আমেরিকার প্রকাশিত ‘এপস্টিন ফাইলস’-এ প্রধানমন্ত্রী মোদীর নাম উঠে আসায় নতুন বিতর্ক। কেন্দ্র এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে।
.jpeg.webp)
ছবি: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 31 January 2026 22:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কুখ্যাত আমেরিকান যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিন সংক্রান্ত নথি প্রকাশের পরেই নতুন করে উত্তাল হল ভারতীয় রাজনীতি। শুক্রবার আমেরিকার বিচার বিভাগ (US Department of Justice) ‘এপস্টিন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’-এর অধীনে আরও বেশ কিছু নথি প্রকাশ করে। সেই নথির মধ্যেই উঠে এসেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) নাম, যা ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।
প্রকাশিত নথিটির কেন্দ্রে রয়েছে ২০১৭ সালের ৯ জুলাইয়ের একটি ইমেল। ওই দিন জেফ্রি এপস্টিন ‘জেবর ওয়াই’ নামে এক ব্যক্তিকে ইমেলটি পাঠান। প্রাপকের পরিচয় পুরোপুরি স্পষ্ট না হলেও, তিনি এপস্টিনের ঘনিষ্ঠ মহলের একজন বলেই মনে করা হচ্ছে।
ইমেলটিতে এপস্টিন লিখেছিলেন, “ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মোদী পরামর্শ মেনে চলেছেন এবং আমেরিকান প্রেসিডেন্টের সুবিধার্থে ইজরায়েলে নাচ ও গান করেছেন। কয়েক সপ্তাহ আগে তাঁদের দেখা হয়েছিল। এটি কাজ করেছে!” এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই বিতর্কের পারদ চড়তে শুরু করে।
बेहद शर्मनाक!!
Epstein files में नरेंद्र मोदी का नाम आ गया है। अमेरिका के सीरियल रेपिस्ट, बाल यौन अपराधी और मानव तस्कर जेफरी एपस्टीन ने 9 जुलाई 2017 को एक मेल में लिखा 👇
"The Indian Prime Minister Modi took advice and danced and sang in Israel for the benefit of the US… pic.twitter.com/in73ajVjcR— Congress (@INCIndia) January 31, 2026
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের জুন মাসে প্রথমবারের মতো কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইজরায়েল সফরে গিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। তার ঠিক আগেই জুনের শেষ দিকে তিনি আমেরিকা সফরে যান এবং তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই সময়সীমাকে সামনে রেখেই কংগ্রেস একাধিক প্রশ্ন তুলেছে।
এই ইমেলকে হাতিয়ার করে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস দাবি করেছে, ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কোনও যোগাযোগ হয়ে থাকতে পারে। তাদের মতে, ইমেলে উল্লেখ করা ‘পরামর্শ’ মেনেই ইজরায়েল সফরের কর্মসূচি বা কূটনৈতিক অবস্থান নির্ধারিত হয়েছিল। পাশাপাশি, ‘IT WORKED’ বা ‘এটা কাজ করেছে’ বাক্যবন্ধের অর্থ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস।
এই অভিযোগ ও জল্পনার জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে ভারত সরকার। শুক্রবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে স্পষ্ট করে জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদীর ২০১৭ সালের ইজরায়েল সফর ছিল সম্পূর্ণ সরকারি ও ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সফর।
বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, একজন দণ্ডিত অপরাধীর ব্যক্তিগত ইমেলের কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। এই ইমেলকে ‘trashy ruminations’, অর্থাৎ একজন অপরাধীর আবোলতাবোল বকবকানি বলেই উড়িয়ে দেওয়া উচিত।
এই বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। একাংশের মতে, ইমেলে ব্যবহৃত ‘নাচ ও গান’ শব্দবন্ধটি আক্ষরিক অর্থে নয়, বরং কোনও কূটনৈতিক পদক্ষেপ বা রাজনৈতিক সমঝোতার রূপক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে অন্য একদল বিশ্লেষকের মতে, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠতা প্রমাণ করার জন্য জেফ্রি এপস্টিন প্রায়শই অতিরঞ্জিত বা মনগড়া তথ্য ব্যবহার করতেন। এই ইমেলটিও তেমনই কোনও অতিরঞ্জিত বক্তব্য হতে পারে।
উল্লেখ্য, জেফ্রি এপস্টিন মানব পাচার ও শিশু নিগ্রহের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। ২০১৯ সালে জেলবন্দি অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়, যা সরকারিভাবে আত্মহত্যা বলেই জানানো হয়েছিল।
বর্তমানে ‘এপস্টিন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’-এর অধীনে আমেরিকার সরকার লক্ষ লক্ষ নথি সাধারণ মানুষের জন্য প্রকাশ করছে। সেই বিপুল নথির ভাণ্ডার থেকেই সামনে এসেছে এই বিতর্কিত ইমেল। এই ঘটনায় ভারতীয় রাজনীতিতে কী প্রভাব পড়ে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।