‘বানু: ভারত কি বেটি’ নামের বই থেকে এর কাহিনি গ্রহণ করা হয়েছে।

১৯৮৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়কে উল্লেখ করে উচ্চ আদালত বলে, সিনেমায় সামান্য ত্রুটি মেনেই নেওয়া যায়।
শেষ আপডেট: 6 November 2025 16:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইমরান হাশমি ও ইয়ামি গৌতম অভিনীত ‘হক’ ছবির মুক্তি রুখতে শাহ বানুর কন্যার আবেদন নাকচ করে দিল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। হাইকোর্ট বলেছে, সিনেমা হল বাস্তবের অনুকৃতি। অর্থাৎ কল্পিত কাহিনি। ‘বানু: ভারত কি বেটি’ নামের বই থেকে এর কাহিনি গ্রহণ করা হয়েছে। ১৯৮৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়কে উল্লেখ করে উচ্চ আদালত বলে, সিনেমায় সামান্য ত্রুটি মেনেই নেওয়া যায়।
আদালত বলেছে, এর মানে এই নয় যে, আবেদনকারিণীর মাকে মিথ্যাভাবে চরিত্রায়ন করা হয়েছে এবং সিনেমাটিও কখনই দাবি করেনি যে, এটি একটি সত্য ঘটনা কিংবা ব্যক্তি চরিত্রের উপর নির্ভর করে তৈরি হয়েছে। আদালত আরও উল্লেখ করেছে যে, এই ছবিতে কোথাও দাবি করা হয়নি যে, আহমেদ খান বনাম শাহ বানু বেগম মামলার (১৯৮৫) রায়ের উপর ভিত্তি করে চলচ্চিত্রায়ন করা হয়েছে। যদি এতে কোনও ব্যক্তির ব্যক্তিগত বর্ণনা থেকে থাকে, নাটকীয়তার খাতিরে সেটাও ভুল নয়।
প্রসঙ্গত, সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার কথা ৭ নভেম্বর। হাইকোর্ট বলেছে, ছবির প্রযোজকরা জানিয়েছেন, ছবিটি শাহ বানু এবং ১৯৮৫ সালের ঐতিহাসিক রায়ের অনুপ্রেরণায় নির্মিত হয়েছে। ছবি নির্মাণের জন্য যেসব তথ্য জোগাড় করা হয়েছে, তার কোনওটাই মানুষের অজানা নেই। দশকের পর দশক ধরে এনিয়ে চর্চা চলছে।
দেশের ইতিহাসে সাড়া জাগানো শাহ বানু মামলার প্রধান ‘চরিত্র’ প্রয়াত শাহ বানু বেগমের কন্যা, চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশনকে (CBFC) আইনি নোটিস পাঠিয়েছিলেন। শাহ বানুর মেয়ে অবিলম্বে ছবির মুক্তি বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট কর্তাদের। তাঁর অভিযোগ ছিল, পরিবারের সম্মতি ছাড়াই শাহ বানুর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ছবি তৈরি করেছেন নির্মাতারা। ছবির মুক্তি ছাড়াও প্রচারও বন্ধ রাখার নোটিস দিয়েছিলেন তিনি।
শাহ বানুর কন্যা সিদ্দিকা বেগমের তরফে আইনজীবী তোসিফ জেড ওয়ারসি চার ব্যক্তি ও সংস্থার বিরুদ্ধে নোটিস পাঠিয়েছেন। যেমন- হক সিনেমার পরিচালক সুপর্ণ বর্মা, জঙ্গলি পিকচার্স, বাওয়েজা স্টুডিওস এবং সিভিএফসিকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। নোটিসে সিদ্দিকার দাবি, স্পষ্ট বা অন্তর্নিহিত যেভাবেই হোক প্রয়াত শাহ বানু বেগমের ব্যক্তিগত ও একান্ত বৈবাহিক জীবন তুলে ধরা হয়েছে এই ছবিতে। যার মধ্যে একান্ত ঘনিষ্ঠ পারিবারিক ঘটনা, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সামাজিক পরিবেশ দেখানো হয়েছে, যার জন্য শাহ বানুর আইনি উত্তরাধিকারীদের কাছ থেকে কোনও অনুমতি সংগ্রহ করা হয়নি।
নোটিসে বলা আছে, সিদ্দিকা বেগম হলেন শাহ বানুর আইনি এবং গর্ভজাত কন্যা। তিনিই প্রয়াত শাহ বানুর একমাত্র বেঁচে থাকা আইনি উত্তরাধিকারী। সেই জন্য তাঁর কিংবা তাঁর পরিবারের কাছে থেকে অনুমতি না নিয়েই এই ছবিকে ধারণার বশবর্তী হয়ে তৈরি করা হয়েছে। এ পদক্ষেপকে নোটিসে ব্যক্তিগত জীবনের অস্বীকৃত, বিকৃতি ঘটিয়ে এবং বাণিজ্যিককরণের চেষ্টা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতীয় আইন অনুসারে যা মৌলিক ও বিধিবদ্ধ অধিকারের প্রতিকূল বলে মনে করছেন সিদ্দিকা বেগম।
নোটিসে হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলা হয়েছে, শাহ বানুর ভাবমূর্তি নিয়ে কোনও ধরনের নাটকীয়তা তাঁদের পছন্দ নয়। সে কারণে প্রয়াত শাহ বানুর চরিত্র নিয়ে কোনও ধরনের নৈতিকতা লঙ্ঘন কিংবা সামাজিক ধারণা প্রতিফলিত হলে তা তাঁদের গোটা পরিবারের প্রতি অসম্মানজনক বা মানহানিকর বলে গণ্য হবে।