একটি শিশুর খেলতে গিয়ে মাথা ফেটে যাওয়ায়, তার মাথায় সেলাই করার পরিবর্তে ৫ টাকার ফেভিকুইক দিয়ে জুড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ডাক্তারের বিরুদ্ধে।

পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই ডাক্তারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।
শেষ আপডেট: 20 November 2025 17:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের মিরাটের এক ডাক্তারের অভিনব চিকিৎসায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। একটি শিশুর খেলতে গিয়ে মাথা ফেটে যাওয়ায়, তার মাথায় সেলাই করার পরিবর্তে ৫ টাকার ফেভিকুইক দিয়ে জুড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ডাক্তারের বিরুদ্ধে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই ডাক্তারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।
সর্দার জসপিন্দর সিং থাকেন মিরাটের অভিজাত এলাকা জাগৃতি বিহারে। তাঁর এবং তাঁর স্ত্রীর অভিযোগ, তাঁদের ঘরের মধ্যেই খেলা করতে গিয়ে টেবিলের কোণায় ধাক্কা লেগে মাথা ফাটিয়ে ফেলে। গলগল করে রক্ত বেরনো অবস্থায় তাঁরা তাকে নিয়ে যান বেসরকারি ভাগ্যশ্রী হাসপাতালে। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার বাচ্চাটির ক্ষত সেলাই না করে তাঁদের ৫ টাকা দামের একটি ফেভিকুইক কিনে আনতে বলেন বলে অভিযোগ।
পরিবারের দাবি, ফেভিকুইক এনে দেওয়া হলে ওই ডাক্তার তা দিয়ে ক্ষতস্থান জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাতে বাচ্চাটি জ্বালা-যন্ত্রণায় আরও চিৎকার শুরু করে। তখন ডাক্তার তাঁদের আশ্বাস দিয়ে বলেন, সে ভয় পেয়ে চিৎকার করে কাঁদছে। কিছু সময় বাদে ব্যথা কমে গেলেই কান্নাও থেমে যাবে। কিন্তু, সেই রাতে ব্যথা আরও বাড়তে থাকলে পরিবারের লোকরা তাকে পরদিন সকালে লোকপ্রিয় হাসপাতালে নিয়ে যান।
সেখানকার ডাক্তাররা তিন ঘণ্টার চেষ্টায় ফেভিকুইক তুলতে সমর্থ হন। কারণ, ততক্ষণে ওই আঠা জমে চামড়ার সঙ্গে আটকে গিয়েছিল। আঠা তোলার পর ডাক্তাররা কাটা জায়গায় চারটি সেলাই করেন। পরিবারের অভিযোগ, পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত। তাঁদের অভিযোগ, ফেভিকুইক যদি চোখে ঢুকে যেত, তাহলে সে দৃষ্টিহীন হয়ে যেতে পারত।
মিরাটের মুখ্য মেডিক্যাল অফিসার জানান, তিনি ঘটনার কথা শুনেছেন। শিশুটির পরিবার অভিযোগ করেছে। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সত্যতা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাচ্চাটির বাবা-মা বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের নজরেও এনেছেন।