বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জৈসওয়াল জানান, বিষয়টি জানার পর থেকেই ব্রিটেন সরকারের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখে চলেছে ভারত সরকার।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 23 July 2025 18:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়া বিমান দুর্ঘটনায় (Ahmedabad Plane Crash) নিহত দুই ব্রিটিশ নাগরিকের (Britain Families) পরিবার অভিযোগ করেছে, তাঁদের কাছে অন্যজনের দেহ তুলে দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে এক বিদেশি সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে তা তোলপাড় ফেলেছে। আর সে নিয়েই মুখ খুলল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA)।
বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জৈসওয়াল জানান, বিষয়টি জানার পর থেকেই ব্রিটেন সরকারের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখে চলেছে ভারত সরকার। তিনি বলেন, “আমরা ওই প্রতিবেদন দেখেছি। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। বিমান দুর্ঘটনার পর মৃতদেহ শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে নির্দিষ্ট প্রোটোকল এবং নিয়ম মেনেই। প্রতিটি মৃতদেহ যথাচিত সম্মান ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
Our response to media queries regarding a report in the Daily Mail on the Air India crash⬇️
🔗 https://t.co/pTWIIMSBhi pic.twitter.com/IP9QgLNuz7— Randhir Jaiswal (@MEAIndia) July 23, 2025
ঠিক কী অভিযোগ উঠেছে?
ব্রিটেনের দুই পরিবারের দাবি, তাঁদের কাছে কফিনবন্দি যে দেহ এসেছিল, তা অন্য কারও। তাঁদের প্রিয়জনের দেহ এসেই পৌঁছায়নি। ব্রিটেনের নামী আইনজীবী জেমস হিলি জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর মোট ১২ থেকে ১৩টি দেহাবশেষ ব্রিটেনে পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে দুটি পরিবারের হাতে দেওয়া কফিনে ভুলভাবে অন্যের দেহ পাঠানো হয়েছে বলে ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণ পাওয়া গেছে (Bodies repatriated to two families were misidentified)। এই খবর চাউর হওয়ার পরই এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে জানানো হয়েছে, 'বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।' এখন এই ইস্যু নিয়েই কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হল।
এর আগে ক্ষতিপূরণ নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। বলা হয়েছিল, বিমান সংস্থা পরিবারগুলিকে জটিল আইনি প্রশ্নপত্র পূরণ করতে বাধ্য করছে। এমনকী অগ্রিম ক্ষতিপূরণ বন্ধের হুমকি দিয়েও তাঁদের চাপ দেওয়া হয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়া অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
গত ১২ জুন আমদাবাদ বিমানবন্দর থেকে টেক অফের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই মেঘানিনগরে জুনিয়র চিকিৎসকদের হস্টেলে ভেঙে পড়ে (Ahmedabad Plane Crash)। বিমানের কেবল একজন যাত্রী প্রাণে বেঁচেছিলেন। দুর্ঘটনার সময় মাটিতে থাকা বহুজনের মৃত্যু হয়। টাটা গ্রুপ মৃতদের পরিবারকে এক কোটি টাকা (প্রায় ৮৫ হাজার পাউন্ড) করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করে। এছাড়া, এয়ার ইন্ডিয়াও আরও ২৫ লক্ষ টাকা (প্রায় ২১,৫০০ পাউন্ড) আর্থিক সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দেয়। দুর্ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে।