পিন্টুর দাবি, তাঁর ৬০ বছরের অসুস্থ মায়ের দেখভালের জন্য ঘরে কাউকে প্রয়োজন ছিল। “আগের দুই স্ত্রী দু’দিন রান্না পর্যন্ত করেনি। মা আর আমি নিজেরাই খেয়েছি,” অভিযোগ তাঁর। তৃতীয় বিয়ের ক্ষেত্রেও মায়ের অসুস্থতাকেই কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 26 December 2025 14:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহারের (Bihar) গোপালগঞ্জে (Gopalgunj) তিন বছরের মধ্যে তিনটি বিয়ে (Marriage), তাও আবার কোনও ডিভোর্স (Divorce) না করে! এই অভিযোগেই গ্রেফতার হলেন পিন্টু বার্নওয়াল নামের এক যুবক।
তাঁর বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, আগের কোনও স্ত্রীকে আইনি বিচ্ছেদ না দিয়েই একের পর এক বিয়ে করেছেন তিনি। প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার (Arrest) করে আদালতে পেশ করেছে।
অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, বিয়ের পর থেকেই তাঁদের ওপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন (Physical and Mental Torture) চালানো হতো। সঙ্গে ছিল পণ চাওয়ার চাপ। পুলিশের কাছে জমা দেওয়া এফআইআরে (FIR) এই সব অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পিন্টু বার্নওয়াল (Pintu Barnwal)। তাঁর দাবি, পণের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে। “এক টাকাও নিইনি। সব বানানো কথা,” বলেন তিনি। যদিও তিনটি বিয়ের কথা স্বীকার করেছেন পিন্টু। তাঁর যুক্তি, পারিবারিক পরিস্থিতির কারণেই তাঁকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
পিন্টুর দাবি, তাঁর ৬০ বছরের অসুস্থ মায়ের (Mother) দেখভালের জন্য ঘরে কাউকে প্রয়োজন ছিল। “আগের দুই স্ত্রী দু’দিন রান্না পর্যন্ত করেনি। মা আর আমি নিজেরাই খেয়েছি,” অভিযোগ তাঁর। তৃতীয় বিয়ের ক্ষেত্রেও মায়ের অসুস্থতাকেই কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।
প্রথম স্ত্রী খুশবু কুমারী অবশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি তুলে ধরেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পিন্টু ও তাঁর পরিবার লাগাতার পণের দাবি করত। “বিয়ের পরদিনই বাবা তিন লক্ষ টাকা, সোনা ও গয়না দেন। তবুও নির্যাতন বন্ধ হয়নি,” বলেন খুশবু। তাঁর দাবি, মারধর করে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
খুশবু জানান, পরে জানতে পারেন, তাঁকে ডিভোর্স না দিয়েই পিন্টু দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিয়ে করেছেন। দ্বিতীয় স্ত্রীর একটি ১০ মাসের সন্তান এবং তৃতীয় স্ত্রীর এক মাসের সন্তান রয়েছে বলেও তাঁর দাবি।
দ্বিতীয় স্ত্রী গুড়িয়া কুমারীর বক্তব্যও একই রকম। তিনি জানান, আগের বিয়ের কথা না জানিয়েই পিন্টু তাঁকে বিয়ে করেন। পরে তৃতীয় বিয়ের কথা জানতে পেরে তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন। “আমাকে ঠকানো হয়েছে। টাকা আর গয়নার জন্য আমাদের উপর অত্যাচার চালানো হয়েছে,” অভিযোগ তাঁর।
দুই স্ত্রীই অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনে আরও ধারা যোগ হতে পারে।