মাত্র ৩৫ মিনিটে শেষ হল মুম্বইয়ের (Mumbai Hostage) এক সিনেমা অডিশন রুমে টানটান পণবন্দির ঘটনা। পাওয়াই এলাকার আরএ স্টুডিওতে ঘটনার সময়ে ১৭ জন কিশোর, দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক ও এক বৃদ্ধ আটকে ছিলেন। পুলিশের আট সদস্যের কমান্ডো টিম (QRT) বাথরুমের সরু পথ ধরে ঢুকে রুদ্ধদ্বার অভিযানের পর উদ্ধার করল সকলকে।

স্টুডিওতে ঠিক কী ঘটেছিল (Mumbai Hostage)
শেষ আপডেট: 30 October 2025 20:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র ৩৫ মিনিটে শেষ হল মুম্বইয়ের (Mumbai Hostage) এক সিনেমা অডিশন রুমে টানটান পণবন্দির ঘটনা। পাওয়াই এলাকার আরএ স্টুডিওতে ঘটনার সময়ে ১৭ জন কিশোর, দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক ও এক বৃদ্ধ আটকে ছিলেন। পুলিশের আট সদস্যের কমান্ডো টিম (QRT) বাথরুমের সরু পথ ধরে ঢুকে রুদ্ধদ্বার অভিযানের পর উদ্ধার করল সকলকে।
কী ঘটেছিল স্টুডিওতে (Mumbai Hostage)
বৃহস্পতিবার দুপুরে ‘অডিশন’ চলাকালীনই হঠাৎ স্টুডিওর দরজা বন্ধ করে সবাইকে পণবন্দি করে রোহিত আর্য নামের এক ব্যক্তি। হাতে বন্দুক, রাসায়নিক পদার্থ ও লাইটার—হুমকি, পুলিশ ঢুকলে আগুন লাগিয়ে দেবে স্টুডিওতে। কিছু সময় পরেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পাওয়াই পুলিশ।
৩৫ মিনিটের অভিযান
শেষ চেষ্টা হিসেবে শুরু হয় আলোচনার পর্ব, কিন্তু ব্যর্থ হয় তা। রোহিত আচমকা গুলি চালাতেই কমান্ডোরা পাল্টা গুলি চালায়। ৮ জনের কুইক রিঅ্যাকশন টিম বাথরুমের ছোট দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে—যাতে বন্দিরা আড়ালেই থাকে এবং অপরাধীকে চমকে দেওয়া যায়। গোলাগুলির পর রোহিত গুরুতর আহত অবস্থায় ধরা পড়ে এবং হাসপাতালে মারা যায়। পরে জানা যায়, তার বন্দুকটি আসলে এয়ারগান।
উদ্ধার হল ১৭ কিশোর
ছোট্ট একটা ঘরে তখন কিশোর-কিশোরীরা আতঙ্কে কোণায় জড়ো হয়ে ছিল। কমান্ডোরা তাদের ঢেকে, ধাপে ধাপে বের করে আনে। উদ্ধার হওয়া ১৭ জনের বয়স প্রায় ১৫ বছর, সবার প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরীক্ষার পর অভিভাবকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
রোহিতের দাবি ও রহস্য
৩৮ বছর বয়সি রোহিত আর্য পেশায় স্টুডিওর কর্মী, পাশাপাশি ইউটিউবার। কয়েকদিন ধরে নাকি ‘অডিশন’ নিচ্ছিল শিশুদের। তদন্তে জানা গেছে, রোহিত এক স্কুল প্রোজেক্টে কাজ করেছিলেন, কিন্তু বকেয়া টাকা পাননি বলে দাবি। সেই ক্ষোভ থেকেই নাকি এমন চরম পদক্ষেপ। ভিডিওতে তিনি বলেন, “আমি টাকার জন্য নয়, ন্যায়ের জন্য লড়ছি। আমি সন্ত্রাসবাদী নই।”
মানসিক ভারসাম্যহীনতার ইঙ্গিত
পুলিশ জানায়, রোহিতের আচরণে মানসিক ভারসাম্যহীনতার ইঙ্গিত মিলেছে। তার ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে রাসায়নিক পদার্থ, লাইটার ও ভিডিও সরঞ্জাম। সবকিছু ফরেনসিক পরীক্ষায় পাঠানো হয়েছে।
এক সিনিয়র পুলিশ অফিসারের কথায়, “এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করা যেত না। বাচ্চাদের জীবন বাঁচাতে আমরা সরাসরি অ্যাকশন নেই,”। মুম্বইয়ের এই নাটকীয় উদ্ধার অভিযান এখন গোটা দেশের আলোচনার কেন্দ্রে — যেন বাস্তবের পর্দায় থ্রিলার সিনেমার দৃশ্য!