প্রথম দিনই সংসদে প্রধানমন্ত্রী মোদী বক্তব্য রাখবেন। সরকার কী কী আইন পাশ করাতে চায়, সেই কর্মসূচির রূপরেখা তুলে ধরবেন তিনি।

পার্লামেন্ট
শেষ আপডেট: 21 July 2025 09:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের বাদল অধিবেশন। মোদী সরকারকে চাপে ফেলতে এই অধিবেশনে একাধিক ইস্যুতে কৌশল ঠিক করে ফেলেছে বিরোধীরা। সামনে আসছে বিদেশি কূটনৈতিক বিতর্ক থেকে শুরু করে দেশের নিরাপত্তা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যন্ত নানা বিষয়। ফলে আবারও উত্তাল হতে চলেছে কক্ষ।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার অবশ্য জানিয়েছে, তারা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। তবে বিরোধীদের মূল লক্ষ্য হবে পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষবিরতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের একাধিক মন্তব্য, বিহারে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনী প্রক্রিয়া, পহেলগাম হামলার ত্রুটি এবং সাম্প্রতিক এয়ার ইন্ডিয়া বিমান দুর্ঘটনা।
প্রথম দিনই সংসদে প্রধানমন্ত্রী মোদী বক্তব্য রাখবেন। সরকার কী কী আইন পাশ করাতে চায়, সেই কর্মসূচির রূপরেখা তুলে ধরবেন তিনি। এই অধিবেশনই হবে পহেলগামে ২২ এপ্রিলের হামলা এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর প্রথম সংসদ অধিবেশন। তাই আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে এই বিষয়দুটিও।
এর আগেই সর্বদলীয় বৈঠকে বিরোধীরা প্রধানমন্ত্রী কাছ থেকে সাফ জবাব দাবি করেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবির ব্যাখ্যা, পহেলগাম হামলার ত্রুটি, এবং বিহারের বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে। ওই বৈঠকই যেন একপ্রকার পূর্বাভাস হয়ে উঠেছে যে বাদল অধিবেশন কতটা তপ্ত হতে চলেছে।
বিরোধীদের অন্যতম হাতিয়ার হবে আমদাবাদে হওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনাও। যেখানে ২৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আন্তর্জাতিক রিপোর্টে যদিও দায় চাপানো হয়েছে পাইলটদের ঘাড়ে, বিরোধীরা চাইছে এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের স্পষ্ট বক্তব্য। সরকারি সূত্রে খবর, এসব বিতর্কিত ইস্যুতে সরাসরি মুখ খুলবেন না প্রধানমন্ত্রী। কারণ সপ্তাহের শেষেই তিনি তিন দিনের ব্রিটেন সফরে যাচ্ছেন, যেখানে একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর হবে। এরপর তাঁর গন্তব্য মালদ্বীপ।
তবে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানিয়েছেন, সরকার ‘অপারেশন সিঁদুর’-সহ সব বিষয়ে খোলামেলা আলোচনায় রাজি। তবে ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি তিনি। সরকারের পাল্টা যুক্তি, পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের সময় তারা কীভাবে পরিস্থিতি সামলেছে এবং আন্তর্জাতিক স্তরে কীভাবে সমর্থন জোগাড় করেছে, সেইসব সাফল্যই তুলে ধরা হবে।
সব রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে আনতে পারেন বিচারপতি যশবন্ত বর্মার অভিশংসনের ইস্যুটি। তাঁর বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার হয়েছে। রিজিজু জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই ১০০ জন সাংসদের স্বাক্ষর সংগৃহীত হয়েছে, যা অভিশংসনের প্রস্তাব পেশের জন্য যথেষ্ট।
রাজ্যসভার চেয়ারম্যান জগদীপ ধনখড় সংসদের সকল সদস্যকে আহ্বান জানিয়েছেন গঠনমূলক রাজনীতিতে মনোনিবেশ করতে। তাঁর বক্তব্য, 'মতপার্থক্য হতেই পারে, তর্কও হবে, কিন্তু তা যেন কখনও কটূতা বা বিদ্বেষে না পৌঁছয়।'
এসব ছাড়াও এই বাদল অধিবেশনে মোট ১৭টি বিল আনা হতে পারে। যার মধ্যে রয়েছে মণিপুর জিএসটি বিল, কর আইনের সংশোধনী, জন বিশ্বাস (সংশোধনী) বিল, ভূ-ঐতিহ্য সংরক্ষণ বিল, জাতীয় অ্যান্টি-ডোপিং সংশোধনী বিল ইত্যাদি।
৩২ দিনের মধ্যে মোট ২১টি অধিবেশন বসবে। অধিবেশন শেষ হবে ২১ অগস্ট। সংসদ চত্বরেই শুরু হবে রাজনৈতিক উত্তাপের নতুন পর্ব।