বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য এরকমই একটি পোস্টে কংগ্রেস ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে নিয়ে একটি পোস্ট করেছেন।

মনমোহনের কাছে ইয়াসিন লস্কর প্রধানের সঙ্গে কথাবার্তা কী হয়েছে তা জানান।
শেষ আপডেট: 19 September 2025 14:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাহুল গান্ধীর ভোটচুরির ব্রহমস আক্রমণের জবাবে বিজেপি শিবির থেকে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে ঘিরে জঙ্গি-তোষণের কাদার ঢেলা ছোড়া শুরু হল। শুক্রবার বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য এরকমই একটি পোস্টে কংগ্রেস ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে নিয়ে একটি পোস্ট করেছেন। একইসঙ্গে বিজেপি দিল্লি হাইকোর্টে জমা দেওয়া পাকিস্তানপন্থী কাশ্মীরি বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গি ইয়াসিন মালিকের একটি হলফনামার উল্লেখ করেছে। যেখানে ইয়াসিন মালিক বলেছেন, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা তাঁকে ২০০৬ সালে পাকিস্তানে গিয়ে লস্কর-ই-তোইবার প্রধান হাফিজ সইদের সঙ্গে দেখা করার কথা বলেছিলেন।
ইয়াসিনের হলফনামায় রয়েছে, তিনি হাফিজের সঙ্গে দেখা করে ফিরে আসার পর তাঁকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে দেখা করানো হয়। মনমোহনের কাছে ইয়াসিন লস্কর প্রধানের সঙ্গে কথাবার্তা কী হয়েছে তা জানান। মালব্যর দাবি, হলফনামায় মালিক স্বীকার করেছিলেন যে, পিছনের দরজা দিয়ে জঙ্গিদের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য মনমোহন সিং ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন মালিককে। ওই হলফনামা ও মনমোহন-মালিকের করমর্দনের ছবি পোস্ট করেছেন বিজেপি নেতা মালব্য।
অমিত মালব্য ওই পোস্টে লিখেছেন, অদ্ভুত আশ্চর্য! যদি ইয়াসিন মালিকের এই দাবি সত্য হয়, তাহলে তো কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা ও পিছনের দরজা দিয়ে কূটনীতি নিয়ে গভীর প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে। একাধিক ট্যুইটে অমিত মালব্য দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন ইয়াসিন মালিকের হলফনামার। মালব্য লিখেছেন, উনি লস্কর প্রতিষ্ঠাতা তথা ২৬/১১-য় মুম্বই হামলার মূল চক্রী হাফিজ সইদের সঙ্গে দেখা করতে পাকিস্তান গিয়েছিলেন এবং ফিরে এসেছেন।
শুধু তাই নয়, ইয়াসিন মালিক ভারতীয় এজেন্সির তৎপরতায় গিয়েছিলেন, যাতে হাফিজ সইদের মতো জঙ্গিদের সঙ্গে গোপন আপস আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এক রফা করা যায়। এমনকী তাঁর এই সফর ব্যক্তিগত ছিল না, বরং সরকারি নির্দেশে এবং ফিরে আসার পর খোদ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এই প্রয়াসের জন্য। মালিকের বক্তব্য অনুসারে, তখনকার আইবি-র স্পেশাল ডিরেক্টর ভিকে জোশি পাকিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্পের (২০০৫) পর দিল্লিতে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলেন।
জোশি নাকি ইয়াসিন মালিককে বলেছিলেন, এটাই সুযোগ পাকিস্তানি সরকার ও জঙ্গি নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে গোপনে একটা রফা সেরে ফেলতে। কারণ প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং চান, শান্তি বজায় রাখতে। হলফনামায় মালিকের দাবি, কিন্তু এটা ছিল একটা বিশ্বাসঘাতকতা। তাঁকে শান্তির দূত করে ভারতীয় গোয়েন্দারা পাকিস্তানে পাঠিয়েছিলেন। অথচ, ১৩ বছর পর সেই তাঁকেই, যিনি শান্তি আলোচনার টেবিলে বসার বিষয়টিকে জোরাল করার কাজ করেছিলেন, তাঁকেই জঙ্গি বলে জেলবন্দি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে জঙ্গি তহবিল মামলায় মালিকের যাবজ্জীবন সাজা হয়।