মুম্বইয়ের কিংস সার্কল এলাকার সবথেকে ধনী গণেশ মণ্ডল (পুজো কমিটি বলা যেতে পারে) জিএসবি সেবা মণ্ডল এবছর গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে আগের বছরের রেকর্ড ভেঙে ৪৭৪ কোটি ৪৬ লক্ষ টাকার বিমা করাল।

জিএসবির গণেশ প্রতিমা। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 18 August 2025 15:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার মা দুগ্গাকে বলে বলে হারাল মুম্বইনিবাসী ছেলে গণেশ। মুম্বইয়ের কিংস সার্কল এলাকার সবথেকে ধনী গণেশ মণ্ডল (পুজো কমিটি বলা যেতে পারে) জিএসবি সেবা মণ্ডল এবছর গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে আগের বছরের রেকর্ড ভেঙে ৪৭৪ কোটি ৪৬ লক্ষ টাকার বিমা করাল। আগের বছর এর পরিমাণ ছিল ৪০০ কোটি টাকা। সোনা ও রুপোর দাম বেড়ে যাওয়াতেই বিমার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। যার মধ্যে স্বেচ্ছাসেবী ও সাধুসন্তদের সংখ্যা বৃদ্ধিও রয়েছে।
অবশ্যই এই পুজো কমিটি বিমার প্রিমিয়ামের মূল্য জানায়নি। বিমার গোপনীয়তা রক্ষা বিধি মেনে তারা প্রিমিয়ামের পরিমাণ জানাতে অস্বীকার করেছে। নিউ ইন্ডিয়া অ্যাসুরেন্স এই বিমা করিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সোনা-রুপোর গয়না ও সামগ্রী, ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা বিমা, অগ্নিকাণ্ড এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াও জনসুরক্ষা।
৪৭৪ কোটি টাকার বিমার মধ্যে সোনা, রুপো ও রত্নসামগ্রী বাবদ বিমার পরিমাণ ৬৭ কোটি টাকা। আগের বছর তা ছিল ৪৩ কোটি এবং ২০২৩ সালে ছিল ৩৮ কোটি। বিমার সিংহভাগ ৩৭৫ কোটি টাকা রয়েছে ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা ক্ষেত্রে। যার মধ্যে রয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক, সাধুসন্ত, রাঁধুনি, গাড়ি চালক এবং সরকারি-বেসরকারি নিরাপত্তা রক্ষীরা। অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্প, বন্যার জন্য ২ কোটি টাকা। জনদায়িত্ব অংশে রয়েছে ৩০ কোটি টাকা, যার মধ্যে রয়েছে মণ্ডপ, স্টেডিয়াম এবং ভক্তবৃন্দ। ৪৩ লক্ষ টাকা সাধারণ অগ্নিকাণ্ড ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জন্য বিমার আওতায় আছে।
জিএসবি সেবা মণ্ডলের চেয়ারম্যান অমিত পাল বলেন, বিমার পরিমাণ বৃদ্ধির মূল কারণ সোনা-রুপোর দাম বাড়া। ২০২৪ সালে গণেশোৎসবের সময় পাকা সোনার দাম ছিল ৭৭ হাজার টাকা প্রতি ১০ গ্রাম। সেটা বর্তমানে এসে দাঁড়িয়েছে এক লক্ষ ২ হাজার টাকা। জিএসবির গণেশ বিগ্রহ সাজানো হয় ৬৬ কেজি সোনার গয়না ও ৩৩৬ কেজি রুপোর গয়নায়। আগামী ২৭ অগস্ট থেকে গণেশ উৎসব শুরু হয়ে চলবে ৩১ অগস্ট পর্যন্ত। এবার কমিটির তরফে পুজো দিতে আসা ভক্তদের জন্য ব্যালকনির মতো উঁচু প্রবেশপথ তৈরি করেছে। যাতে সহজেই সকলেই গণেশের মুখ দেখতে পান এবং দূর থেকেই প্রণাম সারতে পারেন। ভিড় সামাল দিতে নিয়োগ করা হয়েছে বেসরকারি সংস্থাকে।
জিএসবি হল মুম্বইয়ের মাতুঙ্গা এলাকার কিংস সার্কলের গণেশ পুজো। গৌড় সারস্বত ব্রাহ্মণ সম্প্রদায় এই পুজোর প্রতিষ্ঠাতা ছিল। এখানে গণেশ মূর্তি তৈরি হয়, পরিবেশ বান্ধব মাটি দিয়ে। তাতে প্রাকৃতিক রং ব্যবহার করা হয়।