জন সুরজ দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর কিষানগঞ্জে তাঁর ভাষণ শুনতে আসা প্রত্যেককে বিরিয়ানি খাইয়েছিলেন। যদিও দলের তরফে বলা হয়, এটা নিরামিষ বিরিয়ানি ছিল, মাংস ছিল না। প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে শ্রাবণ মাসে নয়াদিল্লিতে মেয়ের বাড়িতে লালুপ্রসাদ যাদব একটি বিশেষ মাংসের পদ রান্না করে খাওয়ান কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে। সেই সময় লালু ও রাহুলের মাংস রান্না করার ছবি ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল। যা কটাক্ষ করেছিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পরে নবরাত্রি চলাকালীন চপারে লোকসভা ভোট প্রচারে বেরনো তেজস্বী যাদব মাছ খাচ্ছিলেন বলে ক্যামেরায় ধরা পড়ে। সে ব্যাপারে তেজস্বীর জবাব ছিল তাঁরা নবরাত্রি শুরুর আগেই তা খেয়েছিলেন।