প্রকাশিত এই রিপোর্ট যেন দেশের কাছে এক কড়া বার্তা: প্রকল্পের প্রচার যতই জোরাল হোক, বাস্তব উন্নয়নের পথ আরও অনেকটাই বাকি।

প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 22 November 2025 13:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক প্রকল্প, কোটি কোটি টাকার বিজ্ঞাপন, প্রচারের ঝলকানির মধ্যেও দেশের প্রায় অর্ধেক শিশুই (Indian children) পাচ্ছে না ছ’টি ন্যূনতম প্রাথমিক পরিষেবা। ইউনেস্কোর রিপোর্ট (UNESCO report)— ‘দ্য স্টেট অব দ্য ওয়ার্ল্ডস চিলড্রেন ২০২৫: এন্ডিং চাইল্ড প্রোভার্টি— আওয়ার শেয়ার্ড ইমপারেটিভ’— স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে, ভারতের শিশুরা এক ভয়াবহ অসমতার মধ্য দিয়ে বড় হয়ে উঠছে (Education and Health Services)।
রিপোর্ট বলছে, দেশের ২০ কোটি ৬০ লক্ষ শিশু শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাস, পুষ্টি, পরিস্রুত পানীয় জল বা পরিচ্ছন্ন শৌচ— এর কোনওটিই পাচ্ছে না। সংখ্যাটি ভারতের মোট শিশু জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে পোষণ অভিযান, সমগ্র শিক্ষা, মিড-ডে-মিল, বেটি বাঁচাও–বেটি পড়াও, স্বচ্ছ ভারত— এ সব প্রকল্প বাস্তবে কতটা কাজে লাগছে?
সরকার দাবি করে, দারিদ্রসীমার নীচে বসবাসকারীর সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমছে, দেশ এগোচ্ছে এসডিজি ২০৩০ লক্ষ্যমাত্রার দিকে। কিন্তু মুদ্রার অন্য পিঠে ফুটে উঠছে শিশুদের ভিতরকার গভীর সংকট। ইউনেস্কোর রিপোর্ট অনুযায়ী, আরও ৬ কোটি ২০ লক্ষ শিশু অন্তত দু’টি বা তার বেশি প্রয়োজনীয় পরিষেবা থেকে বঞ্চিত। অর্থাৎ, উন্নয়নের পরিসংখ্যান যতই ঝকঝকে দেখাক, বাস্তব মাটিতে শিশুর প্রয়োজন এখনো উপেক্ষিত।
ইউনিসেফ ইন্ডিয়ার প্রতিনিধি সিন্থিয়া ম্যাককাফ্রে স্পষ্ট করে বলেন— “শিশুদের উপর বিনিয়োগের বিকল্প নেই। সমাজকল্যাণ নীতির প্রতিটি স্তরে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রাধান্য দিতে হবে।” তাঁর বক্তব্যেই পরিষ্কার, প্রকল্প থাকা আর সেই প্রকল্পের সুফল পৌঁছানো— দু’টির মধ্যে ব্যবধানই আজ ভয়ঙ্কর।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পাবলিক ফিনান্স অ্যান্ড পলিসির ডঃ পিনাকী চক্রবর্তী রিপোর্টটির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, শিশু-সম্পর্কিত প্রকল্পগুলিতে আর্থিক রক্ষাকবচ বাড়ানো জরুরি। অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ডঃ নীলাঞ্জন ঘোষের মত, শিশুদের উপর স্থির বিনিয়োগই দেশের প্রকৃত উন্নয়নের চালিকাশক্তি। মানুষের ভবিষ্যৎ মূলধন তৈরি হয় শৈশবেই— এই সরল সত্যটি যেন বারবার ভুলে যাচ্ছে প্রশাসন।
এদিকে রিপোর্টে ভারতের বহু সরকারি উদ্যোগের উল্লেখ থাকলেও স্পষ্ট হয়েছে, বাস্তব সমস্যার সমাধানে সেগুলি পর্যাপ্ত নয়। কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিজ্ঞাপন ছড়ালেও, প্রান্তিক শিশুদের কাছে ন্যূনতম পরিষেবা না পৌঁছনোই শেষ কথা।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন— আজ যাদের বঞ্চনা, আগামী দিনে তারাই দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামোর বহনকারী শক্তি হবে। শৈশবেই যদি অধিকার অধরা থাকে, জাতীয় উন্নয়নও টেকসই হবে না। তাই ইউনিসেফের স্পষ্ট আহ্বান— শিশু অধিকারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিন।