পূর্ব সিকিমের সীমান্তবর্তী জঙ্গলে ভয়াবহ দাবানল। বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠল ভারত-চিন সীমান্ত এলাকা।

সিকিমে দাবানল
শেষ আপডেট: 23 January 2026 13:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের উদ্বেগ বাড়াল ভারত-চিন সীমান্ত (India–China Border)। পূর্ব সিকিমের (East Sikkim) উঁচু পার্বত্য এলাকায় ভয়াবহ দাবানল (Forest Fire)। জঙ্গলের গভীরে ছড়িয়ে পড়া আগুনের সঙ্গে সঙ্গে একের পর এক ল্যান্ডমাইন (Landmine) বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে উঠল গোটা এলাকা। মুহুর্মুহ বিস্ফোরণ আর কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। থাম্বি ভিউ পয়েন্ট (Thambi View Point)–এর পর এবার কুপুপ (Kupup) গ্রামের কাছে, একেবারে ‘জিরো লাইন’ (Zero Line) ঘেঁষা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
এখানে রয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর (Indian Army) একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ছাউনি (Military Camp)। সেখানে গোলা, বারুদ এবং যুদ্ধ সরঞ্জাম মজুত থাকার কারণেই দাবানল এমন আকার ধারণ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। আর এই কথা শুনে আতঙ্ক দ্বিগুণ স্থানীয়দের মধ্যে। সীমান্তের এই সংবেদনশীল এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়া মানেই যে কোনও মুহূর্তে বড় বিপদের আশঙ্কা—এ কথা মাথায় রেখেই প্রশাসন এবং সেনা কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি সতর্কতা জারি করেছে।
সিকিম প্রশাসন (Sikkim Administration) সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২০ জানুয়ারি (January 20) ওই সীমান্ত এলাকা থেকে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখেই প্রথম আগুন লাগার খবর আসে। দ্রুত সেনাবাহিনী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। স্বস্তির খবর, এই ঘটনায় কোনও হতাহতের (Casualty) খবর মেলেনি।
এর আগেও গত ১৮ জানুয়ারি (January 18) নাথু-লা (Nathu La) সীমান্তের কাছে থাম্বি ভিউ পয়েন্ট এলাকায় একই ধরনের দাবানলের ঘটনা ঘটেছিল। পরপর দুই দিনের ব্যবধানে ভারত-চিন সীমান্তের বনাঞ্চলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ছে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, শীতের শুষ্ক আবহাওয়া (Dry Winter Weather) এবং তীব্র হিমেল বাতাসের (Strong Wind) জেরে আগুন খুব দ্রুত দুর্গম পাহাড়ি জঙ্গলে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের লেলিহান শিখা এতটাই উঁচু ছিল যে নাথু-লা থেকেও তা স্পষ্ট দেখা যায়। কালো ধোঁয়া আকাশ ঢেকে ফেলায় মুহূর্তে বদলে যায় গোটা এলাকার চেহারা। এরই মধ্যে আচমকা বিকট বিস্ফোরণের শব্দে অনেকেই ভেবেছিলেন, ফের বুঝি সীমান্তে (Border Tension) নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
পরে অবশ্য প্রশাসন পরিষ্কার করে জানায়, ওই বিস্ফোরণের শব্দ আসলে আগুনের তাপে মাটির নীচে পোঁতা ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের ফল। সীমান্তে নিরাপত্তার স্বার্থে বহু বছর আগে পুঁতে রাখা মাইনগুলিই এই শব্দের কারণ। যদিও এই বিস্ফোরণেই আতঙ্ক আরও ছড়িয়ে পড়ে গ্রামবাসীদের মধ্যে।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এই ধরনের দাবানলের অন্যতম কারণ শীতকালে জঙ্গলের গাছগাছালি শুকিয়ে যাওয়া, শুকনো পাতায় ভরে থাকা বনভূমি এবং প্রবল বাতাস। তবে ২০ জানুয়ারির ঘটনাটি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ আগুনটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ছাউনির একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের যৌথ প্রচেষ্টায় আগুন জনবসতিপূর্ণ এলাকা ও সেনা ছাউনি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি।
তবুও বারবার সীমান্তবর্তী বনাঞ্চলে দাবানলের ঘটনা প্রশাসন ও সেনা মহলকে নতুন করে সতর্ক হতে বাধ্য করছে। শীতের মরশুমে এই ধরনের অগ্নিকাণ্ড যে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদের ইঙ্গিত দিতে পারে, তা মানছেন বিশেষজ্ঞরাও।