ইন্দোরে প্রেমিকাকে খুন করে দেহের পাশে মদ খেয়ে রাত কাটায় অভিযুক্ত। পরদিন প্ল্যানচেট করে মৃত প্রেমিকার আত্মার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছিল বলে দাবি পুলিশের।

ভোপালে খুন
শেষ আপডেট: 18 February 2026 16:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক বছর ধরে প্রেম। বিয়ে নিয়ে দুজনের মধ্যে অশান্তি চলছিল কিন্তু বিরাট বাড়াবাড়ি কখনোই কারও চোখে পড়েনি। ১৩ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ দ্বারকাপুরীর একটি ফ্ল্যাট থেকে পচা গন্ধ বের হতে শুরু করে। প্রতিবেশীদের অভিযোগ পেয়ে দরজা ভেঙে পুলিশ তাজ্জব হয়ে যায়। ভিতরে পড়ে এক তরুণীর নগ্ন দেহ। বাইরে দিয়ে তালা বন্ধ ছিল ফ্ল্যাটটি। তাঁর গলায় দড়ির দাগ তখনও বেশ স্পষ্ট।
আত্মহত্যা নয় বুঝতে পেরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। যা যা সামনে আসে তা সিনেমার চেয়েও কম কিছু নয়। জানা যায়, ওই তরুণী এমবিএ পড়ছিলেন। পীযূষ ধমনোদিয়া নামের এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। পরিবারের কয়েকজন বিষয়টি জানতেন। পীযূষকে চিনতেন অনেকে। মেয়েটিকে সন্দেহ করত সে। বিভিন্ন বিষয়টি নিয়ে সংশয় ছিল তার মনে।
পুলিশ জানাচ্ছে, ১০ ফেব্রুয়ারি পীযূষ ওই তরুণীকে তার বাড়িতে ডেকে পাঠায়। ভাড়ার ফ্ল্যাটে থাকত সে। সেখানে প্রথমে সহবাস করে পরে আবারও বিয়ে নিয়ে বচসা হয় এবং সে তরুণীকে গলায় দড়ি পেচিয়ে খুন করে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে পেটে ছুরি মারা হয়। এই পর্যন্ত আর পাঁচটা খুনের মতোই লাগছিল এটাও কিন্তু এরপরের ঘটনা খানিকটা অবাক করা, বিকৃত মানসিকতার পরিচয় দেয়।
পুলিশ জানাচ্ছে, প্রেমিকার মৃত্যুর পর তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের চেষ্টা করে যুবক, করা হয় মারধর, যৌন নিগ্রহ। দেহের পাশে বসে এরপর মদ্যপান করে সে।
খুনের পর ভিডিও ও নাম নষ্ট করার চেষ্টা করে প্রেমিকার। তাঁর ফোন নিয়ে অশ্লীল ভিডিও ও মেসেজ পাঠান পরিচিতদের। এসব করা হয়ে গেলে ইন্দোর ছেড়ে ট্রেনে চেপে চলে যায় পানভেল (Panvel)। সেখানে এক হোটেলে থাকে যুবক। সেখানেই ইউটিউবে (YouTube) সার্চ করে কীভাবে মৃতের আত্মার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়। এমনকী, হোটেল রুমে তন্ত্রসাধনাও করে তরুণীর আত্মাকে ডাকার জন্য।
পরে মুম্বই (Mumbai) গিয়ে কয়েক রাত লোকাল ট্রেনে কাটিয়ে মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলে। এত কিছুর পরও পুলিশ তাকে ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রেম দিবসের দুপুরে গ্রেফতার করে।
মেয়েটির পরিবারের অবিযোগ, মানসিক চাপের মধ্যে ছিল তাদের সন্তান এবং ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছিল দিনের পর দিন। এমনকি, মেয়ের কলেজ ফি-ও মেটাতে চাপ দিত অভিযুক্ত। এসবটাই পুলিশ তদন্ত করে দেখতে। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে অভিযুক্তকে।
গ্রেফতারের পর পুলিশকে তেমন কিছু জানায়নি যুবক। মুখে হাসি, নির্লিপ্ত আচরণ চিন্তায় ফেলেছে দুঁদে আধিকারিকদেরও। কিছু বললেই যুবক জানাচ্ছে, 'যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। জেনে কী করবেন? ওসব ভুলে যান।' আবার কখনও বলে উঠছে, 'সময় হলে সব বলব।'