নাপনে জলপ্রপাতের উৎস নাদাভাদে গ্রাম থেকে। সারা বছরই এতে ভরপুর জল থাকে। তবে বর্ষাকালে তা যেন আরও অপরূপা হয়ে ওঠে। জলপ্রপাতকে ঘিরে রয়েছে ঘন সবুজে ঘেরা বনানী।

মহারাষ্ট্রের প্রথম কাচের সেতুর উদ্বোধন হয়ে গেল।
শেষ আপডেট: 23 July 2025 18:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রের প্রথম কাচের সেতুর উদ্বোধন হয়ে গেল। সিন্ধুদুর্গের নাপনে জলপ্রপাতের উপর দাঁড়িয়ে দেখা যাবে কীভাবে পায়ের তলা দিয়ে নেচে নেচে ছুটে যাচ্ছে বর্ষায় ফুলেফেঁপে ওঠা জলের স্রোত। নাপনে সেতুই হল রাজ্যের প্রথম কাচের স্কাইওয়াক। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের জন্মদিনে এই কাচের স্কাইওয়াকের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী নীতেশ রানে। বৈভবওয়াড়ি সিন্ধুদুর্গের এই কাচের সেতু পর্যটক আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে বলে ধারণা। সিন্ধুরত্ন পর্যটন বিকাশ প্রকল্পের আওতায় এই সেতু নির্মাণে খরচ পড়েছে ৯৯.৬৩ লক্ষ টাকা।
নাপনে জলপ্রপাতের উৎস নাদাভাদে গ্রাম থেকে। সারা বছরই এতে ভরপুর জল থাকে। তবে বর্ষাকালে তা যেন আরও অপরূপা হয়ে ওঠে। জলপ্রপাতকে ঘিরে রয়েছে ঘন সবুজে ঘেরা বনানী। ভরপুর তরতাজা অক্সিজেন, ধনেশের মতো প্রচুর পাখির কাকলি আপনার দুকানে রোমান্সের সুর ভরিয়ে দেবে। নাদাভাদে থেকে ৬ কিমি এবং বৈভবওয়াড়ি রেল স্টেশন থেকে মাত্র ৩ কিমি দূরে অবস্থিত এই জায়গা সড়ক ও রেলপথে সংযুক্ত।
মজবুত কাঠামোর উপর পুরু স্বচ্ছ কাচ দিয়ে নির্মিত এই সেতুর উপর দাঁড়িয়ে আপনি ছবি তুলতে পারবেন। হেঁটে পারাপার করতে পারবেন। রঙচঙে বেড়া দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। কাছের প্রস্তর খোদিত শিল্পকর্মে স্থানীয় পাখি ও বন্যপ্রাণির ছবি তুলে ধরা হয়েছে।

দক্ষিণ কোঙ্কনকে লোকমুখে মহারাষ্ট্রে মালদ্বীপ বলা হয়। পর্যটকরা এখানে এসে সৈকত ও উপকূলের রন্ধ্রে রন্ধ্রে থাকা সৌন্দর্য উপভোগ করেন। কোঙ্কনে পা রাখা মাত্রই অনেকে দেখে ফেলেন সিন্ধুদুর্গ ও মালবা দুর্গ। যা তৈরি হয়েছে সমুদ্রের উপর। সিন্ধুদুর্গকে দেশের প্রথম পর্যটন জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আর বৈভবওয়াড়ি তালুক হল পশ্চিম মহারাষ্ট্রে ঢোকার এই জেলার গেটওয়ে। এখানে এসে কেউ নাপনে জলপ্রপাত না দেখে ফেরত যান না।
1st Glass Bridge over a waterfall in Vaibhavwadi Sindhudurg !
Open to the public from today !
Dedicated to our Vikas Purush Hon CM @Dev_Fadnavis ji on his birthday #HBDDevaBhau pic.twitter.com/AJVD41znzG
— Nitesh Rane (@NiteshNRane) July 22, 2025
মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাল, দাদর অথবা পানভেল স্টেশন থেকে কোঙ্কন রেলের মাণ্ডবী এক্সপ্রেস কিংবা কোঙ্কনকন্যা এক্সপ্রেসে উঠে পড়ুন। ৭-৯ ঘণ্টার ট্রেন সফরের পর নামুন বৈভবওয়াড়ি রোড রেলওয়ে স্টেশনে। স্টেশন থেকে নাপনের দূরত্ব প্রায় ১৫ কিমি। লোকাল ট্যাক্সি ও অটো পেয়ে যাবেন। বেসরকারি বাসেও যেতে পারেন। মুম্বই থেকে বৈভবওয়াড়ি বাসভাড়া ৫০০-১৫০০ টাকার মধ্যে। বৈভবওয়াড়ি বাসস্ট্যান্ড থেকে স্থানীয় গাড়িতে নাপনে যেতে হবে।
আপনি যদি নিজে গাড়ি নিয়ে যেতে চান, তাহলে মুম্বই থেকে ৩৯০-৪৫০ কিমি সড়কপথে যেতে হবে। সময় লাগবে প্রায় ৯ ঘণ্টা। ৬৬ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে রত্নাগিরি হয়ে যেতে হবে। মূল বৈভবওয়াড়ি থেকে নাপনে ৩-৪ কিমি দূরে। যাওয়ার সুবর্ণ সময় হল সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি। জলপ্রপাতের কাছে থাকার খুব একটা ব্যবস্থা নেই। আপনাকে বৈভবওয়াড়ি বা কঙ্কাবলিতে থাকতে হবে। তবে আর দেরি কেন, পুজোর আগেই গোছগাছ শুরু করে দিন। অনুভব করে আসুন কুমারী সৌন্দর্যের স্পর্শ।