ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে বিপর্যস্ত উত্তর ভারত। পাঞ্জাব, রাজস্থান-সহ একাধিক রাজ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত ৪, আহত অন্তত ৩০।

শৈত্যপ্রবাহ
শেষ আপডেট: 11 January 2026 08:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তর ভারতের একাধিক রাজ্যে শনিবার তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার (North India Fog) দাপট আরও বেড়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে বিভিন্ন জায়গায় দুর্ঘটনা (Road Accident) ঘটেছে। পাঞ্জাবে কুয়াশার জেরে বাস ও গাড়ির সংঘর্ষে চার জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে খবর। কাশ্মীর উপত্যকায় কয়েক দিন ধরেই শূন্যের নীচে তাপমাত্রা চলছে। শনিবার সেখানে পারদ আরও নেমেছে। অন্যদিকে, চলতি শীতের মরসুমে দিল্লিতে শনিবারই রেকর্ড হয়েছে সবচেয়ে ঠান্ডা সকাল।
পাঞ্জাবের বহু এলাকায় কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হয়েছে। হোশিয়ারপুরে তাপমাত্রা নেমে গিয়েছে ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে বলে জানিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা ও সংলগ্ন হরিয়ানায় সকালে ঘন কুয়াশা দেখা যায়। হোশিয়ারপুর-দাসুয়া সড়কে কুয়াশার কারণে একটি গাড়ি ও বাসের সংঘর্ষে চার জনের মৃত্যু হয়, আহত হন আরও এক জন। অমৃতসরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১.৩ ডিগ্রি, বাথিন্ডায় ৩.৪, ফরিদকোটে ৩.২, পাতিয়ালায় ৪.৪ এবং গুরুদাসপুরে ৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চণ্ডীগড়েও রাতের তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল ৪ ডিগ্রিতে।
হরিয়ানায় নারনৌলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৩.৫ ডিগ্রি, হিসারে ৪, কর্নালে ৪.৪, ভিওয়ানিতে ৪.৫, রোহতকে ৫ এবং অম্বালায় ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজস্থানে কুয়াশার কারণে একাধিক দুর্ঘটনার খবর মিলেছে। জয়পুর-দিল্লি জাতীয় সড়কে (NH-48) কুয়াশার জেরে বাস ও পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে প্রায় ২৫ জন আহত হয়েছেন।
জয়সালমিরে বাস ও পুলিশের গাড়ির সংঘর্ষে আহত হয়েছেন চার জন পুলিশকর্মী। রাজ্যের বহু এলাকায় ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহ পরিস্থিতি বজায় রয়েছে। জয়পুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, দৌসায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৩.৫ ডিগ্রি। আলওয়ারে ৩.৬, শ্রীগঙ্গানগরে ৩.৯, নাগৌরে ৪.২, ফতেপুরে ৪.৪, পিলানি ও জয়সালমিরে ৪.৫ এবং লুঙ্কারানসারে ৪.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। রাজ্যের অধিকাংশ জায়গায় তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নীচেই ছিল। আগামী কয়েক দিন পশ্চিম, উত্তর ও পূর্ব রাজস্থানের কিছু অংশে ঘন কুয়াশা ও শীতের দাপট বজায় থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
দিল্লিতে শনিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৪.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে ২.৭ ডিগ্রি কম এবং চলতি মরসুমে সর্বনিম্ন। সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও ছিল স্বাভাবিকের নীচে, ১৯.৭ ডিগ্রি। ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের জন্য রবিবার ও সোমবার রাজধানীতে ‘ইয়েলো অ্যালার্ট’ জারি করেছে IMD। শনিবার সকালে দিল্লির বায়ুগুণমান ‘খুব খারাপ’ পর্যায়ে পৌঁছয়। AQI ছিল ৩৬৬।
কাশ্মীর উপত্যকায় ‘চিল্লা-ই-কালান’ পর্বে তীব্র শীত অব্যাহত। শোপিয়ানে তাপমাত্রা নেমেছে মাইনাস ৮.২ ডিগ্রিতে। পরিষ্কার আকাশের কারণে ডাল লেক-সহ একাধিক জলাশয়ের অংশ জমে গিয়েছে। শ্রীনগরে শুক্রবার রাতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ৫.৭ ডিগ্রি। পাহেলগাঁওয়ে মাইনাস ৭.৮, গুলমার্গে মাইনাস ৬.৮ এবং কাজিগুন্ডে মাইনাস ৬.৩ ডিগ্রি রেকর্ড করা হয়েছে। IMD জানিয়েছে, ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত আবহাওয়া শুষ্ক থাকলেও আকাশ মেঘলা থাকতে পারে।
হিমাচল প্রদেশেও কড়া শীতের দাপট। রাজ্যের একাধিক জায়গায় তাপমাত্রা শূন্যের নীচে নেমেছে। কুকুমসেরিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ১০.৯ ডিগ্রি। চাম্বা জেলায় রবিবার বিচ্ছিন্ন ভাবে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে। ১১ থেকে ১৪ জানুয়ারির মধ্যে উনা, বিলাসপুর, হামিরপুর, কাংড়া ও মান্ডিতে ঘন কুয়াশার জন্য ‘ইয়েলো ওয়ার্নিং’ জারি করা হয়েছে।
ঝাড়খণ্ডেও শীতের দাপট বেড়েছে। রাজ্যের আটটি জেলায় তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নীচে নেমেছে। খুঁটিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১.৪ ডিগ্রি। গুমলা, রাঁচি ও খুঁটি জেলায় শৈত্যপ্রবাহের জন্য ‘ইয়েলো অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। তবে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় তাপমাত্রা ২-৩ ডিগ্রি বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
দক্ষিণ ভারতে, কর্নাটকের কিছু অংশে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৩ থেকে ৬ ডিগ্রি কম রয়েছে এবং কোথাও কোথাও কুয়াশা দেখা গেছে। এদিকে বঙ্গোপসাগরে তৈরি একটি নিম্নচাপ শনিবার উত্তর শ্রীলঙ্কা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এর প্রভাবে তামিলনাড়ুতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে এবং কর্নাটকের বৃষ্টির ধরনেও প্রভাব পড়তে পারে বলে জানিয়েছে IMD।