নারী হিতৈষণার অভিপ্রায়ে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন এই কাজে। অবশেষে ১১ লক্ষ টাকা খুইয়ে তাঁর ‘রতিভ্রম’ ঘটল।

প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 1 November 2025 11:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘আমি গর্ভবতী হতে চাই। আমায় গর্ভবতী করুন।’ অনলাইনে এই বিজ্ঞাপন দেখেই আত্মারাম খাঁচাছাড়া হয়ে যায় এক ভদ্রলোকের। নারী হিতৈষণার অভিপ্রায়ে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন এই কাজে। অবশেষে ১১ লক্ষ টাকা খুইয়ে তাঁর ‘রতিভ্রম’ ঘটল। সাইবার প্রতারণার মুকুটে নয়া পালক জুড়ল গর্ভসঞ্চারের এই বিজ্ঞাপন। যে ফাঁদে পা দিয়ে পুণের এক ঠিকাদার ১১ লক্ষ টাকা হারিয়েছেন। এক মহিলা টাকার বিনিময়ে সন্তান ধারণের বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। আর এই সহজ ও আরামদায়ক কাজে মোটা দাঁও মারতে গিয়ে, নিজেরই খসে গিয়েছে ১১ লক্ষ টাকা।
‘একজন সক্ষম পুরুষ চাই, যিনি আমাকে গর্ভবতী করতে পারবেন’। দেশজুড়ে এখন সাইবার অপরাধে নাম কুড়িয়েছে, ‘প্রগন্যান্ট জব’ অথবা ‘প্লেবয় সার্ভিস কেলেঙ্কারি’। ২০২২ সাল থেকে বেশ কয়েকটি রাজ্যে এই স্ক্যামাররা সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগ অনুসারে, ৪৪ বছর বয়সি ওই ঠিকাদারের বক্তব্য, এক মহিলাকে গর্ভবতী করে দিতে পারলে ২৫ লক্ষ টাকা মিলবে, এমনই বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল অনলাইনে।
মহারাষ্ট্রের বানের থানায় লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের গোড়ার দিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বিজ্ঞাপনে এই অফার দেওয়া হয়েছিল। কোম্পানিটির নাম ছিল প্রেগন্যান্ট জব। এই ভিডিওতে এক মহিলা হিন্দিতে বলেন, আমি এমন একজন পুরুষ চাই, যে আমাকে মা করতে পারবে। আমি তাকে ২৫ লক্ষ টাকা দেব। সে কী লেখাপড়া জানে, কোন জাতের কিংবা তাকে কেমন দেখতে, তা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়।
তাই দেখে এই লোকটি বিজ্ঞাপনে দেওয়া ফোন নম্বরে কল করেন। একজন ওপার থেকে ফোন তুলে বলেন, তিনি প্রতিষ্ঠানের কর্মী। কাজের জন্য এই লোকটিকে আগে নাম রেজিস্টার করতে হবে এবং আইডি দিতে হবে। তারপর কাজ মিলবে। কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতারকরা বিভিন্ন ছুতোনাতায় তাঁর কাছ থেকে টাকা চায়। যেমন রেজিস্ট্রেশন ফি, আইডি কার্ড চার্জ, ভেরিফিকেশন, জিএসটি, টিডিএস এবং প্রসেসিং ফি বাবদ টাকা নেওয়া হয়। এই ভদ্রলোক অন্তত ১০০ বার ছোটখাট অনলাইন পেমেন্ট করেন। যার মোট অঙ্ক গিয়ে দাঁড়ায় ১১ লক্ষ টাকা।
এরপর তিনি যখন কাজ চান, তখন টিকাদারের ফোন নম্বরটি ব্লক করে দেওয়া হয়। তাতে তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন। পুলিশ জানিয়েছে, অল ইন্ডিয়া প্রেগন্যান্ট জব সার্ভিস নামে একটি প্রতারণা চক্রের কেন্দ্র হচ্ছে বিহারের নওয়াডা জেলা। এ ধরনের শয়ে শয়ে প্রতারণা ইদানীং ঘটে চলেছে দেশ জুড়ে। প্রতারিত অনেকেই লোকলজ্জার ভয়ে পুলিশে অভিযোগ জানাচ্ছেন না।