তদন্তকারী সংস্থা AAIB তাদের প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে গত ১২ জুলাই। রিপোর্টে জানানো হয়েছে, বিমানের দুই ইঞ্জিনের জ্বালানি সুইচ ওড়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 21 July 2025 16:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ছ’মাসে পাঁচটি পৃথক নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য এয়ার ইন্ডিয়াকে (Air India) মোট ৯টি শোকজ নোটিস (Show Cause Notice) পাঠানো হয়েছে বলে সোমবার রাজ্যসভায় জানান কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী মুরলিধর মোহোল। এর মধ্যে একটি ঘটনার ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
গত ১২ জুন আমদাবাদ বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার (Ahmedabad Plane Crash) তদন্ত এখনও চলছে। ওই দিন লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৭ ড্রিমলাইনার বিমানটি ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ভেঙে পড়ে একটি মেডিক্যাল হোস্টেলের উপর। মৃত্যু হয় বিমানে থাকা ২৪১ জন যাত্রী এবং বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার। মাত্র একজন যাত্রী কোনও রকমে প্রাণে বাঁচেন।
বিমান দুর্ঘটনার প্রসঙ্গেই রাজ্যসভায় প্রশ্নের জবাবে মুরলিধর মোহোল জানান, "গত ছ’মাসে দুর্ঘটনায় পড়া ওই বিমানের নির্ভরযোগ্যতা সংক্রান্ত রিপোর্টে কোনও নেতিবাচক প্রবণতা ধরা পড়েনি।" তাঁর দাবি, দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো (AAIB) ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত হচ্ছে ২০১৭ সালের ‘এয়ারক্রাফ্ট (ইনভেস্টিগেশন অফ অ্যাক্সিডেন্টস অ্যান্ড ইনসিডেন্টস)’ বিধির অধীনে।
তদন্তকারী সংস্থা AAIB তাদের প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে গত ১২ জুলাই। রিপোর্টে জানানো হয়েছে, বিমানের দুই ইঞ্জিনের জ্বালানি সুইচ ওড়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়। ব্ল্যাক বক্স থেকে উদ্ধার হওয়া ভয়েস রেকর্ডিং অনুযায়ী, একজন পাইলট অন্যজনকে জিজ্ঞেস করেন, "তুমি বন্ধ করলে কেন?" জবাবে ওই পাইলট বলেন, "আমি করিনি।"
এই কথোপকথনের অংশটিই তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, বোঝার চেষ্টা করছেন, ঠিক কী কারণে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেছিল। উল্লেখযোগ্যভাবে, দুর্ঘটনার কয়েক সপ্তাহ আগেই ডিজিসিএ-র তরফে এয়ার ইন্ডিয়াকে একাধিক সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছিল বিমান নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে। তবু এত বড় দুর্ঘটনা এড়ানো যায়নি। AAIB-এর চূড়ান্ত রিপোর্ট সামনে এলে গোটা বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।