এই সফরের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দুই-দেশ ভ্রমণের দ্বিতীয় পর্যায়ের সূচনা হল।

শেষ আপডেট: 25 July 2025 07:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্রিটেনে সফল কূটনৈতিক সফরের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মালদ্বীপের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। এই সফরের মাধ্যমে তাঁর দুই-দেশ ভ্রমণের দ্বিতীয় পর্যায়ের সূচনা হল। মোদীর সফরকে দুই দেশের সম্পর্কে এক গুরুত্বপূর্ণ পুনর্নির্মাণের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি মহাম্মদ মুইজ্জুর আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী মোদী ২৫ থেকে ২৬ জুলাই মালদ্বীপ সফরে রয়েছেন। আজ, শুক্রবার রাজধানী মালেতে আয়োজিত মালদ্বীপের ৬০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে তিনি ‘গেস্ট অফ অনার’ হিসেবেও অংশগ্রহণ করবেন।
এই সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এটি ২০২৩ সালে মুইজ্জুর নির্বাচনের পর ভারত ও মালদ্বীপের মধ্যে প্রথম উচ্চপর্যায়ের রাষ্ট্রীয় মিটিং। উল্লেখযোগ্যভাবে, মুইজ্জুর শাসনামলে মালদ্বীপের পররাষ্ট্রনীতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে, যার বড় প্রভাব পড়েছে ভারত-মালদ্বীপ সম্পর্কের ওপর।
প্রধানমন্ত্রী মোদী ও রাষ্ট্রপতি মুইজ্জুর মধ্যে এই সফরে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হতে চলেছে, যার মূল বিষয়বস্তু থাকবে — কৌশলগত সহযোগিতা, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, মোদীর এই সফরে তিনি রাষ্ট্রপতি মুইজ্জুর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করবেন এবং মালদ্বীপে ভারতের সহায়তায় তৈরি একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।
ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিস্রি জানিয়েছেন, "রাষ্ট্রপতি মুইজ্জুর শাসনামলে এই প্রথমবার কোনও সরকারপ্রধান মালদ্বীপে রাষ্ট্রীয় সফরে এলেন।"
তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালে যে ‘India-Maldives Joint Vision for Comprehensive Economic and Maritime Security Partnership’ তৈরি হয়েছিল, সেটিই দুই দেশের ভবিষ্যৎ সহযোগিতার প্রধান রূপরেখা হিসেবে কাজ করছে। এই সফরে তার অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলতে পারে।
মালদ্বীপে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার জি বালাসুব্রহ্মণ্যম জানিয়েছেন, এই সফরে ভারত ও মালদ্বীপের মধ্যে একাধিক সমঝোতা স্মারক বা মৌ (MoUs) স্বাক্ষরিত হবে।
তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে প্রেসিডেন্সিতে একাধিক বৈঠক হবে। এরপর ভারতের অর্থনৈতিক সহায়তায় নির্মিত বহু প্রকল্প — তা সে লাইন অফ ক্রেডিট হোক বা গ্রান্ট হোক — উদ্বোধন বা হস্তান্তর করা হবে। সফরের দ্বিতীয় দিনে আরও কিছু বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সন্ধ্যায় স্বাধীনতা দিবস উদযাপন হবে, যেখানে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ‘গেস্ট অফ অনার’ হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এর পরেই সফর শেষ হবে।"
তাহলে কি এটাই ভারত-মালদ্বীপ সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা?
কূটনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রপতি মুইজ্জুকে সাধারণত চিনঘেঁষা নেতৃত্ব হিসেবেই দেখা হয়ে থাকে। তাঁর ক্ষমতায় আসার পর ভারত-মালদ্বীপ সম্পর্কে বেশ টানাপড়েন দেখা দেয়। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।