সাংবিধানিক পদের মর্যাদা রক্ষার পরিবর্তে তিনি রাজ্যসভার ভিতরে ও বাইরে বিজেপি তথা নরেন্দ্র মোদীর সরকারকে আড়াল করতেই বেশি ব্যস্ত ছিলেন বলে অভিযোগ।
.jpg.webp)
মোদী-শাহ-নাড্ডার গোলকিপার ধনকড়।
শেষ আপডেট: 22 July 2025 10:58
উপরাষ্ট্রপতির (Vice President) পদ থেকে আচমকা ইস্তফা দিয়ে গোটা দেশ এমনকী কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপি নেতৃত্বকে চমকে দিয়েছেন জগদীপ ধনকড় (Jagdwip Dhankar)। তিনি হলেন তৃতীয় উপরাষ্ট্রপতি যিনি মেয়াদ শেষের আগে সরে গেলেন। এর আগে ভিভি গিরি এবং আর ভেঙ্কটরমন মাঝপথে ইস্তফা দেন। দু'জনেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন।

উপরাষ্ট্রপতি পদে ধনকড়ের মনোনয়ন পেশের দিন।
ধনকড় সেখানে স্বাস্থ্যের কারণে ইস্তফার কথা জানিয়েছেন। যদিও তাঁর বক্তব্য নিয়ে সংশয়, অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে ইস্তফার নাটকীয়তা। সোমবার তিনি রাজ্যসভার চেয়ারম্যান (Chairman l, Rajya Sabha) হিসাবে অধিবেশনের সূচনা দিবস পরিচালনা করেছেন্। বিকালে তাঁর অফিস থেকে জানানো হয় বুধবার তিনি নিজের রাজ্য রাজস্থান সফরে যাবেন। কংগ্রেস নেতা তথা রাজ্যসভার সাংসদ জয়রাম রমেশ জানিয়েছেন তিনি সোমবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত ধনকড়ের চেম্বারে ছিলেন। সাতটা নাগাদ তাঁর সঙ্গে ফোনেও কথা হয়। সাড়ে সাতটা নাগাদ ধনকড় ঘোষণা করেন তিনি পদত্যাগ করেছেন।
নানা সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে আরএসএস এবং বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের চাপেই ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছেন ধনকড়। যদিও পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল থেকে শুরু করে উপরাষ্ট্রপতি, কোনও ভূমিকাতেই তাঁকে ওই সব সাংবিধানিক পদের যোগ্য মনে হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল থাকাকালে তিনি যে কুৎসিত নজির গড়েছিলেন তারপর তাঁকে উপরাষ্ট্রপতি করার সিদ্ধান্তে স্পষ্ট ছিল তাঁরা ধনকড়ের মতো একজন পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া করার লোক খুঁজছিলেন। তাই ধনকড়কে উপরাষ্ট্রপতি করার সিদ্ধান্ত ঘোষণার দিন বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা তাঁকে 'জনগণের রাজ্যপাল' সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন।
যদিও সাংবিধানিক পদের মর্যাদা রক্ষার পরিবর্তে তিনি রাজ্যসভার ভিতরে ও বাইরে বিজেপি তথা নরেন্দ্র মোদীর সরকারকে আড়াল করতেই বেশি ব্যস্ত ছিলেন। বিরোধীরা যাতে মোদী সরকারের জালে বল ঠেলতে না পারে, সে জন্য বাংলার রাজ্যপাল থেকে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান, দু'জায়গাতেই ধনকড় হয়ে উঠেছিলেন বিজেপির গোলকিপার।
শুধু বিরোধীরাই নয়, তাঁর রোষ থেকে রক্ষা পায়নি বিচার ব্যবস্থাও। বারে বারে বিচারপতি এবং আদালতের এক্তিয়ার নিয়ে এক্তিয়ার বহির্ভূত প্রশ্ন তুলেছেন। বিচারপতি নিয়োগ, বদলির আইন সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দিলে ক্ষিপ্ত ধনকড় বারে বারে শীর্ষ আদালতের ভূমিকা নিয়ে অনাবশ্যক প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর সেই ভূমিকা নিয়ে নাম না করে সমালোচনা করেছিলেন সনিয়া গান্ধী। কংগ্রেসের সংসদীয় দলনেত্রীকে ধনকড় যে ভাষায় পাল্টা আক্রমণ করেন কোনও উপরাষ্ট্রপতির সেভাবে রাজনৈতিক বিতর্কে জড়ানোর নজির নেই।
তবে আশার কথা হল, দু-চারজন বিচাীপতি মাথা নোয়ালেও সুপ্রিম কোর্টও পাল্টা জবাব দিয়েছে কেন্দ্রের এক্তিয়ার নিয়ে। এমনকী গত ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট রাষ্ট্রপতির কাজকর্ম নিয়েও সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। রাজ্য বিধানসভায় পাশ হওয়া বিল সম্পর্কে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, রাষ্ট্রপতি দিনের পর দিন ফেলে রাখতে পারবেন না, রায়ে বলে শীর্ষ আদালত।
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসাবে ধনকড়ের আচরণ কেন্দ্রের মন্ত্রী, বিজেপির নেতাদেরও ছাপিয়ে গিয়েছিল। রাজভবনকে করে তুলেছিলেন বিজেপির দলীয় দফতর। রাজভবন থেকে সমান্তরাল প্রশাসন চালানোর চেষ্টা করেছেন। ক্রমে তিনিই হয়ে ওঠেন রাজ্যপালদের রোল মডেল। রাজ্যে রাজ্যে সেই সাংবিধানিক পদে আসীন পদাধিকারীরা যেভাবে সুপ্রিম কোর্টের ভৎসর্নার শিকার হচ্ছেন তাতে রাজ্যপাল পদের গরিমাই ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে পদে পদে।