১৯৮৪ সালে বাবার মৃত্যুর পর তাঁদের নামে একটি শেয়ার পোর্টফোলিও তৈরি হলেও দম্পতি শেয়ার বাজার সম্বন্ধে কিছুই জানতেন না। সে কারণেই দীর্ঘদিন সে অ্যাকাউন্ট অচল অবস্থায় ছিল।

ছবি - এআই
শেষ আপডেট: 28 November 2025 11:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আবার অনলাইন প্রতারণার (Online Fraud) ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারালেন এক বৃদ্ধ (Old Man)। মুম্বইয়ের (Mumbai) ৭২ বছরের বাসিন্দা চার বছরের একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণার ফাঁদে পড়ে ৩৫ কোটি টাকা (35 Crore) খুইয়েছেন। অভিযোগ, গ্লোব ক্যাপিটাল মার্কেট লিমিটেড নামের একটি ব্রোকারেজ সংস্থা তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর নামে থাকা অ্যাকাউন্টে লাগাতার অননুমোদিত ট্রেডিং (Online Trading) চালিয়ে গেছে, যা তিনি জানতেও পারেননি! এইভাবেই ৩৫ কোটি টাকা জালিয়াতি হয়েছে।
মাতুঙ্গা পশ্চিমের বাসিন্দা ভরত হরকচাঁদ শাহ পেশায় সমাজসেবী (Social Worker)। ক্যানসার রোগীদের (Cancer Patients) জন্য পারেলে একটি লো-রেন্ট গেস্ট হাউস চালান তিনি ও তাঁর স্ত্রী। ১৯৮৪ সালে বাবার মৃত্যুর পর তাঁদের নামে একটি শেয়ার পোর্টফোলিও (Share Portfolio) তৈরি হলেও দম্পতি শেয়ার বাজার সম্বন্ধে কিছুই জানতেন না। সে কারণেই দীর্ঘদিন সে অ্যাকাউন্ট অচল অবস্থায় ছিল।
কীভাবে শুরু হল প্রতারণা
২০২০ সালে এক পরিচিতের পরামর্শে শাহ দম্পতি গ্লোব ক্যাপিটালের সঙ্গে নতুন করে ডিম্যাট ও ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট (Demat and Trading Account) খুলে পুরনো সব শেয়ার কোম্পানির তত্ত্বাবধানে দেন। শুরুতে সবকিছু স্বাভাবিক ছিল, প্রতিনিধিরা নিয়মিত ফোন করে নানা আশ্বাস দিতেন। বলা হয়েছিল, অতিরিক্ত কোনও বিনিয়োগের (Invesment) দরকার নেই, পুরনো শেয়ারকে জামানত ধরে নিরাপদে ট্রেডিং সম্ভব প্রভৃতি।
এভাবে শাহ পরিবারের সম্পূর্ণ আস্থা অর্জনের পর তাঁদের পোর্টফোলিওর দায়িত্ব দেওয়া হয় দুই কর্মী - অক্ষয় বারিয়া ও করণ সিরোয়াকে। অভিযোগ, এই দুই প্রতিনিধিই ধীরে ধীরে অ্যাকাউন্টের (Trading Account) পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেন।
শাহের কথায়, প্রতিদিন ফোনে নির্দেশ দিতেন তাঁরা, কোন অর্ডার দিতে হবে, কীভাবে দিতে হবে। পরে নিজেরাই বাড়ি গিয়ে ল্যাপটপ খুলে ই-মেল পাঠাতেন। শাহ শুধু OTP দিতেন, প্রয়োজনীয় বার্তা খুলে দেখতেন, নির্দেশমতো জবাব দিতেন। তাঁর অজান্তেই ট্রেডিং চলত তাঁদের অ্যাকাউন্টে, অথচ প্রতি বছর পাঠানো স্টেটমেন্টে দেখানো হত বাম্পার লাভ!
কীভাবে ফাঁস হল চার বছরের জালিয়াতি
২০২৪ সালের জুলাইয়ে হঠাৎ গ্লোব ক্যাপিটালের রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ফোনে জানানো হয়, তাদের অ্যাকাউন্টে ৩৫ কোটি টাকার ডেবিট ব্যালান্স (Debit Balance) রয়েছে। অবিলম্বে টাকা জমা দিতে হবে, নাহলে শেয়ার (Share) বিক্রি করে দেওয়া হবে। অবাক হয়ে কোম্পানির দফতরে গেলে শাহকে জানানো হয়, চার বছরের মধ্যে বিপুল পরিমাণ ‘অননুমোদিত’ ট্রেডিং হয়েছে। কোটি কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে।
নিজের বাকি সম্পদ রক্ষার মরিয়া চেষ্টা করে শাহ শেষ পর্যন্ত শেয়ার বিক্রি করে ওই বিপুল ৩৫ কোটি টাকা মিটিয়ে দেন। পরে অবশিষ্ট শেয়ার অন্য সংস্থায় স্থানান্তর করেন। পরে গ্লোব ক্যাপিটালের ওয়েবসাইট থেকে মূল ট্রেডিং স্টেটমেন্ট (Trading Statement) ডাউনলোড করে দেখেন, ই-মেলে পাঠানো ‘লাভের হিসেব’ আসলে মিথ্যে। দু’টি নথির পার্থক্য বিশাল।
আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য - এনএসই যে নোটিসগুলি কোম্পানিকে পাঠিয়েছিল, সেগুলোর জবাব দেওয়া হয়েছে শাহের নামে, অথচ তিনি নোটিসের অস্তিত্ব পর্যন্ত জানতেন না।
এই সংক্রান্ত মামলা এখন ইওডব্লিউ-র হাতে। মামলা রুজু হয়েছে আইপিসি-র ৪০৯ (বিশ্বাসভঙ্গ) ও ৪২০ (প্রতারণা) সহ একাধিক ধারায়। পরে তদন্ত হস্তান্তর করা হয়েছে মুম্বই পুলিশের ইকোনমিক অফেন্সেস উইং (EOW)-এর কাছে।