চুক্তি সম্পন্ন হলে এটি ভারতের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলোর মধ্যে এক নম্বরে উঠে আসতে পারে যা নৌসেনাকে দেবে এক নতুন যুগের প্রযুক্তি ও শক্তি।

জার্মানির সঙ্গে সাবমেরিন-চুক্তি ভারতের!
শেষ আপডেট: 11 January 2026 00:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় নৌসেনাকে (Indian Navy) শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এবং মেক ইন ইন্ডিয়া (Make in India) উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বড়সড় এক প্রতিরক্ষা চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে। জার্মানির সঙ্গে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারে ছ'টি আধুনিক সাবমেরিন তৈরি নিয়ে আলোচনা শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে (India Germany submarine deal)। ২০২৬ সালের শুরুতেই এই চুক্তি সম্পূর্ণ হতে পারে, যা ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা প্রকল্পগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে।
এই চুক্তি 'প্রজেক্ট ৭৫ আই'-এর (Project 75I submarine) অংশ, যার লক্ষ্য ভারতীয় নৌসেনার জন্য ছ'টি আধুনিক ডিজেল–ইলেকট্রিক সাবমেরিন তৈরি করা। এসব সাবমেরিনে থাকবে এয়ার-ইন্ডিপেনডেন্ট প্রপালশন (AIP) প্রযুক্তি, যা সাবমেরিনকে জলের নীচে দীর্ঘ সময় লুকিয়ে থেকেই চলতে সাহায্য করবে। চিনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী নৌ-শক্তি উপস্থিত আছে, এমন অঞ্চলে এই ক্ষমতা ভারতের জন্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।
দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এসেছে প্রজেক্ট ৭৫ আই
৯০-এর দশকের শেষ দিকে প্রকল্পটি শুরু হলেও একাধিক কারণে দফায় দফায় দেরি হয়েছে। কখনও প্রশাসনিক জটিলতা, কখনও কঠোর প্রযুক্তিগত শর্ত- সব মিলিয়ে প্রায় দু'দশক ধরে এটি থমকে ছিল। অবশেষে জার্মানির ThyssenKrupp Marine Systems (TKMS) এবং ভারতের Mazagon Dock Shipbuilders Limited (MDL) যৌথভাবে সামনে আসে প্রধান প্রতিযোগী হিসেবে।
L&T Navantia–র প্রস্তাব ২০২৫ সালে বাতিল হওয়ায় TKMS-এর পথ আরও পরিষ্কার হয়।
চুক্তির মূল বিষয়গুলো
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩২ সালে নৌসেনা পেতে পারে প্রথম সাবমেরিন, আর বাকি সাবমেরিনগুলো ২০৩০-এর মধ্যেই পাওয়া যাবে।
মাজাগন ডকের ভূমিকা
মুম্বইয়ের মাজাগন ডক শিপবিল্ডার্স (Mumbai-based Mazagon Dock Shipbuilders Limited) ইতিমধ্যেই স্করপিন শ্রেণির সাবমেরিন (Scorpene-class submarines) বানাচ্ছে। তাই বিদেশি প্রযুক্তির সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাদের যথেষ্ট। এবার জার্মান TKMS-এর সঙ্গে যৌথভাবে আরও উন্নত সাবমেরিন তৈরির দায়িত্ব পেতে চলেছে মাজাগন ডক। প্রকল্পটি শুরু হলে হাজার হাজার দক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে উৎপাদন আরও বাড়বে বলেই আশা করা হচ্ছে।
কৌশলগত গুরুত্ব
চিনের বাড়তে থাকা নৌ শক্তির জেরে ভারত এখন জলের নীচে আরও শক্তিশালী নজরদারি ও আঘাত করার ক্ষমতা অর্জন করতে চাইছে। AIP–চালিত সাবমেরিন সেই ক্ষমতা অনেক বাড়িয়ে দেবে। অন্যদিকে, জার্মানির জন্যও এটি বড় রফতানি চুক্তি।
চুক্তি সম্পন্ন হলে এটি ভারতের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলোর মধ্যে এক নম্বরে উঠে আসতে পারে যা নৌসেনাকে দেবে এক নতুন যুগের প্রযুক্তি ও শক্তি।