তরুণীর পরিবার জানিয়েছে, বিয়ের পর থেকে চার মাস ধরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে একাধিকবার মধ্যস্থতার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু অভিযুক্তদের অত্যাচার বন্ধ হয়নি।

মহারাষ্ট্রের ওই তরুণী
শেষ আপডেট: 11 September 2025 19:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিয়ের মাত্র চার মাসের মাথায় আত্মঘাতী হলেন মহারাষ্ট্রের (Mahrarashtra) এক তরুণী। ঘটনাচক্রে জন্মদিনের পরের দিনই জীবন শেষ করে দেওয়ার এই চরম পদক্ষেপ নেন ২৩ বছরের ময়ূরী গৌরব থোসার। পরিবারের অভিযোগ, পণের দাবিতে (dowry harrassment) শ্বশুরবাড়ির লাগাতার নির্যাতন ও মানসিক-শারীরিক অত্যাচারের কারণেই তাঁর এই মর্মান্তিক পরিণতি। জলগাঁওয়ে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে ওই তরুণীর মৃত্যু।
ময়ূরীর বাবা-মা ও আত্মীয়রা জানিয়েছেন, বিয়ের পর থেকে চার মাস ধরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে একাধিকবার মধ্যস্থতার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু অভিযুক্তদের অত্যাচার বন্ধ হয়নি। তাঁরা আরও জানান, শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে অর্থের জন্য চাপ দেওয়া হতো, যা ময়ূরীর উপর ভয়াবহ মানসিক চাপ তৈরি করেছিল।
পরিবারের সদস্যরা এখন অভিযুক্ত শ্বশুরবাড়ির লোকজনের তাত্ক্ষণিক গ্রেফতার এবং কড়া আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের হেফাজতে না নেওয়া পর্যন্ত ময়ূরীর ময়নাতদন্তের অনুমতি দেবেন না।
এখনও পর্যন্ত কোনও এফআইআর দায়ের হয়নি বলে স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনার তদন্ত শুরু করবে এবং তারপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের নয়ডায়ও পণ নিয়ে নির্যাতনের এক নৃশংস ঘটনা দেশজুড়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছিল। ২৮ বছরের নিক্কি ভাটিকে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ। ওই ঘটনাটি বছরের পর বছর ধরে চলা গার্হস্থ্য হিংসা ও পণ দাবির চরম পরিণতি হিসেবে সামনে এসেছিল। নিক্কির সাত বছরের ছেলে এবং বোন (যিনি একই পরিবারে বিয়ে করেছিলেন) ওই ভয়ঙ্কর ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। পরে নিক্কি গুরুতর দগ্ধ হয়ে মারা যান।
ময়ূরী থোসারের মৃত্যু আবারও পণ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনে দিল। নারী অধিকার কর্মীরা বলছেন, প্রতিটি অভিযোগে দ্রুত তদন্ত এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি, যাতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা আর না ঘটে।