সংক্ষিপ্ত সফরেই দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি, পারমাণবিক শক্তি, প্রতিরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), বাণিজ্য, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই-সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বড় সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 20 January 2026 08:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (UAE) সম্পর্কে আরও উষ্ণতা যোগ হল আমিরশাহির প্রেসিডেন্টের ভারত সফরে। মাত্র দুই ঘণ্টার সফরে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করেন আবু ধাবির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ (India UAE meeting)। সংক্ষিপ্ত সফরেই দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি, পারমাণবিক শক্তি, প্রতিরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), বাণিজ্য, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই-সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বড় সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠক শেষে স্পষ্ট, ভারত-আমিরশাহি সম্পর্ক (India UAE relation) এখন শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছে।
জ্বালানি চুক্তিতে বড় পদক্ষেপ
বৈঠকের মূল ফোকাস ছিল জ্বালানি নিরাপত্তা। ভারত ও আমিরশাহি স্বাগত জানিয়েছে HPCL এবং ADNOC Gas–এর মধ্যে ১০ বছরের LNG সরবরাহ চুক্তি স্বাক্ষরকে (India UAE energy deal)। এই চুক্তি অনুযায়ী ২০২৮ সাল থেকে ভারত বছরে ০.৫ মিলিয়ন টন LNG পাবে। এতে আমিরশাহি ভারতের অন্যতম বৃহত্তম এলএনজি সরবরাহকারী হিসেবে উঠে আসবে এবং ভারতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি চাহিদা আরও স্থিতিশীল হবে।
পারমাণবিক শক্তিতে নতুন সহযোগিতা
প্রথমবারের মতো দুই দেশ বেসামরিক পারমাণবিক শক্তিতে যৌথ উদ্যোগ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পারমাণবিক চুল্লি তৈরিতে সব ক্ষেত্রেই সহযোগিতা বাড়ানো হবে। ভারতের নতুন SHANTI আইন আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সহযোগিতার পথ আরও সহজ করবে বলে দুই পক্ষই মত প্রকাশ করেছে।
AI, ডেটা ও ডিজিটাল সহযোগিতা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উদীয়মান প্রযুক্তি ছিল আলোচনার কেন্দ্রে (India UAE AI cooperation)। দুই দেশ সিদ্ধান্ত নিয়েছে,
প্রতিরক্ষা ও সন্ত্রাস দমন
দুই দেশ একটি কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে প্রাথমিক চুক্তিপত্র (Letter of Intent) সই করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন শাখার সফর ও যৌথ মহড়া দু’দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে।
সন্ত্রাসবাদ নিয়ে দু’দেশই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ-সহ সব ধরনের জঙ্গি কার্যকলাপের নিন্দা করেছেন আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট। FATF কাঠামোর আওতায় অর্থ জোগান বন্ধে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়া এবং
বাণিজ্য, বিনিয়োগেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চলেছে দুই 'বন্ধু' দেশ।
CEPA স্বাক্ষরের পর ভারত-আমিরশাহি বাণিজ্য ২০২৪-২৫ সালে ১০০ বিলিয়ন ডলার ছুঁয়েছে। লক্ষ্য স্থির হয়েছে, ২০৩২ সালের মধ্যে বাণিজ্য দ্বিগুণ করে ২০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত করা হবে। আমিরশাহি ডোলেরা (গুজরাত) ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির বিমানবন্দর, বন্দর, এনার্জি হাব এবং স্মার্ট টাউনশিপ গড়ে তোলার প্রকল্পে বিনিয়োগে আগ্রহী। ক্ষুদ্র থেকে শুরু করে মাঝারি এবং বড় উদ্যোগগুলিকেও সাহায্য করা হবে।
মহাকাশ, খাদ্য ও মানবিক সংযোগ
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়
সংক্ষিপ্ত সফর হলেও, এই বৈঠক ভারত-আমিরশাহি সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল, এমনটাই মত কূটনৈতিক মহলের।