ওয়াহিদ গত শুক্রবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC) এবং মহারাষ্ট্র রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের কাছে মিথ্যা অভিযোগে ৯ বছরের কারাবাসের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৯ কোটি টাকা দাবি করে চিঠি লিখেছেন।

ওয়াহিদ শেখ।
শেষ আপডেট: 13 September 2025 17:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘ফিরিয়ে দাও আমার ১২টা বছর।‘ উত্তমকুমার-সুচিত্রা সেন অভিনীত ‘সবার উপরে’ ছায়াছবির শেষের দিকের দৃশ্যেরই যেন পুনরাবৃত্তি ঘটল। কিংবদন্তি অভিনেতা ছবি বিশ্বাসের মুখে এই ছবির সংলাপ যেন ছত্রে ছত্রে ফুটে উঠল ওয়াহিদ শেখের অভিযোগপত্রে। মুম্বই ট্রেন বিস্ফোরণের সময় ওয়াহিদের বয়স তখন ছিল মাত্র ২৮ বছর। তারপর লোকাল ট্রেনে বিস্ফোরণের মামলায় ধরা পড়েন তৎকালীন স্কুল শিক্ষক ওয়াহিদ শেখ। বছরের পর বছর গড়িয়ে যায়। মুম্বইয়ের আর্থার রোড জেলে চরম নির্যাতন ও জঙ্গি তকমা লেগে যাওয়া ওয়াহিদ অবশেষে বেকসুর খালাস পান ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে। কিন্তু, তাতেও দুর্ভোগের পরিমাণ কমেনি। এ বছর জুলাই মাসে বম্বে হাইকোর্ট ধৃত ও শাস্তিপ্রাপ্ত সমস্ত বন্দিকে বেকসুর ঘোষণা করার পর মামলার বেড়ি থেকে মুক্ত হন। কিন্তু, ততদিনে তাঁর সাধের-স্বপ্নের দিনগুলি সিনেমার গল্পের মতোই চুরচুর হয়ে গিয়েছে।
তাই ওয়াহিদ গত শুক্রবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC) এবং মহারাষ্ট্র রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের কাছে মিথ্যা অভিযোগে ৯ বছরের কারাবাসের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৯ কোটি টাকা দাবি করে চিঠি লিখেছেন। ২০০৬ সালের মুম্বই ট্রেন বিস্ফোরণের ঘটনায় ধৃত ওয়াহিদকে বিচারাধীন প্রমাণাভাবে বেকসুর মুক্তি দেয় ২০১৫ সালে। ওই বিস্ফোরণে ১৩ জন অভিযুক্ত ছিলেন এবং ১৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। বিচারাধীন আদালত একমাত্র তাঁকেই মুক্তি দিয়েছিল. তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ট্রেনে বোমা লাগানোর পর কয়েকজন অভিযুক্তকে আশ্রয় ও মদত দিয়েছিলেন ওয়াহিদ। কিন্তু, আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয় তদন্তকারী দল।
তাঁর অভিযোগে ওয়াহিদ লিখেছেন, আমি যখন ধরা পড়ি, তখন আমার বয়স ছিল ২৮ বছর। আমাকে মিথ্যা অভিযোগে জেলে রাখা হয়েছিল। আমার উপর হেফাজতে থাকাকালীন চরম অত্যাচার করা হয়েছে। আমি এবং আমার পরিবার এই বছরগুলিতে যেভাবে শারীরিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে কুরেকুরে মরেছি। মিথ্যা কারাবাসে আমার পেশা ও ব্যক্তি জীবনে ৯টি বছর জলে চলে গিয়েছে। আমার কেরিয়ার, শিক্ষা এবং ব্যক্তিগত উন্নতি একেবারে ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে। আমার এবং আমার পরিবারের উপর মিথ্যা জঙ্গি তকমা বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার জন্য একটি দিনও আমি কিংবা আমরা শান্তিতে থাকতে পারিনি। এমনকী বেকসুর খালাস হওয়ার পরেও আমাদের গায়ে পাকাপাকিভাবে জঙ্গি লেবেল লাগিয়ে দিয়েছে সকলে।
আমাদের সম্মান, মর্যাদা, জীবনধারণ সব শেষ হয়ে গিয়েছে, লিখেছেন ওয়াহিদ। এই কয়েক বছরে আমাকে ৩০ লক্ষ টাকা দেনা করতে হয়েছে। ওয়াহিদের কথা অনুযায়ী, আমি জেলে থাকাকালীন আমার বাবা মারা গিয়েছেন। মায়ের মানসিক অবস্থা ভেঙে পড়ে। আমি পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ছেলে ছিলাম। এই অবস্থায় আমার স্ত্রীকে ছেলেমেয়েকে মানুষ করতে যুদ্ধ চালাতে হয়েছে।
ওয়াহিদ বলেন, আমার বিনীত অনুরোধ আমার হারিয়ে যাওয়া ৯টি বছর আর ফিরে না পেলেও ক্ষতিপূরণ হিসাবে অন্তত ৯ কোটি দেওয়া হোক। এই টাকা সামান্য সুখের মুখ দেখাবে এবং আমি যে নির্দোষ তার প্রমাণ দেবে। ওয়াহিদ শেখ একই কথা লিখেছেন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংখ্যালঘু কমিশনকেও। লিখেছেন, কীভাবে তাঁর উপর অমানুষিক অত্যাচার চালিয়েছে পুলিশ। পাড়া-প্রতিবেশীরা আমার বাবাকে জঙ্গির বাবা বলে ইশারা করত। মাকেও তাই। বাবা এই কষ্ট বুকে পুষেই মারা গিয়েছেন বলে দাবি ওয়াহিদের।