পাকিস্তান যে ভারতের যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে তা মেনে নিয়ে এককথায় দেশের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা বাড়িয়েছেন সিডিএস।

সিডিএস অনিল চৌহান
শেষ আপডেট: 3 June 2025 18:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানের বিরুদ্ধে 'অপারেশন সিঁদুর' (Operation Sindoor) অভিযানে ভারতের যুদ্ধবিমানও ধ্বংস হয়েছিল। চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ অনিল চৌহানের (CDS Anil Chauhan) এই স্বীকারোক্তি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। যদিও ঠিক কতগুলি ভারতীয় বিমান ধ্বংস হয়েছে সেই হিসেব না দিলেও তিনি বলেছিলেন, হারানো বিমানের সংখ্যা নয়, বরং শত্রুর হামলায় যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, সে ব্যাপারে কৌশলগত শিক্ষার ওপরই মনোযোগী হওয়া উচিত। এবার তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বোঝাতে চাইলেন সেনার আদর্শ কী হওয়া উচিত।
সম্প্রতি পুণের সাবিত্রীবাই ফুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন সিডিএস। সেখানেই তিনি বলেন, কতটা ক্ষয়ক্ষতি হল সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, পরিণাম কী হল সেটাই আসল ব্যাপার। আদর্শ সেনার মনোভাব এমনই হওয়া উচিত এবং ভারতীয় সেনা এই মনোভাব নিয়েই চলে। অনিল চৌহানের কথায়, 'ক্ষতির পরিমাণ কত সেটা নিয়ে সেনা ভাবেই না। ক্ষতির পরিমাণ নিয়েও চিন্তিত হয় না। কারণ সেনার কাছে অভিযান ফলাফল বেশি গুরুত্বপূর্ণ।'
পাকিস্তান যে ভারতের যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে তা মেনে নিয়ে এককথায় দেশের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা বাড়িয়েছেন সিডিএস। কিন্তু তিনি বারবার এটাও বলার চেষ্টা করেছেন, সংঘাতের আবহে ভুল হওয়াটা বড় ব্যাপার নয়। তবে কত দ্রুত ভুল শুধরে নিয়ে প্রত্যাঘাত করা হয়েছে, সেটাই আসল কথা। আর এক্ষেত্রে ভারতীয় সেনা সঙ্গে সঙ্গে রণকৌশল বদলে হামলা চালিয়েছিল। সবশেষে কী হয়েছে, তা গোটা বিশ্ব দেখেছে।
ভারত যে সিঁদুর অভিযানে সাফল্য পেয়েছে তা মানতে রাজি হয়নি পাকিস্তান। বরং পাল্টা একাধিক ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করেছে তারা। ভারতের চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ এই প্রসঙ্গে বলেছিলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ‘ভুয়ো তথ্য’ মোকাবিলায় গুরুত্ব দিয়েছিলেন তাঁরা। নাহলে পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারত। তিনি এও জানান, অভিযানের ১৫ শতাংশ সময় ব্যয় হয়েছে পাকিস্তানের ছড়ানো ভুল তথ্য মোকাবিলাতেই।
উল্লেখ্য, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বেশ কয়েকদিন ধরেই মোদীর কাছে এই প্রশ্ন তুলে আসছেন যে, ভারতীয় বিমানবাহিনীর কটা যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে তা যেন প্রকাশ করা হয়। যা নিয়ে রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসকে একের পর এক তির্যক আক্রমণ করেছিলেন বিজেপির অমিত মালব্য থেকে শুরু করে তাবড় নেতারা। কিন্তু সিডিএস-এর স্বীকারোক্তির পর কার্যত অস্বস্তি বেড়েছে বিজেপিরই।