গ্রেটার নয়ডার এক হাসপাতালে সিজারিয়ান ডেলিভারির সময় নারীর পেটে দেড় ফুট সার্জিক্যাল কাপড় ফেলে রাখার অভিযোগ।

ছবি: এআই
শেষ আপডেট: 28 December 2025 09:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিকিৎসায় গাফিলতির এক চরম নিদর্শন দেখা গেল গ্রেটার নয়ডার তুঘলকপুরের বাকসন হাসপাতালে। অভিযোগ উঠেছে, ২০২৩ সালে এক নারীর সিজারিয়ান ডেলিভারির সময় চিকিৎসকরা ভুলবশত তাঁর পেটের ভেতর প্রায় দেড় ফুট (আধ মিটার) লম্বা একটি সার্জিক্যাল কাপড় ফেলে রেখেছিলেন। এই ঘটনার জেরে দীর্ঘ দেড় বছর অসহ্য যন্ত্রণায় ভোগার পর আদালতের হস্তক্ষেপে গত ২৪ ডিসেম্বর নলেজ পার্ক থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগকারী আনশুল বর্মা গ্রেটার নয়ডার ডেল্টা ওয়ান এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় গৃহকর্মী। তিনি জানান, ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর বাকসন হাসপাতালে ডা. অঞ্জনা আগরওয়ালের তত্ত্বাবধানে তাঁর প্রসবকালীন অস্ত্রোপচার হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই সময় অবহেলার কারণে কাপড়টি তাঁর পেটে থেকে যায়। এফআইআর-এ ডা. অঞ্জনা আগরওয়াল, ডা. মণীশ গোয়েল ছাড়াও গৌতম বুদ্ধ নগরের চিফ মেডিকেল অফিসার (CMO) নরেন্দ্র কুমার এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের চন্দন সোনি ও আশা কিরণ চৌধুরীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অস্ত্রোপচারের পর থেকেই আনশুলের পেট ব্যথা বাড়তে থাকে। তিনি মুজাফফরনগর ও গ্রেটার নয়ডার শারদা হাসপাতালসহ একাধিক জায়গায় চিকিৎসা করান, কিন্তু কেউ আসল কারণ ধরতে পারেননি। এমনকি ২০২৫ সালের এপ্রিলে জিআইএমএস (GIMS) হাসপাতালে এমআরআই করালেও রিপোর্ট স্বাভাবিক আসে।
অবশেষে গত ২২ এপ্রিল কৈলাশ হাসপাতালে একটি ল্যাম্প ধরা পড়লে পুনরায় অস্ত্রোপচার করা হয়। সেই সময়ই চিকিৎসকরা তাঁর পেট থেকে আধ মিটার লম্বা ওই কাপড়টি উদ্ধার করেন। আনশুলের কাছে এর ভিডিও ও ছবি প্রমাণ হিসেবে রয়েছে।
আনশুলের স্বামী সিএমও-র কাছে লিখিত অভিযোগ জানালেও অভিযোগ উঠেছে যে, তদন্তে ইচ্ছাকৃত দেরি করা হয়েছে এবং উদ্ধার হওয়া কাপড়টি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়নি। উল্টো তাঁদের মুখ বন্ধ রাখার জন্য অভিযুক্তরা হুমকি দিয়েছেন বলেও দাবি করেছেন ওই নারী। এই গাফিলতির কারণে তাঁকে মোট দুটি বড় অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে এবং দ্বিতীয়বার ৮ ইউনিট রক্ত দিতে হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, ভবিষ্যতে তাঁর গর্ভধারণ ক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (SHO) সর্বেশ চন্দ্র জানিয়েছেন, এফআইআর দায়ের হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। অন্যদিকে সিএমও নরেন্দ্র কুমার অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, সময়মতো তদন্তকারীদের কাছে কাপড়টি জমা না দেওয়ায় প্রক্রিয়ায় দেরি হয়েছে। তিনি আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।