.webp)
শেষ আপডেট: 24 November 2023 13:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইম্ফলের একটি বড় হাসপাতালে স্থানীয় মানুষ হামলা চালিয়েছে। জওহরলাল নেহরু ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস নামে ভারত সরকারের ওই হাসপাতালটি মণিপুরের একমাত্র সুপার স্পেশ্যালিটি চিকিৎসা কেন্দ্র। বৃহস্পতিবার রাতে কয়েক হাজার মানুষ হাসপাতালটি ঘিরে ফেলে। গেটের বাইরে আটকে পড়ে হাসপাতালে আসা অ্যাম্বুলেন্স, আটকে পড়েন রোগীর পরিজন, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীরা। পুলিশ লাঠিচার্জ করে, টিয়ার গ্যাসের সেল ফাটিয়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে।
পুলিশ সূত্রে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা মেইতেই সম্প্রদায়ের মানুষ। রটে যায়, পুলিশ এক কুকি জঙ্গিকে সেখানে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেছে। মেইতেইরা দাবি করে কুকি জঙ্গির চিকিৎসা করা যাবে না।
আসলে পুলিশ সেখানে পড়শি দেশ মায়ানমারের এক গুলিবিদ্ধ নাগরিককে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেছিল। হাসপাতালে আনার কিছু পরেই তিনি মারা যান। মায়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধে সেনার গুলিতে ওই ব্যক্তি আহত হন।
মায়ারমানে গত দেড় মাস যাবৎ সেনার সঙ্গে বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর যৌথ কমান্ডের লড়াই চলছে। দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন বিদ্রোহীদের দখলে। তাদের হামলার মুখে অসহায় মায়ানমার সেনার বেশ কয়েকজন মিজোরামে আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয় নিয়েছে সাধারণ নাগরিকেরাও।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের খবর, মায়ানমার অন্তত চার ভাগ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনটি জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব সেনা নিজ নিজ এলাকা দখল করে নিয়েছে। মায়ানমার সেনা বারে বারে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েও হারানো এলাকা পুনরুদ্ধার করতে পারেনি।
ইম্ফলের হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আনা মায়ানমারের ওই নাগরিক আহত অবস্থায় কোনওরকমে সীমান্ত পেরিয়ে মণিপুরে ঢুকে পড়লে ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী তাঁকে উদ্ধার করে। প্রথমে তাকে অসম রাইফেলসের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। অবস্থার অবনতি হলে পুলিশ ইম্ফলের ওই প্রথমসারির হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেছিল। কিছু সময় পরই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। সেই ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়ার প্রতিবাদেই অশান্ত হয়ে ওঠে হাসাপাতাল চত্বর। বিঘ্ন ঘটে হাসপাতালের স্বাভাবিক কাজকর্মে।
ঘটনাচক্রে মায়ানমারের ওই নাগরিকের সঙ্গে মণিপুরের কুকি জো সম্প্রদায়ের জাতিগত মিল রয়েছে। এই কারণেও রটে যায়, আহত ব্যক্তি কুকি জঙ্গি। মেইতেই সম্প্রদায়ের লোকজনের দাবি, কুকি জঙ্গির চিকিৎসা করানো যাবে না ইম্ফলের হাসপাতালে। প্রসঙ্গত, ইম্ফল উপত্যকা মূলত মেইতেইদের দখলে। সেখানে কুকিরা খুবই সংখ্যালঘু। ৩ মে জাতিদাঙ্গা শুরুর পর থেকে মেইতেইদের হামলার মুখে কুকিরা রাজধানী শহর ছেড়ে পালায়।