আঁচল প্রকাশ্যেই দাবি করেছেন, এই হত্যার নেপথ্যে তাঁর নিজের পরিবার এবং এমনকি দু’জন পুলিশকর্মীর ভূমিকা রয়েছে (Anchal marries lover’s body)।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 1 December 2025 18:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছেলে ভিনজাতের, তাই প্রেমে রাজি ছিল না পরিবার। জাতপাতের গোঁড়ামিই প্রাণ কেড়েছে ২০ বছরের সক্ষম তাতের (Saksham Tate)। তারপরই ঘটে এমন এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য, যা নেটমাধ্যমে আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। নিহত সক্ষমের প্রেমিকা ২১ বছরের আঁচল মামিদওয়ার (Anchal Mamidwar) তাঁর মৃতদেহকেই বিয়ে করেন - ঠিক সেভাবেই, যেভাবে তাঁরা বেঁচে থাকলে সম্পর্কটা পরিণতি পেত (Anchal marries lover’s body)।
দু’জনের তিন বছরের সম্পর্ক, ভবিষ্যতের হাজার স্বপ্ন, সবই এক মুহূর্তে ভেঙে গেল বর্ণবিদ্বেষী এক হিংসার সামনে (inter-caste honour killing India)। আঁচল প্রকাশ্যেই দাবি করেছেন, এই হত্যার নেপথ্যে তাঁর নিজের পরিবার এবং এমনকি দু’জন পুলিশকর্মীর ভূমিকা রয়েছে।
সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আঁচল কেঁদে ফেলেন বারবার। বলেন, “আমার পরিবারই বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তিন বছর ধরে আমরা একসঙ্গে ছিলাম। আমার ভাইয়েরা বারবার বলেছিল, ওরাই আমাদের বিয়ে দেবে। শেষ মুহূর্তে প্রতারণা করল।”
আঁচল জানান, তাঁর সঙ্গে সক্ষমের পরিচয় ইনস্টাগ্রামে। তাঁর দাবি, পরিবারের সদস্যরা নাকি সক্ষমের সঙ্গে মেলামেশা করতেন, খেতেন, হাসি ঠাট্টা করতেন যাতে ছেলেটির মনে বিশ্বাস তৈরি হয়। আঁচলের কথায়, “ও ভাবত, সব ঠিক আছে। কখনও ভাবিনি এভাবে ওকে মেরে ফেলবে।”
“ও ‘জয় ভীমওয়ালা’”—জাত নিয়ে আপত্তি, ধর্মান্তরের চাপ
আঁচল অনগ্রসর সম্প্রদায়ের মেয়ে। পরিবারের অভিযোগ ছিল - সক্ষম ‘জয় ভীমওয়ালা’, অর্থাৎ দলিত সম্প্রদায়ের। আঁচল বলেন, “একদিন বাবা ওকে বলেছিল, বিয়ে করতে চাইলে হিন্দু ধর্ম নিতে হবে। সক্ষম রাজিও হয়েছিল। ও আমার জন্য সব করতে প্রস্তুত ছিল। কিন্তু তারপর হঠাৎ কী পাল্টাল, জানি না।”
দু’জন পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ
আঁচলের দাবি, দু’জন পুলিশকর্মী, ধীরজ কোমলওয়ার এবং মঈত আসারওয়ার, তাঁর ভাইদের উস্কেছেন। তিনি বলেন, “ওইদিন সকাল ১১টার দিকে ছোট ভাই আমাকে থানায় নিয়ে গিয়ে সক্ষমের বিরুদ্ধে ভুল অভিযোগ লিখতে বলেছিল। আমি রাজি হইনি। তখন পুলিশ বলে, ‘তোমরা তো মানুষ মারার পরও এখানে আসো। বোনের প্রেমিককে মারতে পারছ না?’ আমার ভাই উত্তরে বলে, ‘ঠিক আছে, সন্ধ্যার মধ্যে 'কাজ সেরে' ফিরছি।’”
আঁচল প্রশ্ন তুলেছেন, “পুলিশের এই ভূমিকার পর মানুষ কাকে বিশ্বাস করবে?” উল্লেখ্য, সক্ষমেরও নাকি একটি পুরনো অপরাধের মামলা ছিল।
হত্যার রাত: কী হয়েছিল সেদিন?
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সক্ষম তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে ছিলেন। সেই সময় আঁচলের ভাই হিমেশ মামিদওয়ার ঝগড়া শুরু করে।
অভিযোগ, হিমেশ প্রথমে সক্ষমকে গুলি করে, গুলি লাগে পাঁজরে। তারপর মাথায় টালি ভেঙে তাকে খুন করেন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সক্ষমের।
হিমেশ, তার ভাই সাহিল, বাবা গজানন মামিদওয়ারসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে খুন, অবৈধ জমায়েত, দাঙ্গা এবং তফসিলি জাতি-উপজাতি নির্যাতন আইনে মামলা রুজু হয়েছে।
শেষকৃত্যের জায়গায় ‘বিয়ে’
পরের দিন সক্ষমের শেষকৃত্য প্রস্তুতির মাঝেই আঁচল পৌঁছে যান তাঁর বাড়িতে, মালা হাতে। পরিবারের চোখের সামনে মৃতদেহের সঙ্গেই তিনি সম্পন্ন করেন প্রতীকী বিয়ে।
সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “আমরা তিন বছর ধরে প্রেম করতাম। কিন্তু আমার পরিবার জাতের কারণে মানেনি। বারবার খুনের হুমকি দিত। শেষে সত্যিই ওকে মেরে ফেলেছে। আমি বিচার চাই। ওদের ফাঁসি হোক।”
আঁচল আরও বলেন, “এখন ওর পরিবারের সঙ্গেই থাকব। ওরা আমাকে মেনে নিয়েছে।” অন্যদিকে আঁচলের পরিবার জানিয়েছে, “মেয়ের জন্য বাড়ির দরজা চিরদিনের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।”
তাঁর কথায়, “এটা স্পষ্ট বর্ণবিদ্বেষের খুন। আমার বাবা-ভাইরা বলত, ‘আমরা গ্যাংস্টার, সক্ষম জানে সেটা। কী করে সাহস হল আমাদের মেয়ের সঙ্গে কথা বলার!’”
আঁচলের একটাই আশা, “নিশ্চয়ই বিচার পাব। এত মানুষ পাশে আছে। আর কাউকে জাতের কারণে মরতে হবে না।”