পুলিশ আরও জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম কিশোর পাইকরা, বয়স আনুমানিক ৪০ বছর। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, খুনের ঘটনাটি ঘটেছে ২-৩ দিন আগে। দেহটি স্যুটকেসে পুরে, সেই স্যুটকেসকে আবার সিমেন্টে মোড়া হয়েছিল, যাতে দুর্গন্ধ না ছড়ায়।

স্যুটকেস থেকে উদ্ধার হল মৃতদেহ
শেষ আপডেট: 25 June 2025 12:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মিরাটে সৌরভ হত্যাকাণ্ড (Meerut Murder Case) গোটা দেশে সাড়া ফেলেছিল। স্বামীকে খুনের পর দেহ টুকরো করে ড্রামে ভরে রাখা হয়। প্রমাণ লোপাটের চেষ্টায় ড্রাম ভরে দেওয়া হয় সিমেন্ট দিয়ে। সৌরভের স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এবার ছত্তীসগড়ের রায়পুরে (Raipur Murder Case) স্যুটকেস থেকে উদ্ধার হল মৃতদেহ। সেটিও ছিল সিমেন্টে মোড়া। তদন্তে নেমে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, রায়পুরের ইন্দ্রপ্রস্থ কলোনি এলাকার জঙ্গলঘেরা একটি ফাঁকা জমি থেকে স্যুটকেসের ভিতর সিমেন্টে মোড়া অবস্থায় এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। মৃতদেহটির গলা কাটা ছিল, হাত-পা বাঁধা ছিল।
ঘটনাস্থলের পাশেই রয়েছে জনবসতি। স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্গন্ধ পেয়ে সন্দেহ হলে থানায় খবর দেয়। পুলিশ সেখানে গিয়ে দেখতে পায়, একটি বড় টিনের বাক্সের ভিতরে শিকল দিয়ে বাঁধা একটি স্যুটকেস রাখা আছে। সেই স্যুটকেস খুলতেই উঠে আসে বিভীষিকার চিত্র।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম কিশোর পাইকরা, বয়স আনুমানিক ৪০ বছর। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, খুনের ঘটনাটি ঘটেছে ২-৩ দিন আগে। দেহটি স্যুটকেসে পুরে, সেই স্যুটকেসকে আবার সিমেন্টে মোড়া হয়েছিল, যাতে দুর্গন্ধ না ছড়ায়। তবে গরম আবহাওয়ার দেহ দ্রুত পচতে শুরু করে। সেই থেকেই দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
তদন্ত চালিয়ে দিল্লি থেকে অঙ্কিত উপাধ্যায় ও শিবানি শর্মা নামে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে রায়পুর পুলিশ। তাঁদের রায়পুরে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রস্তুতি চলছে। রায়পুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দৌলত রাম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, 'প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে না এটা কোনও প্রেমঘটিত ত্রিকোণ সম্পর্কের ফল। তবে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের করে খুনের সঠিক কারণ, সময় এবং পরিকল্পনা বোঝা যাবে।'
পুলিশ ঘটনাস্থলের আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ (CCTV Footage) ঘেঁটে দেখলে জানা যায়, একজন পুরুষ ও একজন মহিলা একটি পুরনো গাড়িতে করে ওই টিনের বাক্সটি নিয়ে এসেছিলেন। গাড়িটির নম্বরপ্লেটটি ছিল ভুয়ো। ২০০৫ সালে এক ভুয়ো নামে রেজিস্টার করা। একটি স্কুটিতে থাকা মহিলাকেও ওই গাড়ির চারপাশে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে, যা তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দেয়।
সূত্র ধরে এগিয়ে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, গোলবাজারের পেটলাইন এলাকায় এক দোকান থেকে ওই টিনের ট্রাঙ্কটি কেনা হয়েছিল। দোকানদার জানিয়েছেন, সোমবার সকালেই এক যুগল ট্রাঙ্কটি কেনে। এমনকি সেইসময় তাঁদের আচরণ বেশ সন্দেহজনক ছিল বলেই জানা গিয়েছে। দোকানদারের থেকে দুজনের চেহারার বিবরণ পেয়ে খোঁজ শুরু করে পুলিশ। অবশেষে দিল্লি থেকে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।
এই ঘটনা মনে করিয়ে দিল গত মার্চ মাসে উত্তরপ্রদেশের মীরাটে ঘটে যাওয়া সৌরভ হত্যাকাণ্ডর (Sourav Murder Case)। যেখানে স্ত্রী তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্বামীকে খুন করে দেহ টুকরো করে সিমেন্ট ভর্তি ড্রামে লুকিয়ে রাখে। সেই ঘটনার মতোই এই ক্ষেত্রেও খুনকে ধামাচাপা দিতে করা হয়েছে জটিল ষড়যন্ত্র।
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সিমেন্টের প্রলেপ মূলত মৃতদেহের পচন রোধ ও গন্ধ আটকাতে ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু শেষমেশ গন্ধ ছড়িয়ে পড়াতেই এলাকাবাসীদের নজরে আসে। এই ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। রায়পুর পুলিশ এখন অভিযুক্তদের হেফাজতে নিয়ে খুনের উদ্দেশ্য জানার চেষ্টা চালাচ্ছে।