ব্রিটেনের নামী আইনজীবী জেমস হিলি জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর মোট ১২ থেকে ১৩টি দেহাবশেষ ব্রিটেনে পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে দুটি পরিবারের হাতে দেওয়া কফিনে ভুলভাবে অন্যের দেহ পাঠানো হয়েছে বলে ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণ পাওয়া গেছে

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 23 July 2025 17:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়া বিমান দুর্ঘটনায় (Air India Plane Crash) মৃতদেহ অদলবদলের অভিযোগ উঠল। ডিএনএ রিপোর্টে ধরা পড়ল গরমিল। ব্রিটেনের দুই পরিবারের দাবি, তাঁদের কাছে কফিনবন্দি যে দেহ এসেছিল, তা অন্য কারও। তাঁদের প্রিয়জনের দেহ এসেই পৌঁছায়নি। ঘটনার একমাস পর আবারও নতুন করে বিতর্কে জড়াল এয়ার ইন্ডিয়া।
ব্রিটেনের নামী আইনজীবী জেমস হিলি জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর মোট ১২ থেকে ১৩টি দেহাবশেষ ব্রিটেনে পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে দুটি পরিবারের হাতে দেওয়া কফিনে ভুলভাবে অন্যের দেহ পাঠানো হয়েছে বলে ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণ পাওয়া গেছে (Bodies repatriated to two families were misidentified)। এই খবর চাউর হওয়ার পরই এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে জানানো হয়েছে, 'বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।' তবে মৃতদেহ বদল সংক্রান্ত কোনও সরকারি বিবৃতি দেয়নি সংস্থা।
এর আগে ক্ষতিপূরণ নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। ব্রিটেনের সর্ববৃহৎ লিটিগেশন সংস্থা স্টুয়ার্টস দাবি করেছিল, বিমান সংস্থা পরিবারগুলিকে জটিল আইনি প্রশ্নপত্র পূরণ করতে বাধ্য করছে। এমনকি অগ্রিম ক্ষতিপূরণ বন্ধের হুমকি দিয়েও তাঁদের চাপ দেওয়া হয়েছে। 'ওই প্রশ্নপত্রের আইনি ভাষা অনেকটাই জটিল এবং ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ রয়েছে, যা পরে এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষেই কাজে লাগতে পারে।' তখনই সতর্ক করেছি ব্রিটেনের ওই সংস্থা।
এয়ার ইন্ডিয়া অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংস্থার তরফে পাল্টা দাবি করা হয়েছিল, 'আমরা দুর্ঘটনার পরপরই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জরুরি আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে দ্রুত অন্তর্বর্তী ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করেছি। দুর্ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই সম্পন্ন প্রথম দফায় ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।'
এই বিতর্ক নিয়ে এবার প্রতিক্রিয়া দিল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA)।
বুধবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে জানান, এই অভিযোগ সামনে আসার পরপরই ব্রিটেন সরকারের সঙ্গে মিলে কাজ শুরু করেছে ভারত। তিনি বলেন, 'আমরা এই সংক্রান্ত রিপোর্ট দেখেছি এবং অভিযোগ সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গেই ওই দেশের সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি।'
তিনি দাবি করেন, 'এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার (আমদাবাদ বিমান দুর্ঘটনা) পর, নিহতদের শনাক্তকরণে সমস্ত কাজ নির্ধারিত প্রোটোকল ও প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই করা হয়েছে। সবকটি মৃতদেহ যথোচিত পেশাদারিত্ব ও সতর্কতার সঙ্গে সামলানো হয়েছে।'
গত ১২ জুন আমদাবাদ বিমানবন্দর থেকে টেক অফের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই মেঘানিনগরে জুনিয়র চিকিৎসকদের হস্টেলে ভেঙে পড়ে (Ahmedabad Plane Crash)। বিমানের কেবল একজন যাত্রী প্রাণে বেঁচেছিলেন। দুর্ঘটনার সময় মাটিতে থাকা বহুজনের মৃত্যু হয়। টাটা গ্রুপ মৃতদের পরিবারকে এক কোটি টাকা (প্রায় ৮৫ হাজার পাউন্ড) করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করে। এছাড়া, এয়ার ইন্ডিয়াও আরও ২৫ লক্ষ টাকা (প্রায় ২১,৫০০ পাউন্ড) আর্থিক সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দেয়। দুর্ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। এরই মধ্যে নয়া বিতর্কে এয়ার ইন্ডিয়া।