সুরের মঞ্চ থেকে সরাসরি রাজনীতির আঙিনায় এসে মৈথিলি ঠাকুর যেন চমকের পর চমক দিলেন। প্রথমত, ২০০৮ সালে গঠনের পর এই প্রথম আলিনগরে পদ্ম ফুটল। দ্বিতীয়ত, বিজেপির প্রার্থী হয়ে ২৫ বছরের এই জনপ্রিয় গায়িকা রাজ্যের কনিষ্ঠ বিধায়ক হওয়ার পথে।

মৈথিলী ঠাকুর
শেষ আপডেট: 15 November 2025 13:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিত্যানন্দ রাইয়ের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের পর থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছিল। সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিহারে বিধানসভার নির্বাচনের (Bihar Election Result 2025) আগে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন সঙ্গীতশিল্পী মৈথিলী ঠাকুর (Maithili Thakur)। আজ যখন বিহারের নির্বাচনের ফল বেরোল, তখন দেখা গেল, ২৫ বছরের বিজেপি প্রার্থীর (BJP News) সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় কুপোকাত হয়ে গেলেন আরজেডি (RJD) প্রার্থী বিনোদ মিশ্র।
সুরের মঞ্চ থেকে সরাসরি রাজনীতির আঙিনায় এসে মৈথিলি ঠাকুর যেন চমকের পর চমক দিলেন। প্রথমত, ২০০৮ সালে গঠনের পর এই প্রথম আলিনগরে পদ্ম ফুটল। দ্বিতীয়ত, বিজেপির প্রার্থী হয়ে ২৫ বছরের এই জনপ্রিয় গায়িকা রাজ্যের কনিষ্ঠ বিধায়ক হওয়ার পথে।
মৈথিলির জয়ের পিছনে কাজ করেছে তাঁর সাংস্কৃতিক শিকড়, লোকসংগীতে দখল, এবং লক্ষ লক্ষ তরুণ অনুরাগীর সমর্থন। প্রথমবার ভোট দেওয়া অনেক যুবক-যুবতীই বলছেন, “সংস্কৃতির মাটির গন্ধকে যিনি বাঁচিয়ে রাখেন, তাঁর প্রতি বিশ্বাস তো থাকবেই।”
মধুবনীর মেয়ে মৈথিলীর জন্ম ২০০০ সালের ২৫ জুলাই। বাবা রমেশ ঠাকুর শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী ও শিক্ষক, মা পূজা ঠাকুর পরিবারের দেখভাল করেন। ছোটবেলা থেকেই বাবার হাতে সুরের সাধনা। দুই ভাই আয়াচী ও ঋষভকে নিয়ে তিনজনের দল হিসেবে দেশজুড়ে পরিচিত তাঁরা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় লোকগান পরিবেশনার দৌলতেই তাঁর জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। ২০১৭ সালে ‘রাইজিং স্টার’ প্রতিযোগিতায় রানার্স আপ হয়ে তিনি পোক্ত করেন নিজের জায়গা। এরপর ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন ভারতীয় লোকসংগীতের অন্যতম পরিচিত মুখ।
মৈথিলী অবশ্য প্রথম থেকে বলে এসেছিলেন যে তিনি রাজনীতিতে যোগ দিতে চান না, রাজনীতিও করতে চান না। জানিয়েছিলেন, "আমার অঞ্চলের মানুষের সেবা করতে চাই। তবে সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে যদি রাজনীতি সহযোগিতা করে, তা হলে সেটি আমার কাছে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হবে।’’ সেই সময়েই তিনি ঠারেঠোরে ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিলেন যে, সুযোগ পেলে রাজনীতিতে যোগ দিতে পারেন। আর তার পরই পদ্মশিবিরে যোগ দেওয়ার জল্পনা জোরালো হচ্ছিল।
২০২৫ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়ে আলিনগর থেকে প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই তাঁর প্রচার কার্যত হয়ে ওঠে গণ-উৎসব। গ্রামের মাটির সুর, সহজ-সরল ব্যবহার, আর সোশ্যাল মিডিয়ায় তরুণদের সঙ্গে সংযোগ— সব মিলিয়ে তাঁর প্রচার অন্য মাত্রা পেয়েছিল।