আদালত পর্যবেক্ষণে বলে, “প্রত্যেক বাবা-মা বিচারপতি লীলা শেঠের মতো নন, যিনি নিজের সমকামী ছেলের যৌন রুচিকে মেনে নিতে পেরেছিলেন।’

শেষ আপডেট: 5 June 2025 19:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সমকামী বিবাহকে সুপ্রিম কোর্ট এখনও স্বীকৃতি না দিলেও, নিজস্ব পরিবার গড়ে নেওয়ার অধিকার LGBTQIA+ দম্পতিদেরও রয়েছে, জানাল মাদ্রাজ হাইকোর্ট। আদালতের মতে, ‘পরিবার গড়ে নেওয়ার একমাত্র উপায় বিয়ে নয়। ‘Chosen Family’ বা মনের মতো মানুষ বেছে নিয়ে তার সঙ্গে তৈরি এক পরিবার- এই ধারণাটি এখন LGBTQIA+ বিচারব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠিত ও স্বীকৃত।’
এই ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণটি দিয়েছেন বিচারপতি জি. আর. স্বামীনাথন ও ভি. লক্ষ্মীনারায়ণনের ডিভিশন বেঞ্চ। ২৫ বছর বয়সি এক সমকামী তরুণীকে তাঁর পরিবারের জোর জবরদস্তি থেকে মুক্তি দিয়ে এই রায় দেন তাঁরা।
‘Queer’ শব্দ নিয়েও তীব্র আপত্তি জানায় মাদ্রাজ হাইকোর্ট। বিচারপতিরা আরও বলেন, ‘Queer’ শব্দটি অপমানজনক ও বিভ্রান্তিকর। তাঁদের বক্তব্য, ‘ডিকশনারি বলে 'queer' মানে অদ্ভুত বা অস্বাভাবিক, কিন্তু সমকামীতা তো অস্বাভাবিক নয়। সুতরাং, LGBTQIA+ মানুষদের কেন এমন তকমা দেওয়া হবে বা এই শব্দে পরিচিত হতে হবে?’
আদালত কড়া ভাষায় পুলিশের নিন্দা করে বলে, ‘এই ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ অত্যন্ত অসংবেদনশীল ও নিষ্ক্রিয় এক ভূমিকা পালন করেছে। তারা জোর করে তরুণীকে তাঁর অভিভাবকদের কাছে ফেরত পাঠাতে চেয়েছিল।
মাদ্রাজ হাইকোর্টের মতে, ‘LGBTQIA+ কমিউনিটির কাছ থেকে এমন কোনও অভিযোগ পেলে পুলিশ এবং সরকারপক্ষের উচিত দ্রুত, যথাযথ এবং সংবেদনশীল পদক্ষেপ নেওয়া।’
আদালতের তরফে তরুণীর পরিবারকে তাঁর ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। তরুণী ও তাঁর সঙ্গিনীকে সুরক্ষা দিতে স্থানীয় থানাকেও বাধ্যতামূলক নির্দেশ জারি করা হয়।
‘প্রত্যেক মা-বাবা লীলা শেঠ নন’- আদালতের স্পষ্ট বার্তা। আদালত পর্যবেক্ষণে বলে, “প্রত্যেক বাবা-মা বিচারপতি লীলা শেঠের মতো নন, যিনি নিজের সমকামী ছেলের যৌন রুচিকে মেনে নিতে পেরেছিলেন।’
প্রসঙ্গত, লীলা শেঠ হিমাচল প্রদেশ হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি। এই মামলার তরুণীর মা তো লীলা শেঠ নন। তাঁর আশা, মেয়ে যেন সাধারণ এক নারীর মতো বিয়ে করে সংসার পাতে। কিন্তু আদালতের কথা, মেয়েটি প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজের জীবন বেছে নেওয়ার অধিকার তার রয়েছে।