এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ভুয়ো ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে বিহারের মুজফফরপুর থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এআই যুগে সত্যি-মিথ্যের সীমারেখা কোথায়?

ছবি: এআই
শেষ আপডেট: 3 January 2026 12:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্ক্রিনে যা দেখছি, সেটা কি আদৌ সত্যি? এই প্রশ্ন এখন বারবার উঠে আসছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দৌলতে যে কোনও ছবি, ভিডিও, (AI Video) এমনকি কণ্ঠস্বর, সবই এখন কয়েক মিনিটে হুবহু নকল করা সম্ভব। ফলে সত্যি-মিথ্যের সীমারেখা ক্রমশ ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। যে যা ইচ্ছে বানাচ্ছে, আর তা ছড়িয়ে পড়ছে মুহূর্তের মধ্যে। এর ফল শুধু বিভ্রান্তি নয়, ভয়াবহ সামাজিক বিপর্যয়ও। সাধারণ লোক থেকে শুরু করে দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব, কেউই আর এই এআই-নির্ভর ভুয়ো কনটেন্টের ঝুঁকির বাইরে নন।
এআই-এর এমন অপব্যবহার যে কতটা বিপজ্জনক রূপ নিতে পারে, এবার তারই ভয়ঙ্কর উদাহরণ এল বিহার থেকে। দেশের দুই শীর্ষ সাংবিধানিক প্রধানকে টার্গেট করে ভুয়ো ভিডিও তৈরির অভিযোগে বিহারের মুজফফরপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে প্রমোদ কুমার রাজ নামে এক ব্যক্তিকে। তিনি বোচাহা থানার অন্তর্গত ভগবানপুর এলাকার বাসিন্দা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কণ্ঠস্বর ও ছবি নকল করে ভুয়ো ভিডিও তৈরি করে ছড়িয়েছে সে।
পুলিশের অভিযোগ, অত্যন্ত চালাকির সঙ্গে এআই প্রযুক্তির সাহায্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কণ্ঠস্বর ও ছবি নকল করে বিতর্কিত ভিডিও ও অডিও ক্লিপ তৈরি করছিলেন তিনি। সেই সব ভুয়ো কনটেন্ট সমাজমাধ্যমে ছড়িয়েও দেওয়া হয়। প্রশাসনের মতে, এই ধরনের ভুয়ো কনটেন্ট গণতন্ত্র ও সামাজিক ক্ষেত্রে মারাত্মক হুমকি।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, এই ভুয়ো ভিডিও তৈরির উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে ভুল পথে চালিত করা এবং দেশের শীর্ষ সাংবিধানিক পদগুলির সম্মান ও বিশ্বাসযোগ্যতায় আঘাত করা। প্রশাসনের মতে, এই ধরনের ভুয়ো কনটেন্ট ছড়ালে মানুষের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির উপর আস্থা কমে যেতে পারে। পাশাপাশি সমাজে অশান্তি তৈরি হওয়ার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার এবং দেশবিরোধী গুজব ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে জেলা পুলিশ। বিশেষ একটি দল অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। যে মোবাইল দিয়ে ভুয়ো ভিডিও তৈরি করা হয়েছে, সেই মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ধৃতের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, প্রমোদ কুমার রাজের অতীতেও কোনও অপরাধমূলক যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।