ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল পাকিস্তানকে সতর্কবাণী শুনিয়ে বলেন, নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে রোজ রোজ ঘৃণাভাষণ ঠিক হচ্ছে না।

পাকিস্তানের নেতৃত্ব ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামার উসকানি দিয়ে চলেছে।
শেষ আপডেট: 14 August 2025 18:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেশি চেল্লাবেন না। এককদম ভুল পথে চললেই যন্ত্রণাদায়ক পরিণতি ভোগ করতে হবে। বৃহস্পতিবার প্রায় এই ভাষাতেই পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ থেকে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে সতর্ক করে দিল ভারত। এদিন ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল পাকিস্তানকে সতর্কবাণী শুনিয়ে বলেন, নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে রোজ রোজ ঘৃণাভাষণ ঠিক হচ্ছে না। অবিলম্বে তা বন্ধ করুক ইসলামাবাদ। একটিও যদি ভুল পদক্ষেপ করে পাকিস্তান তাহলে হিতে বিপরীত হবে। ওদের বেদনাদায়ক পরিণতির মুখে পড়তে হবে।
বিদেশ মুখপাত্র আরও বলেন, আমরা বিভিন্ন খবরে দেখছি যে, পাকিস্তানের নেতৃত্ব ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামার উসকানি দিয়ে চলেছে। ওরা অনাবশ্যক ঘৃণা ছড়িয়ে হম্বিতম্বি করছে। এটা নতুন কোনও বিষয়ও নয়। পাকিস্তান বরাবরই ভারতের বিরুদ্ধে তর্জন-গর্জন করে চলে। ওদের এসবের কারণ হল, ওরা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই এসব করে বেড়ায়। কিন্তু, এই করতে গিয়ে যদি একটিও ভুল পদক্ষেপ করে ফেলে তাহলে সম্প্রতি যেভাবে কাজ হয়েছে, সেরকমই কপালে প্রবল দুঃখ নাচবে পাকিস্তানের।
প্রসঙ্গত, এদিনই পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সেদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ভারত বিরোধী বড়বড় তম্বি করেন। শরিফ ভারতের বিরুদ্ধে চারদিনের সীমান্তযুদ্ধ ‘মারকা-ই-হক’এ ইসলামাবাদ ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিয়ে এসেছে দেশের জন্য বলে দাবি করলেন। এদিন সক্কাল সক্কাল শরিফ এক এক্সবার্তায় দাবি করেন, দেশের সেনাবাহিনী তাদের অতীতের গৌরব পুনরুদ্ধার করেছে। শত্রুপক্ষকে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করেছে।
পাক প্রধানমন্ত্রী আল্লার শরণ নিয়ে বলেন, আমাদের বীর সশস্ত্র বাহিনী পাক সেনার অতীতের গৌরব ফিরিয়ে এনেছে। প্রত্যাঘাতের মধ্য দিয়ে আমরা শত্রুপক্ষের মিথ্যা অহঙ্কারকে চুরমার করে দিয়েছি। ওদের আঘাতকে আমরা অভেদ্য দেওয়ালের মতো গড়ে দেশকে রক্ষা করেছি। আমাদের সামরিক ক্ষমতা, সাহসী যোদ্ধাদের বিশ্বাস এবং আকাশবীররা শত্রুপক্ষকে নতজানু করে দিয়েছে। এরপরেই পাক প্রধানমন্ত্রী শহিদ সেনাদের স্মরণ করে বুঝিয়ে দেন যে, প্রকৃতপক্ষে অপারেশন সিঁদুরে কত সেনা প্রাণ হারিয়েছেন এই যুদ্ধে।
দীর্ঘ বার্তায় শরিফ আরও লিখেছেন, এটা নেহাত কোনও সেনা সংঘর্ষ নয়। দ্বিজাতিতত্ত্বের সত্যের জয়। এটাই আমাদের রাষ্ট্র গঠনের শিকড়। সেই একই আবেগে আমরা জল ভাগাভাগি থেকে দেশের সমস্ত স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে অতন্দ্র প্রহরীর মতো দেশকে রক্ষা করে যাব। পাকিস্তানে সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কাজ করে যাব। তাঁর আরও দাবি, পাকিস্তান একটি শান্তিপ্রিয় দেশ। আমরা কূটনীতি ও আলোচনার ভিত্তিতে মীমাংসা করতে চাই। ভারতেরও তেমনই জম্মু-কাশ্মীর সমস্যা সহ যে কোনও বিষয়ে আলোচনায় বসা উচিত বলে শরিফের দাবি।