সরকারি নিরাপত্তা এজেন্সিগুলির কর্তারা জানিয়ে দিয়েছেন মাওবাদীদের (Maoists) আগে অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে। একমাত্র তবেই অভিযান বন্ধ রাখা সম্ভব।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 26 November 2025 09:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিরাপত্তা বাহিনীর লাগাতার অভিযান এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হওয়ায় সংঘর্ষ বিরতির বার্তা দিয়েছিল মাওবাদীদের (Maoists) কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একাংশ। তিন মাস অভিযান বন্ধ রাখতে সরকারের কাছে আর্জি জানায় তারা। দলও এই সময় কোনও ধরনের সশস্ত্র সংঘাতে যাবে না বলে বার্তা দেওয়া হয়।
এই বার্তা ঘিরে সিপিআই (মাওবাদী) দলে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। দলের সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন (Military Commission) দুই থেকে আট ডিসেম্বর পর্যন্ত পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মি (পিএলজিএ) সপ্তাহ পালনের নির্দেশ দিয়েছে দলকে। সেই সঙ্গে সশস্ত্র লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তাও দিয়েছে মিলিটারি কমিশন। এ বছর পিএসজিএ-র ২৫ তম বর্ষ।
সরকারি নিরাপত্তা এজেন্সিগুলির কর্তারা জানিয়ে দিয়েছেন মাওবাদীদের (Maoists) আগে অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে। একমাত্র তবেই অভিযান বন্ধ রাখা সম্ভব। অস্ত্র হাতে কোনও মাওবাদীকে পাওয়া গেলে নিরাপত্তা বাহিনী তাকে নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা করবে।
নিরাপত্তা বাহিনীর টানা অভিযানের মুখে দণ্ডকারণ্যে মাওবাদীদের ভূপতি সতীশ গ্রুপ সম্প্রতি ২৮৭টি উন্নত মানের আগ্নেয়াস্ত্র আধা সেনার হাতে সমর্থন করে। মাওবাদীদের কেন্দ্রীয় মিলিটারি কমিশন এই সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত বিশ্বাসঘাতকতা বলে অভিহিত করে বিবৃতি দিয়েছে মঙ্গলবার রাতে।
সিপিআই (মাওবাদী)-র সাধারণ সম্পাদক বাসবরাজ নিহত হওয়ার পর অস্ত্র সমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয় ভূপতি সতীশ গ্রুপ। গত এক বছরে মাওবাদীদের ৩২০ জন সশস্ত্র ক্যাডার নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়ে। নিহতদের মধ্যে জেনারেল সেক্রেটারি বাসবরাজ ছাড়াও ১৫ জন রাজ্য স্তরের নেতা আছেন। এরপরই ভূপতি সতীশ গ্রুপের তরফেই সংঘাত বিরতির বার্তা দেওয়া হয়েছিল।
অন্যদিকে, মিলিটারি কমিশন (Military Commission) লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বলেছে, তাদের ক্যাডারদের পাল্টা আক্রমণে গত এক বছরে ১১৬ জন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন।
তাতে অবশ্য সরকারি বাহিনীর অভিযানে ইতি টানা হয়নি। কেন্দ্রীয় সরকার আগামী বছরের মার্চের মধ্যে সশস্ত্র মাওবাদীদের নির্মূল করার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। এর জবাবে মিলিটারি কমিশন বলেছে, ২০২৬-এর মার্চের পরও তাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।
মিলিটারি কমিশন (Military Commission) এই সিদ্ধান্ত এমন সময় নিল যখন মহারাষ্ট্রে বিপুল সংখ্যক মাওবাদী ক্যাডার আত্মসমর্পণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এই ব্যাপারে নিরাপত্তা বাহিনীগুলির সঙ্গে তাদের আলোচনা চূড়ান্ত হয় চলতি মাসের গোড়ায়। মনে করা হচ্ছে, আত্মসমর্পণের সেই কর্মসূচি ভেস্তে দিতেই মিলিটারি কমিশন ডিসেম্বরের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। তারা ক্যাডারদের বলেছে পিএলজিএ সপ্তাহে প্রচারপত্র বিলি এবং নতুন ক্যাডার নিয়োগের উদ্যোগ নিতে হবে। সেই সঙ্গে গোপনীয়তা রক্ষার শপথ এবং প্রশিক্ষণ শিবির আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছে মিলিটারি কমিশন।