
শেষ আপডেট: 10 December 2023 13:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় আইনে এখনও পর্যন্ত বৈবাহিক ধর্ষণের কোনও স্থান নেই। অর্থাৎ, বিয়ের পর যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্ত্রীর সম্মতির কোনও ভূমিকা নেই। তারই প্রতিফলন এবার দেখা গেল এলাহাবাদ হাইকোর্টের একটি রায়ে। সঞ্জীব গুপ্তা নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পণ চাওয়া, মারধর করা এবং বৈবাহিক ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছিলেন তাঁর স্ত্রী। তার শুনানিতে আদালত সাফ জানিয়ে দিল, স্ত্রীর বয়স ১৮ বছরের বেশি হলে তাঁর ক্ষেত্রে বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধের তকমা দেওয়া যাবে না।
২০১৩ সালে সঞ্জীব গুপ্তার বিরুদ্ধে তাঁর স্ত্রী গাজিয়াবাদ থানায় ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারা এবং পণ বিরোধী আইন অনুযায়ী এফআইআর দায়ের করেছিলেন। গাজিয়াবাদের ট্রায়াল কোর্ট অভিযুক্তকে সবকটি ধারাতেই দোষী সাব্যস্ত করে। ট্রায়াল কোর্টের সেই রায়ের বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতে মামলা করেন অভিযুক্ত। কিন্তু সেখানেও বিচারক ট্রায়াল কোর্টের নির্দেশ বহাল রাখে। এরপরেই আদালতের রায়ের পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টে পিটিশন দায়ের করে অভিযুক্ত। সেই মামলার শুনানিতে হাইকোর্টের বিচারপতিদের একটি বেঞ্চ ভারতীয় দন্ডবিধির ৩৭৭ ধারায় দায়ের হওয়া বৈবাহিক ধর্ষণের অভিযোগ সম্পর্কে একথা জানিয়েছে।
আদালত মনে করিয়ে দিয়েছে, বৈবাহিক ধর্ষণ এই দেশে এখনও অপরাধ হিসেবে মান্যতা পায়নি। বিচারপতিরা জানিয়েছেন যে সুপ্রিম কোর্টে বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধ বলে ঘোষণা করার দাবিতে একাধিক মামলা এখনও চলছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত যেহেতু শীর্ষ আদালত এই সংক্রান্ত কোনও সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেনি, তাই অভিযোগকারিণীর বয়স ১৮ বছর কিংবা তার বেশি হলে বৈবাহিক ধর্ষণের অভিযোগের ক্ষেত্রে অভিযুক্তকে সাজা দেওয়ার কোনও বিধান নেই। শুধুমাত্র নির্যাতিতার বয়স যদি ১৫-১৮ বছরের মধ্যে হয়, তবেই তা ধর্ষণ বলে পরিগণিত হবে।
আদালত আরও জানিয়েছে, এক্ষেত্রে মেডিক্যাল পরীক্ষায় মহিলার অভিযোগের স্বপক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ মেলেনি। এই ব্যাপারে রায় দিতে গিয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্ট মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের একটি রায়ের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছে। ওই রায়ে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট জানিয়েছিল, ২০১৩ সালের অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট অনুযায়ী ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারায় স্বামী স্ত্রীর মধ্যে যৌন সংসর্গের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সমস্ত রকমের পেনিট্রেশন পদ্ধতির উল্লেখ রয়েছে এবং সেখানে যৌন মিলনের ক্ষেত্রে সম্মতির কোনও ভূমিকা নেই। তাই ৩৭৫ ধারা থাকা সত্ত্বেও স্বামী স্ত্রীর যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারায় বিচার চলার কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই। এরপরেই বৈবাহিক ধর্ষণের অভিযোগ থেকে সঞ্জীব গুপ্তাকে মুক্তি দিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট।
তবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩২৩ এবং ৪৯৮ এ ধারাতেও মামলা রুজু করা হয়েছিল। সেই দুটি মামলায় অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেছে।