এসআইআর মামলা (SIR Hearing) নিয়ে যে তৃণমূল (TMC) দিল্লি (Delhi) যাবে, তা সবার প্রথমে ‘দ্য ওয়াল’ই মাস তিনেক আগে থেকে লিখছিল। কিন্তু রাজ্যের চিফ মিনিস্টারের কালো কোট পরে সেই শুনানিতে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা, এটার আপাত প্রভাব অনেক গভীর।
.jpeg.webp)
মুখ্যমন্ত্রী কি নিজেই লড়বেন?
শেষ আপডেট: 1 February 2026 17:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যজুড়ে এসআইআর (SIR) নিয়ে তোলপাড়ের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বলেছিলেন, তিনি নিজে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) গিয়ে এসআইআর-এর বিরুদ্ধে সওয়াল করবেন। বুধবার, বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে রাজ্যের এসআইআর মামলার শুনানি (SIR Hearing) রয়েছে। তার আগেই রবিবার দিল্লি পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, মমতা নিজেই কি কালো কোট পরে সেখানে সওয়াল করতে চলে যাবেন? কারণ তিনি বলেছিলেন, 'আমি আপনাদের হয়ে লড়াই করব!' এমন ভাবনার মূলে অবশ্য রয়েছে তাঁর নিজেরই বহুবার বলা একটা কথা যে, তিনি আইনি ডিগ্রি পেয়ে পাশ করেছেন।
বস্তুত, এসআইআর মামলা নিয়ে যে তৃণমূল দিল্লি যাবে, তা সবার প্রথমে ‘দ্য ওয়াল’ই মাস তিনেক আগে থেকে লিখছিল। কিন্তু রাজ্যের চিফ মিনিস্টারের কালো কোট পরে সেই শুনানিতে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা, এটার আপাত প্রভাব অনেক গভীর। এতে সাধারণ মানুষের মনে একটা ছাপ পড়বেই, যে ‘আমি তোমাদের জন্য নিজে সওয়াল-জবাব করতে নামছি।’ এবং এটা তিনি করতে পারেন বলেই আলোচনা ঘনিয়েছে রাজনীতির অঙ্গনে।
এরই মধ্যে ২৮ তারিখ মমতার দিল্লি যাওয়ার কথা থাকলেও, শুনানি পিছিয়ে ৪ ফেব্রুয়ারি হওয়ায়, তিনিও যাওয়া পিছিয়ে এক তারিখে করেছেন। তাই সব মিলিয়ে ২+২ করেছেন অনেকেই।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, যতই আইনি ডিগ্রি থাক, মমতা কি আদৌ পারেন সুপ্রিম কোর্টে নিজে সওয়াল করতে? তথ্য বলছে, সুপ্রিম কোর্টের বার কাউন্সিলের নিয়ম অনুযায়ী অবশ্যই পারেন না। কিন্তু কপিল সিব্বল ও অভিষেক মনু সিঙ্ঘভির সঙ্গে তিনি যদি কালো কোট পরে আদালতের বাইরে অবধিও যান, তাহলেও যে ছবি সামনে আসবে, সেটাই জনমানসে অপটিক্স তৈরির জন্য যথেষ্ট। এবং এর পিছনে আইপ্যাকের একটা পরিকল্পনা আছে বলেও আলোচনা চলছে নানা মহলে।
সূত্রের খবর, ওই শুনানিতে উপস্থিত থাকার জন্য ইতিমধ্যেই আদালতের অনুমতি চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি তা পেয়েও যাবেন বলে নিশ্চিত। তবে তা নাগরিক হিসেবে শুনানিতে থাকার জন্যই। কিন্তু আমলাদের একটা অংশ আবার বলছেন, মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে অসাধ্য কিছু নেই। কালো কোট পরে আদালত পর্যন্ত যেতেই পারেন, কারণ তাতে যে ছবি তথা ধারণাটা জনমানসে তৈরি হবে, সেটার দাম অনেক বেশি। এবং রাজনীতি ও সমাজনীতিতে ধারণাই সব।
বুধবারই এক জনসভা থেকে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রকে এক বন্ধনীতে রেখে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে মমতা বলেছিলেন, “আজ না হলে কাল আমি দিল্লি যাবই। দরকার হলে কোর্টেও যাব। আইনজীবী হয়ে নয়, সাধারণ মানুষ হিসেবে। সব ডকুমেন্ট রেখে দিয়েছি। জ্যান্ত মানুষকে মৃত বানাচ্ছে কমিশন!”
এসআইআর (SIR) ইস্যুতে বাংলার কোনও যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়লে তিনি যে চুপ করে থাকবেন না, তা-ও স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। নাটকীয় ভঙ্গিতে হুঁশিয়ারি দেন, “আমাকে তোমরা ঘেঁচু করবে। জেলে ভরো, গুলি করো—আই ডোন্ট কেয়ার! আমি সব কিছুর জন্য তৈরি। আমি জেলে গেলে মায়েরা জবাব দেবে, বোনেরা জবাব দেবে। ঘরে ঘরে নাড়ু তৈরি হবে।”
সব মিলিয়ে, স্বাভাবিক ভাবেই এসআইআর আবহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফর ঘিরে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে প্রবল কৌতূহল।
আজ, রবিবার, দিল্লি পৌঁছনোর পরে, দিল্লির আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠক করারও কথা আছে তাঁর। সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকারের আইনজীবী দেবাঞ্জন মণ্ডল ও তাঁর টিমও এখন দিল্লিতেই রয়েছেন। ফলে আলাপ-আলোচনার পর্ব শুনানির আগে পর্যন্ত বেশ জোরদারই হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তার মধ্যে সম্ভবত মুখ্যমন্ত্রীর অনুমতিও চলে আসবে, তিনি চার তারিখের শুনানিতে উপস্থিত থাকতে পারবেন কিনা।