পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত কমল কিশোর ওরফে ভদ্দর পুরনো অপরাধী। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 31 May 2025 17:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের লখনউ শহরে ঘটল চাঞ্চল্যকর এক এনকাউন্টার। ৪ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর পালানোর সময় অভিযুক্তের ওপর সটান গুলি চালিয়ে দিলেন পুলিশ অফিসার সাকিনা খান। ২৮ মে লখনউয়ের মাদেয়গঞ্জ এলাকায় এই অভিযান চালানোর সময় এই ঘটনা ঘটে।
ধর্ষণকাণ্ডের পর অভিযুক্ত কমল কিশোর ওরফে ভদ্দর পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ একটি দল গঠন করে, নেতৃত্বে ছিলেন সাব-ইন্সপেক্টর (SI) সাকিনা খান। অভিযুক্তকে খুঁজে বের করতে দলটি পৌঁছয় মাদেয়গঞ্জের বান্ধা রোড এলাকার একটি বস্তিতে।
কমল পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে প্রথম গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষায় এবং অভিযুক্তের পালানো আটকাতে এসআই সাকিনা খান তাঁর সার্ভিস রিভলভার থেকে পাল্টা গুলি চালাতে বাধ্য হন। এতে অভিযুক্তের পায়ে গুলি লাগে এবং সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
এরপর দ্রুত তাকে গ্রেফতার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, বেশ কিছু কার্তুজ, একটি মোটরবাইক উদ্ধার করে পুলিশ। পুরো এনকাউন্টারটির তথ্য পুলিশ রেকর্ডে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
লখনউ সেন্ট্রাল পুলিশের ডেপুটি কমিশনার জানিয়েছেন, অভিযুক্ত কমল কিশোর ওরফে ভদ্দর পুরনো অপরাধী। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। সীতাপুর জেলার সিধৌলি এলাকার বাসিন্দা হলেও মাদেয়গঞ্জে একটি বস্তিতে লুকিয়ে ছিল সে।
পুলিশের সন্দেহ, সম্ভবত শিশুদের দিকে বিশেষ নজর ছিল অভিযুক্তের। কারণ মিষ্টির লোভ দেখিয়ে নির্জনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করার মতো তার এক পুরনো অভ্যাসের কথা জানা গেছে। পুলিশ এই বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।

সাব-ইন্সপেক্টর সাকিনা খান (বাঁদিকে) মিডিয়ার সামনে পুলিশ আধিকারিক (ডানদিকে)
এই ঘটনায় শুধু সাহসিকতা নয়, মানবিকতার পরিচয়ও দিয়েছেন সাব-ইন্সপেক্টর সাকিনা খান। শিশুটি যাতে মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সে জন্য তিনি কাউন্সেলিং সহ নানা সহায়তা করছেন। আইন রক্ষার পাশাপাশি ধর্ষণের শিকার ওই শিশুটির পাশে থাকার এই ভূমিকার প্রশংসা করেছে পুলিশ বিভাগ।
এই ঘটনা অবশ্য আলাদা নয়। সম্প্রতি দিল্লি এবং হরিয়ানাতেও ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশ এনকাউন্টার হয়েছে। মার্চ ২০২৫-এ দিল্লিতে এমন এক অভিযুক্তকে গুলি করে আহত করার পর গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতার এড়াতে পুলিশের উদ্দেশে গুলি ছোড়ার অভিযোগও ছিল তার বিরুদ্ধে। ফেব্রুয়ারিতে হরিয়ানার এক অভিযুক্তকেও একইভাবে পুলিশের গুলিতে জখম করে গ্রেফতার করা হয়েছিল।