মধুর বাবা ফতেহ বাহাদুর সিং পুলিশের কাছে জানান, বিয়ের পর অনুরাগ বারবার ফোন করে পণের টাকার জন্য চাপ দিতেন। এমনকি হোলির পর, অর্থাৎ বিয়ের এক মাসের মধ্যেই অনুরাগ প্রথমবার মধুকে মারধর করেন।

উদ্ধার তরুণীর ঝুলন্ত দেহ
শেষ আপডেট: 6 August 2025 15:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র পাঁচ মাস আগেই বিয়ে হয়েছিল লখনউয়ের মধু সিংয়ের (Lucknow Woman Death)। ৪ অগস্ট শ্বশুরবাড়িতে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। মৃতার স্বামী দাবি করেন, মধু আত্মহত্যা করেছেন। তবে তরুণীর পরিবার এই তথ্য মানতে নারাজ। মৃত্যু ঘিরে রহস্য বাড়তে থাকে। পুলিশ তদন্ত শুরু করলে উঠে আসে একের পর এক চাঞ্চল্যকর দিক। স্বামীর পরকীয়া (Husband's Affair), গর্ভপাত (Abortion), পণের দাবি- এমন নানা টানাপড়েনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে মধুকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পেশায় মেরিন অফিসার অনুরাগের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল মধুর। তাঁদের একটি ম্যাট্রিমোনিয়াল সাইটের মাধ্যমে পরিচয় হয়েছিল। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের সময় ছেলের বাড়ি ১৫ লক্ষ টাকা পণ দাবি করেন। তাঁদের পক্ষে ৫ লক্ষ টাকার বেশি দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হয়। হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে অনুরাগ সাফ জানিয়ে দেন যে, তিনি বরপক্ষে ১৫০ জন অতিথি আনবেন কিন্তু পণের পরিমাণ কমানো যাবে না।
মধুর বাবা ফতেহ বাহাদুর সিং পুলিশের কাছে জানান, বিয়ের পর অনুরাগ বারবার ফোন করে পণের টাকার জন্য চাপ দিতেন। এমনকি হোলির পর, অর্থাৎ বিয়ের এক মাসের মধ্যেই অনুরাগ প্রথমবার মধুকে মারধর করেন। মধু তখন বাপের বাড়ি ফিরে যান। পরে পণের টাকা পরিশোধ করা হলে অনুরাগ তাঁকে আবার নিয়ে যান, কিন্তু তারপরও অত্যাচার বন্ধ হয়নি।
মধুর বোনের দাবি, 'ছোটখাটো বিষয়ে নিয়েও মধুকে মারধর করত তাঁর স্বামী। প্লেট ঠিক জায়গায় না রাখলে, রান্না খারাপ হলে, এমনই আরও অনেক সামান্য কারণে।' আরও অভিযোগ, বিয়ের পর মধু তাঁর সব বন্ধুদের সঙ্গেই যোগাযোগ হারিয়ে ফেলেছিলেন। সবসময় ফোন ব্যবহার করতেও পারতেন না, শুধুমাত্র যখন অনুরাগ বাইরে থাকত তখনই ফোন ব্যবহার করতে পারতেন। ফোন, কল রেকর্ড, এমনকি অনলাইন অর্ডারও নিয়মিত চেক করতেন অনুরাগ।
শেষবারের কথোপকথনে মধু জানিয়েছিলেন, সম্প্রতি গাড়ি চালানোর সময় রাস্তার বাঁ দিকে রাখার কারণে তাকে মারধর করা হয়। অনুরাগের দাবি ছিল, মধু বাঁ দিকে গাড়ি চালাচ্ছিল কারণ রাস্তার পাশে কিছু পুরুষ দাঁড়িয়ে ছিল। একটি অডিও ক্লিপে মধুকে বলতে শোনা যায়, 'ও আমাকে খুব মারল কারণ আমি মদের বোতল ওর সামনে ঠিকভাবে রাখিনি।'
মৃতার বাবার আরও অভিযোগ করেছেন, অনুরাগের এক প্রাক্তন প্রেমিকার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। ৩১ জুলাই একটি হোটেলে সেই মহিলার সঙ্গে রাত কাটিয়েছিলেন তিনি। মধু গর্ভবতী হয়ে পড়লে, অনুরাগ জোর করে গর্ভপাত করান বলেও অভিযোগ।
পরিবারের দাবি , ৩১ জুলাইয়ের হোটেল বুকিংয়ের তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। ৩ অগস্ট, রবিবার, মধু তাঁর বোনকে জানায়, অনুরাগ তাঁর ফের মারধর করেছে। ঠিক তার পরদিন ৪ অগস্ট, বিকেল ৪টা ৩২ মিনিটে অনুরাগ ফোন করে বলে, মধু আত্মহত্যা করেছে। মধুর বাবার দাবি, তাঁর মেয়েকে খুন করা হয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, ওইদিন দুপুরের দিকে স্ত্রীর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পেয়ে ১১২ হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করেন অনুরাগ। তবে মধুর পরিবারকে খবর দেওয়া হয় বিকেল ৪.৩০ নাগাদ, অর্থাৎ প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পরে।
অভিযুক্ত অনুরাগকে গ্রেফতার করে জেরা করছে পুলিশ। প্রথমে তিনি আত্মহত্যার দাবি করলেও, কেন মধু এমন সিদ্ধান্ত নিলেন, সেই প্রশ্নের কোনও জবাব দিতে পারেননি। অনুরাগের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।