কংগ্রেসের দাবি, এতক্ষণে গোটা দেশ টের পেয়ে গিয়েছে যে, যা হয়েছে তার সবকিছুতেই মোদী সরকার সামনের দিকে এগিয়ে ছিল না।

রাহুল গান্ধী বেশ কয়েকদিন ধরেই মোদীর কাছে এই প্রশ্ন তুলে আসছেন।
শেষ আপডেট: 31 May 2025 17:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান শনিবার আমতা আমতা করে হলেও মেনে নেন যে, অপারেশন সিঁদুর ও পরবর্তী সংঘর্ষে পাকিস্তানি হামলায় ভারতেরও যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছিল। তার পরেই কংগ্রেস মোদী সরকারের কাছে দাবি তুলেছে, অপারেশন সিঁদুরে ভারতীয় বাহিনীর ক্ষতির পরিমাণ স্পষ্ট করে জানাতে। একইসঙ্গে কারগিল যুদ্ধের পর যেমন সামরিক গতিবিধির বিভিন্ন দিক খুঁটিয়ে বিচার করতে একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়েছিল, এবারেও সেরকম কিছু হবে কিনা।
কংগ্রেসের দাবি, এতক্ষণে গোটা দেশ টের পেয়ে গিয়েছে যে, যা হয়েছে তার সবকিছুতেই মোদী সরকার সামনের দিকে এগিয়ে ছিল না। শুধু তাই নয়, সামরিক প্রযুক্তিগতি বিষয়ের উপর নতুন করে বিচার-বিশ্লেষণের সময় এসেছে। কারণ, চারদিনের সংঘর্ষে ভারতও যুদ্ধবিমান হারিয়েছে। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ কারগিল পর্যালোচনা কমিটির দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বলেন, ভারতের তৎকালীন স্ট্র্যাটেজিক অ্যাফেয়ার্স গুরু কে সুব্রহ্মণ্যমের নেতৃত্বে এই কমিটি গঠন হয়েছিল। উল্লেখ্য, প্রয়াত সুব্রহ্মণ্যম হলেন বর্তমান বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বাবা।
ওই কমিটি একটি রিপোর্টও পেশ করেছিল, এই দৃষ্টান্ত তুলে রমেশ বলেন, কারগিলের যুদ্ধ শেষ হওয়ার তিনদিন পরেই এই কমিটি গঠন হয়। ২০০০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি কমিটি সংসদে তার রিপোর্ট পেশ করে। এই অবস্থায় সিঙ্গাপুরে চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ যা মেনে নিয়েছেন, তার উপর কি মোদী সরকার সেরকম কোনও কমিটি গঠন করবে? প্রশ্ন তুলেছেন জয়রাম রমেশ।
দুই দেশের সংঘর্ষ নিয়ে এই প্রথম মুখ খুলেছেন চৌহান। ঠিক কতগুলো ভারতীয় বিমান ধ্বংস হয়েছে সেই হিসেব না দিলেও তিনি এটুকু বলেন, হারানো বিমানের সংখ্যা নয়, বরং শত্রুর হামলায় যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, সে ব্যাপারে কৌশলগত শিক্ষার উপরই মনোযোগী হওয়া উচিত। ভারত সেটাই করেছে এবং দু'দিন পর পাল্টা প্রত্যাঘাত হেনেছে।
দুই দেশের সংঘর্ষের সময় কতগুলি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান তিনি দেননি, ঠিকই, তবে স্বীকার করে নিয়েছেন যে বিমান ধ্বংস হয়েছে। তিনি এও বলেছেন যা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিয়ে চিন্তা করা হয়নি, বরং পরিস্থিতি থেকে কৌশলগত শিক্ষা নিয়ে দু'দিন পর সেই কৌশল কাজে লাগানো হয়েছে। উল্লেখ্য, রাহুল গান্ধী বেশ কয়েকদিন ধরেই মোদীর কাছে এই প্রশ্ন তুলে আসছেন যে, ভারতীয় বিমানবাহিনীর কটা যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে তা যেন প্রকাশ করা হয়। যা নিয়ে রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসকে একের পর এক তির্যক আক্রমণ করেছিলেন বিজেপির অমিত মালব্য থেকে শুরু করে তাবড় নেতারা। কিন্তু, খোদ সিডিএস ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান ধ্বংস হওয়ার কথা মেনে নেওয়ায় জবাব চাওয়া হয়েছে কংগ্রেসের তরফ থেকে।