সিবিআইয়ের সন্দেহ, এটি বড় কোনও মানবপাচার চক্রের অংশ হতে পারে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 10 August 2025 11:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্ধমান থেকে গত বছরের অগস্টে নিখোঁজ হয় এক নাবালিকা। টিউশন পড়তে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল, আর ফেরেননি। তদন্তে নেমে সিবিআই জানতে পারে, মেয়েটিকে অপহরণ করে বিয়ের জন্য অবৈধভাবে দু'বার বিক্রি করা হয়েছিল। অবশেষে শুক্রবার রাজস্থানের পালি জেলা থেকে তাঁকে উদ্ধার করে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। গ্রেফতার হয়েছে পাঁচ অভিযুক্ত-ভরৎ কুমার, জগদীশ কুমার, মেনা দাপুবেন, রতা রাম ও দিলীপ কুমার।
সিবিআই জানিয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার সময় ওই মেয়ে নাবালিকা ছিলেন। কিন্তু বিয়ের জন্য তৈরি করা হলফনামায় তাঁকে প্রাপ্তবয়স্ক দেখানো হয়। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এটি বড় কোনও মানবপাচার চক্রের অংশ হতে পারে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালের ৯ অগস্ট। স্থানীয় পুলিশের তদন্তে ফল না মেলায় এবং পরে সিআইডি-র তদন্তে ভার নিলেও সাফল্য না আসায়, নিখোঁজ মেয়েটির মা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। হাইকোর্ট ২০২৪ সালে মামলাটি সিবিআইকে দেয়। চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি মামলাটি হাতে নেয় সিবিআই। সূত্র এবং কল ডিটেল বিশ্লেষণ করে জানা যায়, মেয়েটিকে রাজস্থানের পালিতে পাঠানো হয়েছিল। সেখানেই অভিযুক্তদের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় অপরাধ নথি ব্যুরোর হিসাব বলছে, ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে দেশে মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের সংখ্যা লাফিয়ে বেড়েছে, ৩,৭৮,২৩৬ (২০১৮), ৪,০৫,৩২৬ (২০১৯), ৩,৭১,৫০৩ (২০২০), ৪,২৮,২৭৮ (২০২১) এবং ৪,৪৫,২৫৬ (২০২২)। যা নিয়ে রীতিমতো চিন্তায় প্রশাসনিক আধিকারিকরা। মানবপাচারের মতো অপরাধও লাফিয়ে বাড়ছে পাল্লা দিয়ে।